প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৩ ১৭:৩৫ পিএম
আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৩ ১৭:৪৫ পিএম
বিক্রম ল্যান্ডারের ক্যামেরায় চন্দ্রপৃষ্ঠ। ছবি : ইসরো
মহাকাশযানের প্রপালশন থেকে সফলভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর বিক্রম ল্যান্ডারের
তোলা চাঁদের প্রথম ছবি প্রকাশ করেছে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো।
ছবিটি নিজেদের এক্স অ্যাকাউন্টে বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) পোস্ট করেছে
ইসরো। বিক্রমের তোলা ছবিতে দেখা যাওয়া চাঁদের গর্তগুলোর মধ্যে জিওর্দানো ব্রুনো ক্রেটারও
দেখতে পাওয়া গেছে। এলআই ক্যামেরা-১ দিয়ে ধারণকৃত এই ক্রেটারটি (গর্ত) ৪৩ কিলোমিটার
ব্যাসের। ল্যান্ডারটি মডিউল থেকে আলাদা হওয়ার পর ছবিগুলো তোলা হয়।
সবকিছু ঠিক থাকলে বিক্রম ল্যান্ডারটি ২৩ আগস্ট চাঁদের দক্ষিণ মেরু
অঞ্চলে অবতরণের চেষ্টা করবে। ল্যান্ডারটি যদি ঠিকমতো চাঁদের বুকে অবতরণ করতে পারে, পরে
ধীরে ধীরে প্রজ্ঞান নামের রোভার ল্যান্ডার থেকে বেরিয়ে আসবে। রোভারটি চাঁদের পৃষ্ঠের
গঠন ও ভূতত্ত্বের তথ্য সংগ্রহ করবে। ভবিষ্যতে যা বিস্তৃত গবেষণার পথ প্রশস্ত করবে।
এ সময় প্রপালশন মডিউলটি চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করতে থাকবে।
আর ইসরো যদি মিশনটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারে, তবে ভারত হবে চাঁদে
রোভারকে সফলভাবে অবতরণ করানো যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের পর পৃথিবীর চতুর্থ দেশ।
পুরো চন্দ্রযান-৩ মিশনে ভারতের ব্যয় হয়েছে ৬১৫ কোটি ভারতীয় রুপি।
তবে ভারতের চাঁদে রোভার পাঠানোর এটিই প্রথম প্রচেষ্টা নয়। এর আগে দেশটির সবচেয়ে আলোড়ন
সৃষ্টিকারী মিশন ছিল চন্দ্রযান-২।
সে মিশনটি সফল উৎক্ষেপণ ও চাঁদের নিকট কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করতে সক্ষম
হলেও সে সময় ল্যান্ডারটি সঠিকভাবে অবতরণ করতে ব্যর্থ হয়। ফলে চাঁদের মাটিতেই মিশনে
পাঠানো রোভার বিধ্বস্ত হয়। এই তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্যে এটিও ভারতের জন্য একটি সফলতাই।
কারণ এর মাধ্যমে চাঁদে প্রথম কোনো বস্তু পাঠাতে সক্ষম হয়েছিল দেশটি।
গত ব্যর্থতার ইতিহাস ভুলে ইসরোর কর্মকর্তারা এবারের চন্দ্রযান-৩ মিশন
নিয়ে খুবই আশাবাদী। তারা আশা করছেন, এবারের অভিযানে সফলভাবে রোবোটিক রোভার চাঁদের বুকে
নামাতে সক্ষম হবেন তারা। এবার মিশনের ঝুঁকি কমাতে ও চন্দ্রযান-৩ কঠোর পরীক্ষা-নিরীক্ষার
মধ্যে দিয়ে গেছে। পূর্বের ব্যর্থতা থেকে লব্ধ জ্ঞানকে এবারের মিশনে ব্যবহার করা হয়েছে।
ইসরোর চন্দ্রযান-৩ মিশনের তিনটি প্রাথমিক রূপরেখা রয়েছে। চাঁদে রোভারকে
নিরাপদে অবতরণ করার সক্ষমতা অর্জন করা, চন্দ্রপৃষ্ঠে রোভারের সক্ষমতা পরীক্ষা করে দেখা
এবং চাঁদের গঠন বোঝার জন্য চন্দ্রপৃষ্ঠের রাসায়নিক ও প্রাকৃতিক উপাদান নিয়ে গবেষণা
করা- একই সঙ্গে পানির অনুসন্ধান করা।