× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কমিটি বাতিল, নতুন কোন ছকে এগোচ্ছে বিএনপি

বাছির জামাল

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৪ ১৫:৩১ পিএম

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

হঠাৎ বিএনপির ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল মহানগর এবং অঙ্গসংগঠন যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করা নিয়ে দলের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। কেউ বলছেন, ঈদের আগে এভাবে চারটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি ভেঙে দেওয়ায় দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা বিস্মিত হয়েছেন। এমন একসময় এ ঘোষণা এলো যখন দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম নিয়ে এক ধরনের ব্যস্ততা চলমান। তবে কেউ কেউ কমিটি বিলুপ্তির ঘটনাকে স্বাভাবিকই মনে করছেন। তাদের মতে, এমনটা যে হবে তা তো জানাই ছিল, কেবল ঈদের আগে আগে ঘোষণা করা হলো। 

বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর দলে পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেয় শীর্ষ নেতৃত্ব। এ নিয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও আলোচনা হয়। তারই অংশ হিসেবে গত মার্চ মাসে ছাত্রদলের কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। নির্বাচনের আগে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ব্যর্থতা থেকেই ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আহ্বায়ক কমিটির ওপর বিরক্ত ছিল দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। অনেক আগেই এ দুটি কমিটি ভেঙে দেওয়ার কথা ছিল। তাছাড়া চট্টগ্রাম ও বরিশাল মহানগরের আহ্বায়ক কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় তা বিলুপ্ত করা হয়েছে। যুবদলের কমিটির ওপরও শীর্ষ নেতৃত্ব সন্তুষ্ট ছিল না। এই অসন্তুষ্টি থেকেই যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। সামনে আরও কিছু কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার সম্ভাবনার কথা জানা গেছে নির্ভরযোগ্য দলীয় সূত্রে।

এ ব্যাপারে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলে পুনর্গঠন কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এসব কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। দলকে শক্তিশালী করতে শিগগির এসব ইউনিটে নতুন কমিটি দেওয়া হবে। রিজভীর স্বাক্ষরে বৃহস্পতিবার রাতে দলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, চট্টগ্রাম ও বরিশাল মহানগর আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও আব্দুল মোনায়েম মুন্নার নেতৃত্বাধীন যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে। 

ঢাকা মহানগরের ‍দুই কমিটি নিয়ে বিরক্ত ছিল শীর্ষ নেতৃত্ব 

২০২১ সালের ২ আগস্ট দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালামকে আহ্বায়ক ও রফিকুল আলম মজনুকে সদস্য সচিব করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবং উপদেষ্টা কাউন্সিলের অপর সদস্য আমানউল্লাহ আমানকে আহ্বায়ক ও আমিনুল হককে সদস্য সচিব করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারবিরোধী আন্দোলন সামনে রেখে এ দুটি কমিটি গঠন করে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। লক্ষ্য ছিলÑ এই দুই কমিটির নেতৃত্বে রাজধানীতে একটি সফল আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। কিন্তু গত বছরের ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে মহাসমাবেশ ভেঙে দেওয়ার পরের আন্দোলনগুলোতে উভয় কমিটির শীর্ষ নেতাদের মাঠে পাওয়া যায়নি। দক্ষিণ কমিটির আহ্বায়ক আবদুস সালামকে মহাসমাবেশ-পরবর্তী কর্মসূচিতে পাওয়া যায়নি। এর আগে থেকে ২০২৩ সালের মে মাসে গ্রেপ্তার হন রফিকুল আলম মজনু। তার স্থলাভিষিক্ত তানভীর আহমদ রবিনকেও গ্রেপ্তার করা হয় ২০ আগস্ট। এরপর ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিবের দায়িত্ব পান আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদ।   

অন্যদিকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান জেলে চলে যাওয়ায় তার পরিবর্তে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। ঢাকা মহানগরের উত্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শাখায় ডোনারকে দায়িত্ব দেওয়া নিয়েও দলে নানা প্রশ্ন ছিল। কারণ হিসেবে নেতারা জানান, ডোনার ততটা রাজনীতি বোঝেন না, তিনি মূলত পেশাজীবী সংগঠনের নেতা। ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশ-পরবর্তী কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক। তিনিও ২ নভেম্বর গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেন। আমানউল্লাহ আমান চলতি বছরের মার্চে জামিনে মুক্তি পেলেও শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা না থাকায় পূর্বদায়িত্বে ফিরতে পারেননি। ডোনারও সক্রিয় থাকেননি। বিএনপির নেতারা জানান, এ অবস্থায় ঢাকা মহানগর উত্তরের কমিটি পুনর্গঠন জরুরি হয়ে পড়ে।

জানতে চাইলে যুবদলের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু গতকাল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, কমিটি ভেঙে দেওয়ার আগে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাদের সঙ্গে কথা বলেছে। দলের পুনর্গঠনের ব্যাপারে তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। 

কারা আসছেন নেতৃত্বে

ঢাকা মহানগরের দুই কমিটি ও যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করার পর এসব ইউনিটের নতুন কমিটিতে কারা আসছেন তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। বিএনপির দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, শিগগরি এসব ইউনিটের কমিটি দেওয়া হবে।  

বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা জানিয়েছেন, শিগগির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে, যেটা হবে তারুণ্যনির্ভর। দুই মহানগরেই সভাপতি পদে নতুন মুখ আসতে পারে।

জানা গেছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণে বিলুপ্ত কমিটির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুকে সভাপতি হিসেবে দেখা যেতে পারে। ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব তানভির আহমেদ রবিন সেক্রেটারি হতে পারেন। এর বাইরে শীর্ষ পদে দক্ষিণে বিএনপির সাবেক সহসভাপতি হামিদুর রহমান হামিদ, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং সদ্য বিদায়ি কমিটির সিনিয়র সদস্য ইশরাক হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে। 

মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি হিসেবে বিদায়ি কমিটির সদস্য সচিব আমিনুল হকের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। এ পদে যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরবের নামও শোনা যাচ্ছে। তবে জেলে থাকায় তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হবে কি না তা নিয়েও বাড়তি চিন্তা করতে হচ্ছে শীর্ষ নেতৃত্বকে। সাধারণ সম্পাদক পদে যুবদলের সাবেক সহসভাপতি এসএম জাহাঙ্গীরের নাম আলোচনায় রয়েছে। এর বাইরে বিদায়ি কমিটির সিনিয়র সদস্য তাবিথ আউয়ালের নামও শোনা যাচ্ছে। উত্তরের শীর্ষ পদে যুবদলের সদ্য বিদায়ি সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নাম শোনা গেলেও তাকে কেন্দ্রীয় বিএনপিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হতে পারে। তাকে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক করা হতে পারে। অবশ্য টুকু যুগ্ম মহাসচিব হতে আগ্রহী বলে তার ঘনিষ্ঠজনরা জানান।

জানা গেছে, ঈদের আগেই যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। সেখানে যুবদলের বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুনায়েম মুন্নাকে সভাপতি হিসেবে দেখা যেতে পারে। এছাড়া সভাপতি হিসেবে বিদায়ি কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি মামুন হাসানের নাম আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক হওয়ার দৌড়ে বিদায়ি কমিটির সহসভাপতি নুরুল ইসলাম নয়ন এগিয়ে রয়েছেন। এর বাইরে বিদায়ি কমিটির ইসহাক সরকার, গোলাম মওলা শাহীন, সাঈদ ইকবাল মাহমুদ টিটো, জিয়াউর রহমান জিয়া, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের নামও আলোচনায় রয়েছে।

চট্টগ্রাম ও বরিশাল মহানগর কমিটি

চট্টগ্রাম অফিস ও বরিশাল অফিস জানায়, ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর ডা. শাহাদাত হোসেনকে আহ্বায়ক ও আবুল হাশেম বক্করকে সদস্য সচিব করে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির ৩৯ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। আর মনিরুজ্জামান খান ফারুককে আহ্বায়ক ও জাহিদুল কবির জাহিদকে সদস্য সচিব করে বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয় ২০২২ সালের জানুয়ারিতে। তাদেরকে সংশ্লিষ্ট ইউনিট কমিটি গঠন করে তিন মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা দীর্ঘ সময়েও সম্মেলনের আয়োজন করতে পারেননি। এমনকি গত জাতীয় নির্বাচনের আগের আন্দোলনে তাদের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। যদিও নেতাদের কয়েকজন আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন।

তবে মেয়াদোত্তীর্ণ আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দেওয়ার ঘটনাকে একেবারেই স্বাভাবিকভাবে দেখছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা মনে করছেন আরও তিনটি কমিটির সঙ্গে সাধারণ সিদ্ধান্তে এই কমিটি বাতিল করা হয়েছে। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন কমিটির সভাপতি পদে চারজনের নাম ঘুরেফিরে আলোচনায় আসছে। তারা হলেনÑ বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান ও নগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিমুর রহমান, এএম সাইফুল আলম ও নগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহানগর বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির একজন সদস্য প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, দ্রুতই কমিটি অনুমোদন হবে। শুনেছি সভাপতি শাহাদাত ও বক্কর সাধারণ সম্পাদক হতে পারে। আবার বক্করকে সভাপতি, নাজিমুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করেও একটা ফরম্যাট নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

বরিশালে তিন মাসের জন্য করা কমিটি ৩২ মাস পার করেছে। তাই চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিলুপ্ত কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মীর জাহিদুল কবির জাহিদ।

প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর তিন সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আহ্বায়ক করা হয় মো. মনিরুজ্জামান ফারুক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আলী হায়দার বাবুল ও আমাকে সদস্য সচিব করা হয়। দলকে ঢেলে সাজাতেই এ কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিটি দেওয়া হবে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, বিষয়টি আমি মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি। এটা দলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ। রাজনৈতিক কারণে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। যত আহ্বায়ক কমিটি আছে, সব ভেঙে দিয়ে নতুন করে করা হবে। 

(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন চট্টগ্রাম অফিসের প্রতিবেদক আবু রায়হান তানিন ও বরিশাল অফিসের সাইদ মেমন)।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা