সাক্ষাৎকার : সরওয়ার কামাল
আরফাতুন নাবিলা
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:০০ পিএম
সরওয়ার কামাল, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, স্কিনো
স্বাস্থ্যকর ও উজ্জ্বল ত্বক শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং এটি মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ড স্কিনো'র ম্যানেজিং ডিরেক্টর সরওয়ার কামাল স্বাস্থ্যকর ও উজ্জ্বল ত্বকের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেছেন প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আরফাতুন নাবিলা
প্রশ্ন : মানসিক চাপ যে নারীদের ত্বকের ওপর প্রভাব ফেলে সে বিষয়ে গবেষণা কী বলে?
উত্তর : মানসিক চাপের কারণে স্কিনে প্রভাব ফেলা এবং স্কিন সমস্যার কারণে মানসিক চাপে থাকাÑ এই দুই ধরনের সমস্যাই আমাদের দেশে অনেক। আমাদের রিচার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট টিম যখন মার্কেটে প্রোডাক্ট নিয়ে আসার চিন্তা করে তখন অনেক বিষয় নিয়ে গবেষণা করে। আমাদের দেশের আবহাওয়া, স্কিনটাইপ, চাহিদা ইত্যাদির পাশাপাশি স্কিন ড্যামেজ, এন্টি এইজিং, ব্রণ দূর করা ইত্যাদি নিয়ে স্কিনো কাজ করছে। স্কিনো ব্রণের জন্য ক্লিনজার, সেরাম, টোনারসহ বিভিন্ন রকমের পণ্য ইতোমধ্যে বাজারে এনেছে। আমাদের রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট টিমে সাইকোডার্মাটোলজি নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ হচ্ছে।
প্রশ্ন : পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য কী ধরনের ধাপ অনুসরণ করছেন?
উত্তর : স্কিনো মূলত ফর্মুলেশন হয় বাংলাদেশ এবং কোরিয়ার যৌথ উপায়ে। স্কিনোর দুটি টিম প্রোডাক্ট তৈরি করছে। কেমিস্ট এবং ফার্মাসিস্টের সমন্বয়ে গঠিত এই টিম ফরমুলেশন করার পর এটা নিয়ে আমরা কোরিয়ান টিমের সাথে কনসাল্ট করে ফাইনাল করি। এখানে উপাদান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমরা দুটি ব্যাপার খেয়াল রাখি। একটা হলো ত্বকের জন্য ভালো উপাদান এবং দ্বিতীয় হলো ভালো কোম্পানি বা উৎপাদনকারী থেকে নেওয়াÑ যাদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আছে এবং যথাযথ টেস্টিং মেথড অনুসরণ করে। পণ্য বাজারজাত করার আগে আমরা আমাদের নির্ধারিত কাস্টমারদের সাথে সব প্রোডাক্ট নিয়ে কয়েক পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি। তা ছাড়াও যেকোনো পণ্য আমাদের নিজস্ব ল্যাবে কয়েক ধাপে টেস্ট করা হয়। সরকারিভাবে নির্ধারিত বিএসটিআই টেস্টের পাশাপাশি বাংলাদেশে আরও কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও আমরা অনেকগুলো টেস্ট করিয়ে থাকি। এর বাইরে কোরিয়া ডার্মাটোলজি ইনস্টিটিউট থেকে আমরা ডার্মা টেস্টও করে থাকি।
প্রশ্ন : স্কিনোর পণ্যগুলো বাংলাদেশের আর্দ্র আবহাওয়ায় কতটুকু কার্যকর?
উত্তর : বাংলাদেশে আর্দ্র আবহাওয়ার জন্য ত্বকে তেলের পরিমাণ সাধারণত বেড়ে যায়। সেখান থেকে ব্রণ বা অন্যান্য সমস্যাও হতে পারে। এই কারণে আমরা কিছু উপাদান ব্যবহার করি যা স্কিনের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। তবে স্কিনটাইপ ভিন্ন হওয়ায় অনেক পণ্য আমরা শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে অনেক পণ্য ব্যবহার করতে নিষেধ করে থাকি। পণ্যের গায়ে এজন্য স্কিনটাইপ লেখা থাকে।
প্রশ্ন : বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ড থাকতে নতুন এই ব্র্যান্ডটি শুরুর অনুপ্রেরণা কেন এলো?
উত্তর : বাংলাদেশের গ্রাহকরা দেশি ব্র্যান্ড গ্রহণ করতে চায় না। দেশি কসমেটিক পণ্য ভালো নাÑ এমন একটি ধারণা প্রবল আকারে বিদ্যমান। আবার বিদেশি ব্র্যান্ড কেনার সামর্থ্য সবার থাকে না এবং বাজারে নকল পণ্যও প্রচুর আছে। গ্রাহকরা ভালো পণ্য চাইলেও সহজে পান না। আমরা দক্ষিণ কোরিয়াতে টোল ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন করে থাকি। যেগুলো এখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এক্সপোর্ট হচ্ছে। বাংলাদেশে অনেক বড় বাজার। আমরা যদি সেইফ এবং ভালো প্রোডাক্ট দিতে পারি, তাহলে মার্কেটও বড় হবে এবং গ্রাহকরাও ভালো পণ্য পাবে। এই চিন্তা থেকেই স্কিনোর যাত্রা।
প্রশ্ন : মানসিকভাবে ভালো থাকার বিষয়ে কতটুকু গুরুত্ব দিচ্ছেন?
উত্তর : এসব বিষয়ে আমরা অনেকগুলো ক্যাম্পেইন করেছি এবং এগুলো আমরা ক্রমাগত চালিয়ে যাব। স্কিন শরীরের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। স্কিন সতেজ থাকলে, স্কিনকেয়ার করলে মানুষের কনফিডেন্স বাড়ে। কিন্তু স্কিন কখনও একজন ব্যক্তিকে পরিমাপের মাপকাঠি হতে পারে না। বিশেষ করে স্কিনকালারের বিষয়টা। এসব বিষয়ে সচেতনতা অনেক বেশি দরকার। কর্মজীবী নারীরা প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকেন। স্কিনকেয়ার করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পান না। এজন্য এখন সারা পৃথিবীতে সিম্পল স্কিনকেয়ারের কনসেপ্ট নিয়ে সবাই কাজ করছে। একটা পণ্য দিয়ে যত কম সময়ে স্কিনকেয়ার করা যায়।