প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৩ ১৮:৫১ পিএম
আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৩ ১৯:২৬ পিএম
নতুন ওষুধ মিশ্রণটি ২০২৪ সালেই মানুষের দেহে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হবে। ছবি : সংগৃহীত
বার্ধক্যে প্রবেশ করেছে শরীর। চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে আসছে, স্মৃতিশক্তি লোপ পাচ্ছে। চামড়ায় পড়েছে বয়সের ভাঁজ। হঠাৎ পেলেন এক ওষুধের খোঁজ, খেতে শুরু করলেন আর ত্বক তারুণ্যের মতো উজ্জ্বল হতে শুরু করল। দূরের সাইনবোর্ডের লেখাগুলো পড়তেও লাগছে না চশমা, রাখতে পারছেন ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশ। কেমন হতো? এমন অসম্ভব গল্পই বাস্তবে ফুটিয়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিতে শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা।
হার্ভার্ডের বিজ্ঞানীরা ওষুধের এক মিশ্রণ আবিষ্কার করেছেন; যা বড়ি (ট্যাবলেট) হিসেবে খেলে মানুষের বয়স কমতে শুরু করবে। এ-সংক্রান্ত গবেষণাপত্রটি ‘কেমিক্যালি ইনডিউসড রিপ্রোগ্রামিং টু রিভার্স সেলুলার এজিং’ শিরোনামে ১২ জুলাই ‘এজিং জার্নাল’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
এ মিশ্রণ তৈরিতে অজানা কোনো ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি, বর্তমানে বিভিন্ন চিকিৎসায় এরই মধ্যে এগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে।
নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষণা দলটি ছয় ধরনের রাসায়নিক মিশ্রণ তৈরি করেছে; যা মানুষ ও ইঁদুর উভয়ের ত্বকে বার্ধক্যের বিপরীত প্রতিক্রিয়া করতে সক্ষম। এটি নিয়ে বেশ কয়েক বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন তারা। বিশেষ করে ইঁদুরের ক্ষেত্রে তারা আশাব্যঞ্জক ফল পেয়েছেন।
এর সঙ্গে যুক্ত হার্ভার্ডের গবেষক ডেভিড সিনক্লেয়ার এক টুইটবার্তায় বলেন, ‘ইঁদুরের ক্ষেত্রে অপটিক স্নায়ু, মস্তিষ্কের টিস্যু, কিডনি ও পেশির ওপর ওষুধ মিশ্রণের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি ও আয়ু বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তা আশাব্যঞ্জক ফল দিয়েছে।’
গবেষণা দলটি জানিয়েছে, তাদের এই নতুন ওষুধের মানবদেহে পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি চলছে। সিনক্লেয়ার জানিয়েছেন, পরের (২০২৪) বছরের শেষ দিকে এর (মানবদেহে পরীক্ষার) কার্যক্রম শুরু হবে। এখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক চলছে।
যদিও এ ধরনের পরীক্ষার জন্য এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। হার্ভার্ডের গবেষক দলটি এই অনুমোদন পেয়েছে কি না, তা জানাননি সিনক্লেয়ার।
তবে বার্ধক্য রোধ করা বা বার্ধক্য থেকে তারুণ্যে প্রবেশ করার
প্রচেষ্টাসংক্রান্ত গবেষণা নতুন কিছু নয়। এর আগেও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে প্রাথমিক
সফলতা দাবি করেছে।
২০২১ সালে মিনোসোটা ইউনিভার্সিটির গবেষক দলও জানিয়েছিলেন,
তারা এমন এক টিকা তৈরি করেছেন, যা বার্ধক্যকে প্রতিরোধ করতে পারে। ইঁদুরের দেহে তারা
এই পরীক্ষামূলক টিকার মাধ্যমে বার্ধক্যের জন্য দায়ী কোষ (সেনসেন্ট) নির্মূল করতে সমর্থ
হয়েছিলেন।
সূত্র : এনডিটিভি