প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৪:৪৬ পিএম
বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংক চালুর জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, যেখানে মূলধনের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। যদিও এর লক্ষ্য অনেক বড় ও সুদূরপ্রসারী। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ১২৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডিজিটাল ব্যাংক হবে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর। কোনো শারীরিক শাখা, উপশাখা বা প্লাস্টিক কার্ড থাকবে না। গ্রাহক ২৪ ঘণ্টা মোবাইল, অ্যাপ বা অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে সব ধরনের সেবা নিতে পারবেন। ভার্চুয়াল কার্ড, কিউআর কোডসহ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন হবে। উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তি বিষয়ে অভিজ্ঞতা থাকতে হবে এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ব্যাংকিং খাতে কমপক্ষে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৪ জুন নীতিমালা জারি করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিজিটাল ব্যাংক হবে সম্পূর্ণ অ্যাপ ও ইন্টারনেট-নির্ভর; সেবা পেতে গ্রাহককে কোনো শারীরিক অফিসে যেতে হবে না। বৈশ্বিক প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহজ করা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে ১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইন ও ২০১৪ সালের বাংলাদেশ পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেম রেগুলেশন প্রযোজ্য হবে।
লাইসেন্সের অপেক্ষায় ১২ প্রতিষ্ঠান
দেশি-বিদেশি মোট ১২ প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে। এর মধ্যে আছেÑ বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, বুস্ট-রবি, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক (বাংলালিংক ও স্কয়ার), ব্রিটিশ বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক, উপকারী ডিজিটাল ব্যাংক, আমার ডিজিটাল ব্যাংক, অ্যাপ ব্যাংক-ফার্মার্স, মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক-আকিজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন দেওয়া হবে।
মূলধন ও কাঠামো
ডিজিটাল ব্যাংকের ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন শুরুতেই বলা হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। নিজস্ব কোনো এজেন্ট বা নেটওয়ার্ক থাকবে না; এমএফএস বা তৃতীয় পক্ষের এজেন্ট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। ব্যাংকের সব কার্যক্রম পরিচালিত হবে প্রধান কার্যালয় ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে। কোনো শাখা, সাব-শাখা বা এটিএম থাকবে না। অ্যাপের মাধ্যমেই গ্রাহক অ্যাকাউন্ট খোলা, টাকা স্থানান্তর, বিল পরিশোধসহ সব সেবা পাবেন।
ঋণ ও সীমাবদ্ধতা
ডিজিটাল ব্যাংক বড় শিল্পে ঋণ দিতে পারবে না এবং এলসি খোলার সুযোগ থাকবে না। কেবল ক্ষুদ্রঋণ ও ব্যক্তিগত লোন দেওয়ার অনুমতি থাকবে। উদ্যোক্তার যোগ্যতা ব্যাংক বা এনবিএফআই উদ্যোক্তা হতে পারবে না। প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানের স্পন্সরের ন্যূনতম তিন বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।