× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সংঘাত নয়, নিয়ান্ডারথালদের হারিয়ে যাওয়ার কারণ যৌনতা

মো. ইমরানুর রহমান

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২২ ১৬:২২ পিএম

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২২ ১৭:১৪ পিএম

লন্ডনে ন্যাচারাল হিস্টোরি মিউজিয়ামে নিয়ান্ডারথালের মাথার খুলি। ছবি : সংগৃহীত

লন্ডনে ন্যাচারাল হিস্টোরি মিউজিয়ামে নিয়ান্ডারথালের মাথার খুলি। ছবি : সংগৃহীত

হোমো স্যাপিয়েন্সের (জ্ঞানী মানুষ) বিবর্তনের যাত্রার শুরু ৩ লাখ বছর আগে। এই যাত্রায় হোমো প্রজাতি হিসেবে হোমো স্যাপিয়েন্স একা ছিল না। তাদের পাশাপাশি ছিল হোমো ইরেক্টাস, হোমো নিয়ান্ডারথালের মতো প্রজাতিও। বিবর্তনীয় দীর্ঘ যুদ্ধে ৪০ হাজার বছর আগে একমাত্র হোমো প্রজাতি হিসেবে পৃথিবীতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে হোমো স্যাপিয়েন্স।  

আধুনিক মানুষের বিবর্তনের প্রথম দিকে হোমো নিয়ান্ডারথালেনসিস (সাধারণত নিয়ান্ডারথাল নামে পরিচিত) নামে আরেক প্রজাতি মানুষের সঙ্গেই সহাবস্থান করছিল। কিন্তু তারা একসময় হারিয়ে যায়। তাদের এই হারিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে ভাবা হতো যুদ্ধ ও সহিংসতার কথা। অনেক গবেষকই দায় চাপিয়েছেন হোমো স্যাপিয়েন্সের ঘাড়ে। প্যালাএনথ্রোপলজি জার্নালে চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত নতুন এক গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। সেখানে বলা হয়েছে, নিয়ান্ডারথালদের বিলুপ্তির জন্য দায়ী হতে পারে যৌনতা। 

গবেষকরা নিয়ান্ডারথাল ও বর্তমান মানুষের জিনোমের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, দুই প্রজাতির মধ্যে প্রজনন নিয়ান্ডারথালদের চূড়ান্ত বিলুপ্তির দিকে পরিচালিত করতে পারে। 

২০১০ সালে নিয়ান্ডারথাল জিনোমের এক যুগান্তকারী গবেষণায় দেখা গেছে হোমো স্যাপিয়েন্সের সঙ্গে তাদের আন্তঃপ্রজননও হতো। প্রকৃতিতে যেমনটা হয়ে থাকে সিংহ ও বাঘের ক্ষেত্রে, কিংবা ঘোড়া ও গাধার ক্ষেত্রে। 

তবে দেখা গেছে দুটি প্রজাতির শংকরের ফলে জন্ম নেওয়া প্রাণীগুলো বংশবিস্তারে অক্ষম হয়ে থাকে। যেমন ঘোড়া ও গাধার আন্তঃপ্রজননে জন্ম হয় খচ্চরের, কিংবা সিংহ ও বাঘের প্রজননে জন্ম হয় লাইগা। লাইগা ও খচ্চর বংশবিস্তারে অক্ষম।

মানুষের মধ্যে নিয়ান্ডারথাল থেকে প্রাপ্ত মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএর অভাব রয়েছে। সাধারণত এই ডিএনএ মা থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে সন্তান পেয়ে থাকে। এই ডিএনএর অভাব প্রমাণ করে যে, শুধু পুরুষ নিয়ান্ডারথাল ও নারী হোমো স্যাপিয়েন্স সফলভাবে মিলিত হতে পারত।

গবেষকদের তত্ত্ব সঠিক হলে, পুরুষ নিয়ান্ডারথালদের অনেকেই নিজ প্রজাতিতে মিলনের পরিবর্তে আন্তঃপ্রজাতির মিলন বেছে নিয়েছে। 

এই একমুখী যৌনতাই নিয়ান্ডারথালদের বিলুপ্তির কারণ বলছেন গবেষকরা। অপেক্ষাকৃত কম নিয়ান্ডারথালরা একে অপরের সঙ্গে প্রজনন করতে পারত, কারণ এর পরিবর্তে তারা সম্ভবত আন্তঃপ্রজাতির মিলন বেছে নিয়েছিল। এটি নিয়ান্ডারথাল পরিবারে ইতোমধ্যে বিদ্যমান ছোট এবং বিক্ষিপ্ত গোষ্ঠীর জনসংখ্যাকে ধ্বংস করেছিল, অবশেষে তাদের বিলুপ্তির দিকে ঠেলে দিয়েছিল।

আধুনিক মানুষ ২ লাখ ৫০ হাজার বছর আগে পূর্ব এশিয়া ও উত্তর ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ার আগে আফ্রিকা মহাদেশ ছেড়ে যাওয়ার পরে নিয়ান্ডারথালদের সঙ্গে বংশবৃদ্ধি করেছিল ( এ সম্পর্কিত: নিয়ান্ডারথাল জিনোম সিকোয়েন্স করা বিজ্ঞানী সোয়ান্তে পাবোকে চিকিৎসায় নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।) 

যদিও ৪০ হাজার থেকে ৬০ হাজার বছর আগের নিয়ান্ডারথাল জিনোমে হোমো স্যাপিয়েন্সের জেনেটিক্সের কোনো প্রমাণ নেই। গবেষকদের মতে, নিয়ান্ডারথাল জিনোমের হোমো স্যাপিয়েন্সের ডিএনএর অভাব কম নমুনার কারণে। এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র ৩২টি নিয়ান্ডারথালের জিনোম সিকোয়েন্স করা হয়েছে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা