ডা. সাাজিয়া ফাতেমা জাফর
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:৫৪ পিএম
ডা. সাাজিয়া ফাতেমা জাফর, কনসালট্যান্ট, অবসটেট্রিক্স অ্যান্ড গাইনোকোলজি, প্রাভা হেলথ
জরায়ুমুখ ক্যানসার বা সার্ভিকাল ক্যানসার হলো মহিলাদের মধ্যে এক ধরনের গুরুতর ক্যানসার, যা জরায়ুমুখের কোষে শুরু হয়। এটি প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো লক্ষণ প্রকাশ করে না, তাই প্রাথমিক সময়ে শনাক্ত করা কঠিন। তবে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা এবং সচেতনতার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
কী কারণে হয় : জরায়ুমুখ ক্যানসারের মূল কারণ হলো হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) সংক্রমণ। এই ভাইরাস যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে সংক্রমণ থাকলে কোষে পরিবর্তন ঘটতে পারে এবং ক্যানসার তৈরি হতে পারে।
লক্ষণ বা উপসর্গ : প্রাথমিক অবস্থায় লক্ষণ না থাকলেও অগ্রগামী পর্যায়ে কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যেমনÑ যোনিপথ থেকে রক্তপাত, বিশেষ করে মাসিক সময়ের বাইরে, যোনি থেকে অস্বাভাবিক স্রাব, পেটে, কোমরে বা পায়ে ব্যথা, প্রস্রাব বা মলত্যাগে সমস্যা।
ঝুঁকি কাদের বেশি : নিচের বিষয়গুলো ঝুঁকি বাড়ায়- যৌনজীবন অল্পবয়সে শুরু করা বা একাধিক সঙ্গী থাকা, ধূমপান ও অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা, দীর্ঘদিন এইচপিভি সংক্রমণ থাকা, দুর্বল ইমিউন সিস্টেম।
ভ্যাকসিন এবং প্রতিরোধ : এইচপিভি ভ্যাকসিন হলো সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক উপায়। সাধারণত ৯ থেকে ২৬ বছর বয়সিদের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। এ ছাড়াও নিয়মিত প্যাপ স্মিয়ার পরীক্ষা বা এইচপিভি টেস্ট করানো জরুরি। নিরাপদ যৌনজীবন এবং ধূমপান ত্যাগ করাও ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
প্রতিকার এবং চিকিৎসা : প্রাথমিক পর্যায়ে জরায়ুমুখ ক্যানসারের চিকিৎসা সাধারণত সফল হয়। চিকিৎসার পদ্ধতি নির্ভর করে রোগের স্তর ও স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতির ওপর। প্রধান পদ্ধতিগুলো হলো- সার্জারি : ক্যানসারযুক্ত অংশ সরানো
কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশন : ক্যানসার কোষ ধ্বংস করা
লক্ষণ নিয়ন্ত্রণমূলক চিকিৎসা : ব্যথা ও অন্যান্য সমস্যা হ্রাস করা।
সচেতনতা ও নিয়মিত পরীক্ষা : সচেতনতা হলো রোগ প্রতিরোধের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। মহিলাদের উচিত নিয়মিত গাইনোকোলজিস্ট পরিদর্শন, মাসিক সময় বা বার্ষিক ভিত্তিতে প্যাপ স্মিয়ার পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ এড়ানো
জরায়ুমুখ ক্যানসার বর্তমানে মহিলাদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা। তবে প্রাথমিক শনাক্তকরণ, এইচপিভি ভ্যাকসিন, নিয়মিত পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা করা সম্ভব। মহিলাদের উচিত নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং পরিবারের অন্য নারীদেরকেও এ বিষয়ে শিক্ষিত করা। সময়মতো সতর্কতা এবং চিকিৎসা গ্রহণ করলে এই রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
লেখক : কনসালট্যান্ট, অবসটেট্রিক্স অ্যান্ড গাইনোকোলজি, প্রাভা হেলথ