× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দুর্গম চরে নারীর জীবন

খালেদা হাবিব

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:০৮ পিএম

খালেদা হাবিব, প্রকল্প পরিচালক, মমতা প্রকল্প, সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ

খালেদা হাবিব, প্রকল্প পরিচালক, মমতা প্রকল্প, সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ

বাংলাদেশের প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপদ মাতৃত্ব, নবজাতকের পরিচর্যা এবং কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য নিশ্চিতে সংস্থাটি নিরলস কাজ করে চলেছে।

সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার পরিপূরক হিসেবে সংস্থাটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় এনজিও, কমিউনিটি ও স্বাস্থ্যসেবাদাতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া এলাকায় টেকসই স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে। প্রমাণভিত্তিক পরিকল্পনা, কমিউনিটি সম্পৃক্ততা এবং জলবায়ু সংবেদনশীল বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে সেভ দ্য চিলড্রেন আজ একটি বিশ্বাসযোগ্য নাম হিসেবে পরিচিত।

চরাঞ্চলে নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মমতা প্রকল্প

গাইবান্ধার দূরবর্তী চরাঞ্চলে বসবাসরত নারীরা প্রতিনিয়ত দারিদ্র্য, নদীভাঙন, যোগাযোগ-বিচ্ছিন্নতা ও জলবায়ু ঝুঁকির মুখোমুখি হন। এসব চ্যালেঞ্জের ফলে গর্ভকালীন সেবা, নিরাপদ প্রসব ও প্রসবোত্তর পরিচর্যা থেকে তারা প্রায়ই বঞ্চিত থাকেন। এই বাস্তবতায় সেভ দ্য চিলড্রেনের কারিগরি সহযোগিতা এবং গাইবান্ধার স্থানীয় সংস্থা এসকেএসের পরিচালনায় মমতা প্রকল্প নারীদের জন্য একটি আশার আলো হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুসারে (এসভিআরএস অ্যান্ড বিবিএস ২০২৪) প্রতি ১ লাখ জীবিত জন্মে ১৩৬ জন মায়ের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে প্রসব-পরবর্তী রক্তক্ষরণ, একলাম্পশিয়া (গর্ভাবস্থায় মায়ের খিঁচুনি), ইনফেকশন, বিলম্বিত ও বাধাগ্রস্ত প্রসব। এখনও বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জনে ৩৫ জন মা বাড়িতে শিশু জন্ম দেন, যেখানে রংপুর বিভাগে বাড়িতে প্রসবের হার ৫০। সেক্ষেত্রে চর এলাকায় (মমতা প্রকল্পের হিসাব অনুযায়ী) বাড়িতে প্রসবের হার প্রায় ৭০।

বংলাদেশে প্রান্তিক অঞ্চলের একজন গর্ভবতী নারী যখন বাড়িতে প্রসব করতে গিয়ে প্রসব-পরবর্তী রক্তক্ষরণের শিকার হন, অধিকাংশ মা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেন। প্রসব-পরবর্তী রক্তক্ষরণে মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করে তিনটি বিলম্ব : সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব, যানবাহন প্রস্তুতে বিলম্ব এবং সেবাকেন্দ্রে সেবা পেতে বিলম্ব। মমতা প্রকল্প সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাথে একীভূত হয়ে এই তিনটি বিলম্ব দূরকরত ২০২১ সাল থেকে গাইবান্ধার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন দুর্গম ইউনিয়নসমূহে কাজ করে যাচ্ছে। 

একটি মানবিক ‍উদ্যোগ ও পরিবর্তনের পথচলা

মমতা প্রকল্প চরাঞ্চলের নারীদের জন্য একটি কার্যকর ও মানবিক উদ্যোগ হিসেবে কাজ করছে। প্রকল্পটি সরকারের স্বাস্থ্যকর্মীদের এবং (প্রকল্পপ্রদত্ত) মিডওয়াইফদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দুর্গম অঞ্চলের ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেরামতকরণ এবং প্রয়োজনানুযায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে গর্ভবতী নারীদের নিয়মিত গর্ভকালীন সেবা (এএনসি), প্রসবোত্তর সেবা (পিএনসি), নিরাপদ স্বাভাবিক প্রসব (এনভিডি) এবং প্রয়োজনমাফিক রেফারেল সেবা নিশ্চিত করে যাচ্ছে। মমতা প্রকল্পটি শুরুর পর হতে এখন পর্যন্ত গত পাঁচ বছরে গাইবান্ধার প্রত্যন্ত অঞ্চলের গর্ভবতী নারীদেরকে ৮৯ হাজার ৮৭০টি এএনসি সেবা, ৩৩ হাজার ২৭৬টি পিএনসি সেবা ও ৮ হাজার ৩৩৬টি স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন করেছে। প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্যবার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, ফলে আগেভাগেই ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।

মমতা প্রকল্পের অন্যতম উদ্যোগ- দুর্গম চরাঞ্চলের মায়েদের উচ্চতর রেফারেল সেবা নিশ্চিত এবং বন্যার সময় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ‘মমতার তরী’ নামক বিশেষ নৌযানের ব্যবস্থা করা যা দিনে ও রাতে ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভবতী নারীসহ শিশুকে সেবা প্রদান করছে। মমতা প্রকল্পের মাধ্যমে দুর্গম চরে নারী ও তাদের পরিবারের মানুষদের স্বাভাবিক প্রসবের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে এবং পাশাপাশি ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদের জবাবদিহিতার জায়গাটিও ইতিবাচকভাবে প্রেরণা পেয়েছে। মমতার তরী ব্যবহার করে এখন পর্যন্ত গাইবান্ধার দুর্গম চরের ২০ জন গর্ভবতী মা ও নবজাতককে উন্নততর চিকিৎসার জন্য উচ্চতর চিকিৎসাকেন্দ্রে রেফার করা হয়েছে।

এ ছাড়া পরিবার ও সমাজে নারীর স্বাস্থ্য অধিকার, পুষ্টি ও জন্ম পরিকল্পনা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মমতা প্রকল্প কেবল সেবা প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি চরাঞ্চলের নারীদের আত্মবিশ্বাস ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখছে। দুর্গম চরে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই প্রকল্প সরকার ও এলাকাবাসীর নিকট একটি অনুকরণীয় মডেল হয়ে উঠেছে।

লেখক : প্রকল্প পরিচালক, মমতা প্রকল্প, সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা