প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১২:৫৮ পিএম
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২২:১৬ পিএম
সবচেয়ে ভালোভাবে নিশিমুরাকে দেখতে হলে সূর্যোদয়ের আগে শুক্রের বাম দিকে উত্তর-পূর্ব আকাশে তাকাতে হবে। ছবি : সংগৃহীত
নিশিমুরা নামক ধূমকেতুটার সন্ধান পাওয়া গেছে মাত্র এক মাস আগে। এটি পৃথিবী থেকে খালি চোখেই দেখা যায়। কিন্তু এর জন্য অপেক্ষা করতে হয় ৪৩৭ বছর। তবে এই ধূমকেতু রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দেখা যাবে বলে পূর্বাভাস করেছেন বিজ্ঞানীরা।
পাথর ও বরফের গোলার মতো নিশিমুরা ধূমকেতুর সঠিক আকার এখনও অজানা। জাপানি অপেশাদার জ্যোতির্বিজ্ঞানী হিদেও নিশিমুরার নামে নামকরণ করা হয়েছে এই ধূমকেতুটির। ১১ আগস্ট তিনিই এটিকে প্রথম শনাক্ত করেন।
প্যারিস অবজারভেটরির অ্যাস্ট্রোফিজিসিস্ট নিকোলাস বিভার বলেন, ‘কোনো ধূমকেতু আবিষ্কৃত হওয়ার পরপরই সর্বোচ্চ দৃশ্যমানতার মুহূর্তে পৌঁছানোর ঘটনা খুবই বিরল। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি অতিক্রম করার কয়েক মাস বা কয়েক বছর আগে আবিষ্কৃত হয়।’
ধূমকেতুটি কক্ষপথ একবার প্রদক্ষিণ করতে প্রায় ৪৩৭ বছর সময় লাগে। এক্ষেত্রে এটির বেশিরভাগ সময়ই সৌরজগতের বাইরের হিমায়িত পরিবেশে থাকতে হয়। ফলে এর গায়ে বরফ জমে এটি একটি বরফের গোলায় পরিণত হয়।
পরে ধূমকেতুটি যখন মহাকাশের বিশালতা থেকে সূর্যের কাছে আসে তখনই সূর্যের তাপ এটির বরফ কোরকে ধুলো ও গ্যাসে পরিণত করে। এতে করে ধূমকেতুটির পেছনে একটি লম্বা লেজের মতো অংশ তৈরি হয়। এরপরই সূর্যের আলো এই লেজ থেকে প্রতিফলিত হয়। যার কারণে আমরা পৃথিবী থেকে ধূমকেতুটিকে দেখতে পাই।
নিশিমুরার বৈজ্ঞানিক নাম সি/২০২৩ পি১। ধূমকেতুটি ১৭ সেপ্টেম্বর সূর্যের সবচেয়ে কাছে যাবে। এটি সূর্য থেকে ৩৩ এম কিলোমিটার দূরে থাকবে, যা পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে দূরত্বের এক চতুর্থাংশেরও কম।
এর আগেই রবিবার এটিকে পৃথিবী থেকে খালি চোখে দেখা যাবে। তবে ১৩ সেপ্টেম্বর নিশিমুরা পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে আসবে বলে জানা গেছে। তখন এটি পৃথিবীর ১২৫ এম কিলোমিটার দূরত্বে থেকে কোনো ক্ষতি না করেই অতিক্রম করবে
বিভার বলেন, ‘সবচেয়ে ভালোভাবে নিশিমুরাকে দেখতে হলে সূর্যোদয়ের আগে শুক্রের বাম দিকে উত্তর-পূর্ব আকাশে তাকান। তবে এর জন্য আকাশ মেঘমুক্ত পরিষ্কার থাকতে হবে।’
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান