প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৩ ১৬:৪২ পিএম
আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৩ ১৭:১৬ পিএম
স্মার্টওয়াচগুলো অংশগ্রহণকারীদের গড় গতি গণনা করে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি সেই ডেটা একদল পারকিনসনস ডিজিজ আক্রান্ত রোগীর ডেটার সঙ্গে তুলনা করে গবেষকদের সামনে উপস্থাপন করে। ছবি : সংগৃহীত
শুধু স্মার্টওয়াচকে কাজে লাগিয়ে মূল লক্ষণ দেখা দেওয়ার সাত বছর আগেই
পারকিনসন রোগ শনাক্ত করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। ন্যাচার মেডিসিন জার্নালে নতুন
প্রকাশিত এক গবেষণায় এমনটাই বলা হয়েছে।
আর পারকিনসন চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি বড় ভূমিকা পালন করতে
পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ এ রোগের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত লক্ষণ দেখা দিতে গিয়ে
চিকিৎসার জন্য অনেক দেরি হয়ে যায়।
কার্ডিফ ইউনিভার্সিটির নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড মেন্টাল হেলথ ইননোভেশন
ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ড. ক্যাথারিন পিলের মতে, পারকিনসন রোগ নির্ণয় খুবই
কঠিন। এটি যখন শনাক্ত হয়, তখন দেখা যায় মস্তিষ্কের আক্রান্ত স্থানের কোষগুলো এরই মধ্যে
মরে গেছে। ফলে এই প্রতিশ্রুতিশীল নতুন প্রযুক্তি রোগীদের বড় ক্ষতি হওয়ার আগেই সতর্ক
করতে পারবে এবং এর আলোকে চিকিৎসা কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য পর্যাপ্ত সময়ও হাতে থাকবে।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবীদের গতিবিধি স্মার্টওয়াচের মাধ্যমে
ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে মাত্র সাত দিন বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকরা
এবং ভবিষ্যদ্বানী করেছেন, কারা পারকিনসন রোগে আক্রান্ত হতে যাচ্ছেন। পরবর্তীতে দেখা
গেছে, গবেষকদের অনুমান সঠিক হয়েছে।
এ-সংক্রান্ত গবেষণা নিয়ে গবেষণাপত্রটির সহলেখক কার্ডিফ ইউনিভার্সিটির
ইউকে ডিমেনশিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক ডা. সিনথিয়া সান্ডর বলেন, ‘এ ফলাফলের মাধ্যমে আমরা পারকিনসনসের প্রাথমিক শনাক্তকরণে সহায়তার জন্য মূল্যবান স্ক্রিনিং টুল
তৈরি করতে পারি।’
স্মার্টওয়াচগুলো অংশগ্রহণকারীদের গড় গতি গণনা করে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
প্রযুক্তি সেই ডেটা একদল পারকিনসন ডিজিজ আক্রান্ত রোগীর ডেটার সঙ্গে তুলনা করে গবেষকদের
সামনে উপস্থাপন করে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে গবেষক দলই।
পারকিনসন হলো বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল স্নায়ুবিক রোগ। এ রোগের ফলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মূল লক্ষণগুলো শারীরিক ও মানসিক উভয় ধরনের হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে অনিচ্ছাকৃত কাঁপুনি, ধীর গতিবিধি, ভারসাম্য রাখতে সমস্যা হওয়া, ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়া, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া ও অনিদ্রাজনিত সমস্যা।
এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট ইউকে