× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বিল্ডিং কোডেই বড় ফাঁক

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১:৩০ এএম

বিল্ডিং কোডেই বড় ফাঁক

দফায় দফায় ভূমিকম্পে কেঁপে উঠছে রাজধানী ঢাকা। ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, বাড়ছে আশঙ্কাও। ঘনবসতিপূর্ণ এই শহরের অগণিত পুরনো ভবনের কোনো স্বাস্থ্যপরীক্ষা হয়নি কখনও। কাঠামোগত মূল্যায়ন ছাড়াই বছরের পর বছর চলছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন ব্যবহারের মতো বিপজ্জনক বাস্তবতা।

বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড খতিয়ে দেখা যায়, নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নকশা, কাঠামো, নিরাপত্তা মানসহ কোন ধাপ কীভাবে মানতে হবে, তার স্পষ্ট উল্লেখ আছে এতে। কিন্তু নির্মিত ভবনের নিরাপত্তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোডে নেই কোনো বাধ্যতামূলক সময়সীমা। বলা নেই- কবে, কতবার বা কীভাবে ভবনের স্ট্রাকচারাল অবস্থা পরীক্ষা করতে হবে। ফলে পুরনো ভবনের প্রকৃত ঝুঁকির মাত্রা অজানাই থেকে যাচ্ছে। আর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও সিটি করপোরেশনও ভবনের স্বাস্থ্যপরীক্ষার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি।

বিল্ডিং কোডে ভবনের পিরিয়ডিক ইন্সপেকশন, স্ট্রাকচারাল মূল্যায়ন, সিসমিক ঝুঁকি যাচাই ও র‌্যাপিড ভিজ্যুয়াল অ্যাসেসমেন্টের (আরভিএ) কথা বলা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এগুলো কোন ব্যবধানে করতে হবেÑ সেটা স্পষ্ট নয়। আর এই অস্পষ্টতার সুযোগেই বছরের পর বছর পরীক্ষা ছাড়াই টিকে আছে অসংখ্য জরাজীর্ণ ভবন।

রাজউক ও সিটি করপোরেশনের দায়িত্বেও রয়েছে বড় ধরনের শূন্যতা। কোনো সংস্থার অধীনে নেই বিশেষায়িত ভবন-অডিট শাখা, যেখানে থাকবে কোন ভবন নিরাপদ আর কোনটি ঝুঁকিপূর্ণ। তদারকির ব্যবস্থাও কার্যত অনুপস্থিত।

উন্নত দেশগুলোতে ভবনের স্ট্রাকচারাল স্বাস্থ্যপরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরে পাঁচ বছর অন্তর সব ভবনের ধারাবাহিক স্বাস্থ্যপরীক্ষা করতে হয়। ভবনের বয়স, কার্যকারিতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত অডিটের ব্যবস্থা রয়েছে সেসব দেশে। বাংলাদেশে এমন বাধ্যবাধকতা না থাকায় পুরনো ভবনের ঝুঁকি সম্পর্কে মালিক, বাসিন্দা কিংবা কর্তৃপক্ষÑ কেউই সঠিক ধারণা পায় না।

ঢাকা শহরে ভবন নিরাপত্তা যাচাইয়ের সবচেয়ে বড় গবেষণা হয়েছে বিশ্বব্যাংক অর্থায়িত আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্টে। ২০১৫ সালে শুরু হওয়া প্রকল্প শেষ হয় ২০২৪ সালের জুনে। প্রকল্পের আওতায় রাজউক ৩ হাজার ২৫২টি ভবনের আরভিএ সম্পন্ন করে। এরপর নির্বাচিত ৫৭৯টি ভবনের প্রিলিমিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট (পিইএ) সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তী ধাপে ২২৯টি ভবনের ডিটেইলড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট (ডিইএ) সম্পন্ন করা হয়। এর মধ্যে ৯৪টি স্কুল, ৭৮টি কলেজ, ১১টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চারটি হাসপাতালসহ ১৮৭টি ভবনের জন্য রেট্রোফিটিং সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া ৪২টি ভবন অপসারণের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রকল্পটির মাঠপর্যায়ের তথ্য বলে, রাজধানী বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে এবং বহু ভবন সেই ধাক্কা সামলানোর উপযোগী নয়।

জাতীয় বিল্ডিং কোড নিয়ে কাজ করা বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. রাকিব আহসান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘জাতীয় বিল্ডিং কোড মূলত নতুন ভবন নির্মাণের নির্দেশনার জন্য তৈরি। ইতোমধ্যে নির্মিত ভবনের জন্য কোনো বাধ্যতামূলক কাঠামোগত মূল্যায়ন বা স্বাস্থ্যপরীক্ষার ধারা কোডে নেই। নির্মিত ভবনের ক্ষেত্রে রাজউক থেকে শুধুমাত্র অকুপেন্সি সার্টিফিকেট নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সার্টিফিকেট প্রদানের সময় ভবনের মৌলিক অবস্থার ইন্সপেকশন করার কথা উল্লেখ আছে, কিন্তু এর বাইরে আর কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়ে বলা নেই।’ 

ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘ভবনের স্থায়িত্ব ও ভূমিকম্পে টিকে থাকার সক্ষমতা বিবেচনা না করেই শহরের অধিকাংশ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পুরনো ভবনগুলোর পরীক্ষা এখন জরুরি। বয়সভিত্তিক ভবনের ঝুঁকি শ্রেণিবিন্যাস এবং নির্ধারিত সময় পর ভবনের স্বাস্থ্যপরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।’

পুরান ঢাকা নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ইকবাল কবির বলেন, ‘ভবনের পরীক্ষার সঙ্গে অর্থের বিষয় জড়িত। ভবন মালিকদেরও নিজ উদ্যোগে এগিয়ে আসতে হবে। মালিক যদি স্বাস্থ্যপরীক্ষা না করান এবং কোনো দুর্ঘটনায় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাহলে তারও দায় রয়েছে। শুধু সরকারি সংস্থার দিকে আঙুল তুললে সমস্যার সমাধান হবে না।’

এ প্রসঙ্গে রাজউকের প্রধান পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ঢাকাসহ সারাদেশে বিদ্যমান নির্মিত ভবনগুলোর স্ট্রাকচারাল সেফটি ঠিক আছে কি না আমরা জানি না। তাই এক্সিসটিং ভবনগুলোর একটি ইনভেন্টরি তৈরি করা প্রয়োজন। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ‘আরবান সেফটি অ্যান্ড রিজিলিয়েন্স ইনস্টিটিউট’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই ইনস্টিটিউট কার্যকর হলে বিদ্যমান সব ভবনের কারিগরি দিক বিস্তারিত ইঞ্জিনিয়ারিং এসেসমেন্টের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে। তখন আমরা বলতে পারব কোন ভবন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ ও নিরাপদ।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা