নুপা আলম, কক্সবাজার
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৪ ১৯:১৪ পিএম
সময়টা বর্ষাকাল হলেও বৃষ্টির দেখা নেই। তবে আকাশ মেঘলা। বাতাসে মেঘের আনাগোনা। মেঘের ভাঁজে ভাজে উঁকি দিয়েছে সূর্য। দেখা মিলেছে রোদের ঝলক। ক্ষণান্তরে আবহাওয়া একেক রূপ ধারণ করায় প্রকৃতির এই খেলা ছিল মঙ্গলবার দিনব্যাপী কক্সবাজারে। যে প্রকৃতির ভিন্নরূপের আভা ছড়িয়েছে ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে ভ্রমণে আসা পর্যটকের মনে।
পর্যটকরা দেখেছেন সাগরের পূর্ণ যৌবনের খেলা। উত্তাল সাগরের বড় বড় ঢেউ নিয়ে বর্ষা মৌসুমের শুরুতে যেন ভিন্নরূপের এক কক্সবাজার।
ঈদের দিন কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক পর্যটক সমাগম না হলেও পরদিন মঙ্গলবার বাড়তে শুরু করেছে পর্যটক। টানা ছুটিতে সামনের দিনগুলোতে প্রত্যাশা পূরণ হবে, বলছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা ও হয়রানি রোধে সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ট্যুরিস্ট পুলিশসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সমুদ্রসৈকতে ভ্রমণে এসেছেন পরিবার-পরিজন কিংবা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে। সবচেয়ে বেশি আনন্দ শিশুদের মুখে। সৈকতের বিশাল বালিয়াড়ি আর বিশাল সমুদ্র। সবখানে যেন আনন্দের বন্যা। কেউ জেড স্কিতে চড়ছেন আবার কেউ কেউ বালিয়াড়িতে ছবি তুলছেন কিংবা বালু নিয়ে খেলা করছেন। ভ্রমণপিপাসুরা বলছেন, ঈদ আনন্দ দ্বিগুণ করতেই কক্সবাজার ছুটে আসেন তারা।
ঢাকা থেকে আসা নিরুপমা নামের এক নারী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, মঙ্গলবার সকালে পরিবারের ৮ সদস্যকে সাথে নিয়ে কক্সবাজার এসেছেন। থাকবেন শুক্রবার পর্যন্ত। সাগর উত্তাল হলেও পরিবেশ-প্রকৃতি যেন কক্সবাজারকে বদলে দিয়েছে। এর আগে যতবারই এসেছেন তার চেয়ে আলাদা মনে হচ্ছে এবার।
সাগর উত্তাল হলেও সমুদ্রর লোনাজলে গা ভিজিয়ে নিতে ভোলেননি তারা। ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ মহিউদ্দিন বলেন, সাগরের সুনীল জলে গা জুড়িয়ে গেছে। ১০ বন্ধু মিলে সমুদ্রস্নানে মেতেছেন টানা ২ ঘণ্টা।
খুশি ব্যবসায়ীরাও।
হোটেল দি কক্স টুডের এজিএম আবু তালেব বলেন, কক্সবাজারের ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউজের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কক্ষ বুকিং রয়েছে। দেওয়া হয়েছে হোটেল কক্ষ ও খাবার রেস্তোরাঁসহ নানা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ ছাড়। 
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক মো. আপেল মাহমুদ জানান, ঈদের টানা ছুটিতে হাজারো পর্যটক সমাগম ঘটেছে সৈকতশহরে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও হয়রানি রোধসহ সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সমুদ্রসৈকত ছাড়াও হিমছড়ি, ইনানী, পাটুয়ারটেক, মেরিন ড্রাইভ সড়ক, শহরের বার্মিজ মার্কেট ও রামুর বৌদ্ধ বিহারসহ সব পর্যটন কেন্দ্র নিয়ে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে কক্সবাজার। সবখানে সমান নিরাপত্তা দিচ্ছে পুলিশ।