মাহাবুবুর রহমান মিঠুন, ঈশ্বরদী (পাবনা)
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৩৮ পিএম
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২২:২০ পিএম
পাকশীর হরিজন পল্লীর বারোয়ারী দুর্গা মন্দিরে চলছে ব্যতিক্রমী প্রতিমা তৈরির কাজ। প্রবা ফটো
দেবী দুর্গা এবারে ২৫টি মাথা ও ৫০টি হাতে আসছেন পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নের রেলওয়ে হরিজন পল্লীর শ্রী শ্রী বারোয়ারী দুর্গা মন্দিরে। সঙ্গে থাকছে দুটি সিংহ, একটি অসুর ও একটি মহিষ। দেবীর রণংদেহী চামুণ্ডা প্রতিমা দেশে এবারই প্রথম। আয়োজকদের দাবি, দেবী দুর্গার এ রূপ আগে দেখেনি দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। তারা বলছেন, ২৫ মাথা ও ৫০ হাতের ১৬ ফুট উচ্চতার দেবী দুর্গার এ প্রতিমা ভক্তদের চমক দেবে। এর আগে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর লম্বোদরপুরে ২০২২ সালে এবং কলকাতার বরানগরে ২০২৪ সালে এমন প্রতিমা নির্মাণ হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। ঈশ্বরদীতে এবার ৩০টি পূজামণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
পাকশী রেলওয়ে হরিজন পল্লীর শ্রী শ্রী বারোয়ারী দুর্গা মন্দিরে সরেজমিন দেখা যায়, ২৫ মাথা ও ৫০ হাতের দেবী দুর্গার প্রতিমায় রঙ তুলির আঁচড় দিচ্ছেন প্রতিমা শিল্পীরা। দেবী দুর্গার সঙ্গে কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতীর প্রতিমাও রয়েছে। টানা ২৪ দিন কাজ করে প্রস্তুত হচ্ছে এবারের ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা।
প্রতিমা কারিগর উকিল কামার ও সঞ্জয় কামার বলেন, ‘দেবী দুর্গাকে রঙ তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলতে আরও দুদিন সময় লাগবে।’ তারা আরও বলেন, ২০ বছরের বেশি সময় ধরে এ পেশায়। কিন্তু কখনও দেবী দুর্গার প্রতিমা এ রূপে তৈরি করিনি। এবার ভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জন করলাম।’
পাকশী রেলওয়ে হরিজন পল্লীর শ্রী শ্রী বারোয়ারী দুর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী রাজু বাঁশফোর বলেন, ‘মন্দির কমিটির সভাপতি সাজু ম্যুারালি হেলা ইউটিউবে ভারতের তামিলনাড়ুর লম্বোদরপুর মন্দিরে ২৫ মাথা ও ৫০ হাতের দেবী দুর্গা প্রতিমার আরাধনা দেখে উৎসাহী হন এরূপ প্রতিমা তৈরিতে। দেবী আমাদের মনোবাসনা পূর্ণ করেছেন।’
মন্দির কমিটির সদস্য কৃষান বাঁশফোর বলেন, ‘ঈশ্বরদীর ৩০টি মন্দিরের মধ্যে আমাদের মন্দিরে দেবী আসছেন ভিন্ন রূপে।’ মন্দির কমিটির আরেক সদস্য রঞ্জন বাঁশফোর বলেন, ‘অন্যান্য মন্দিরের সঙ্গে আমাদের পূজার প্রতিমার ভিন্নতা রয়েছে। দেবী দুর্গা এখানে ভিন্ন রূপে আমাদের মাঝে আসছেন।’
মন্দির কমিটির উপদেষ্টা স্বপন ঠাকুর বলেন, ‘দেবীর আশীর্বাদে আমরা এ পূজার আয়োজন করছি। পাকশীসহ আশপাশের এলাকার ভক্ত ও দর্শনার্থীদের কাছে এবারের পূজার প্রধান আকর্ষণ হবে চামুণ্ডারূপে দেবী দুর্গা।’
মৃৎশিল্পী উকিল কামার বলেন, ‘১৮-২০ বছর ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ করছি। কিন্তু ১৬ ফুট উচ্চতার এমন দেবীমূর্তি আগে কখনও তৈরি করিনি। কাজটি আমার কাছে চ্যালেঞ্জিং ছিল। দেবীর ২৫ মাথা পরপর লাগাতে হয়েছে। পরে সেই অনুযায়ী হাতও সংযোজন করতে হয়েছে।’
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সভাপতি শ্রী সুনীল কুমার ঠাকুর বলেন, ‘শুনেছি পাকশী হরিজন পল্লীর মন্দিরে চামুণ্ডা প্রতিমা নির্মাণ করা হচ্ছে শুনেছি। তবে তারা আমাদের কিছু জানায়নি। এ ধরনের প্রতিমা তৈরিতে কোনো সমস্যা আছে বলে আমার জানা নেই।’