প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৩ ১৬:৪৫ পিএম
আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৩ ১৮:৫৯ পিএম
নীরবতাও কোলাহলের মতো করে মানুষের মস্তিষ্কে ধরা দেয়। প্রতীকী ছবি
কোলাহল বা শব্দ বিশেষ প্রক্রিয়ায় মানুষের মস্তিষ্কে ধরা দেয়, এটা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। কিন্তু নীরবতা বা নৈঃশব্দ্য মানুষের মস্তিষ্কে ধরা দেয় কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিস্তর বিতর্ক রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, শব্দের মতো করে প্রায় একই প্রক্রিয়ায় নৈঃশব্দ্যও মানুষের মস্তিষ্কে ধরা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক সম্প্রতি এ দাবি করেছেন। তাদের গবেষণা ফল বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী প্রোসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সে ১০ জুলাই প্রকাশিত হয়েছে।
নিজেদের গবেষণায় দুটি মডেল ব্যবহার করেছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকেরা। একটি মডেলে অংশগ্রহণকরীদের একটি শব্দরোধী রুমে বিশেষভাবে দুটি টোন বা স্বর শুনানো হয়।
প্রথমে একটি স্বর নিরবচ্ছিন্নভাবে শুনানো হয়। এরপর একই দৈর্ঘ্যের আরেকটি স্বর শুনানো হয় মাঝে একটি বিরতি দিয়ে। দুটি স্বর শুনানোর পর অংশগ্রহণকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, কোন স্বরটি তাদের কাছে দীর্ঘ মনে হয়েছে। অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী একটানা স্বরটিকে দীর্ঘ মনে হয়েছে বলে উত্তর দেন।
এরপর ঠিক উল্টো জিনিস গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের শুনানো হয়। অর্থাৎ প্রথমে একটি কাল্পনিক নীরবতা শুনতে চেষ্টা করতে বলা হয় অংশগ্রহণকারীদের। এরপর একই দৈর্ঘ্যের আরেকটি কাল্পনিক নীরবতা মাঝে বিরতি দিয়ে তাদের শুনতে বলা হয়। শেষে জিজ্ঞেস করা হয়, তাদের কাছে কোন নীরবতা দীর্ঘ মনে হয়েছে। যথারীতি অধিকাংশের উত্তর অখণ্ড কাল্পনিক নীরবতা তাদের কাছে দীর্ঘ মনে হয়েছে।
গবেষকেরা এই মডেলের নাম দিয়েছেন ‘ওয়ান-সাউন্ড-ইজ-মোর’। দ্বিতীয় মডেলটির নাম ‘ওডবল ইলুশন’। এখানে শব্দ ও নৈঃশব্দ্যের সঙ্গে ছিল দৃশ্য ও অদৃশ্যের খেলা। এই পরীক্ষা থেকেও শব্দ ও নৈঃশব্দ্য মানুষের কাছে একইভাবে ধরার পড়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাটির নেতৃত্ব দেন মনোবিজ্ঞানী চ্যাজ ফায়ারস্টোন এবং দার্শনিক ইয়ান ফিলিপস। ফায়ারস্টোন বলেন, ’আমাদের এই গবেষণা থেকে এটা প্রমাণিত হয় যে মানুষের মস্তিষ্ক শব্দের মতো নৈঃশব্দ্যকেই একইভাবে ধারণ করে। এটা নতুন গবেষণার দরজা খুলে দেবে।’
সূত্র : সায়েন্স