প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৩ ১৭:৩৩ পিএম
আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৩ ১৯:২১ পিএম
চীনা বিজ্ঞানী হে জিয়ানকুই। ছবি : টুইটার
সাধারণত
বয়স্কদের মধ্যে আলঝেইমার (স্মৃতিভ্রংশ) রোগের প্রবণতা বেশি। এতে মানুষের স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যায়,
ফলে যেকোনো জটিল কাজও কঠিন হয়ে পড়ে। কেমন হতো যদি ভবিষ্যৎ মানুষ বৃদ্ধ হলেও তাদের
স্মৃতিশক্তি থাকত তরুণদের মতোই শক্তিশালী। এমনি এক সম্ভাবনার কথা টুইটারে পোস্ট করা এক গবেষণা প্রস্তাবে বলেছেন চীনের বিজ্ঞানী হে জিয়ানকুই। জিন এডিটিংয়ের মাধ্যমে এটি
সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
জিয়ানকুইয়ের
নতুন গবেষণা প্রস্তাবের সংক্ষিপ্ত নথিতে বলা হয়েছে, তার নতুন গবেষণায় যুক্ত থাকবে জিন
সম্পাদনা করা ইঁদুরের ভ্রূণ ও জাইগোট– মানব নিষিক্ত ডিমকোষ। নতুন এই মিউটেশন সত্যিই আলঝেইমার
রোগ থেকে সুরক্ষা দেবে কি না, তা পরীক্ষা করার জন্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এ
গবেষণায় জিন এডিটিংয়ের মাধ্যমে সৃষ্ট এমব্রায়ো কোনো নারীদেহের ওভারিতে স্থাপন করা
হবে না এবং গবেষণার জন্য কোনো মানব ভ্রুণও ব্যবহৃত হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
জিন সম্পাদনাসংক্রান্ত প্রচলিত আইনের যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, তার জন্যই এই পদক্ষেপ।
জিয়ানকুই
সিএনএনকে বলেছেন, এ গবেষণার বিষয়ে তিনি এখন বিজ্ঞানী ও জৈব-নীতিবিদদের (বায়োএথিসিস্ট)
কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি পরে আলঝেইমার রোগের প্রস্তাবের একটি সংশোধন
করব। সরকারি অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত কোনো পরীক্ষায় যাব না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের
জৈব-নীতিবিদদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক নীতিশাস্ত্র কমিটির অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত এসব
করব না।’
সিঙ্গাপুরের
নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক পিটার দ্রোগ চীনা এই বিজ্ঞানীর
কার্যক্রমকে পাগলামি হিসেবেই দেখছেন। তিনি বলেন, ‘নৈতিকতা বিবেচনার পাশাপাশি একটি জটিল রোগকে মোকাবিলা
করতে ভ্রূণের জিন সম্পাদনা মানুষকে তাদের জীবনের শেষ দিকে প্রভাবিত করে। আর আলঝেইমারের
স্পষ্ট ও একক কোনো জেনেটিক কারণ নেই। এটি অত্যন্ত সন্দেহজনক।’
পিটার
দ্রোগ আরও বলেন, ‘তিনি (জিয়ানকুই) মূলত জিনগতভাবে
মানব প্রজাতিকে পরিবর্তন করতে চান। যেন মানুষ আলঝেইমারে না আক্রান্ত হন। আমি সত্যিই
অবাক হয়েছি, তিনি আবার এ বিষয় নিয়ে সামনের দিকে এগোচ্ছেন।’
ব্রিটেনের
কেন্ট ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর গ্লোবাল সায়েন্স অ্যান্ড এপিস্টেমিক জাস্টিসের প্রতিষ্ঠাতা
পরিচালক জয় ঝাং বলেছেন, প্রস্তাবটি প্রমাণিত গবেষণা এজেন্ডার চেয়ে একটি প্রচারমুখী স্টান্ট
বলে মনে হচ্ছে। তবে আমাদের এসব দাবিকে সতর্কতার সঙ্গে নেওয়া দরকার। যাতে এগুলো রোগী
ও তাদের পরিবারকে বিপথগামী করতে না পারে। এ ছাড়া শুধু চীনের বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নয়,
এসব বিষয় বিশ্বব্যাপী গবেষণা প্রচেষ্টায় প্রভাব ফেলতে পারে।’
তবে এ ধরনের গবেষণা হে জিয়ানকুইয়ের জন্য নতুন কিছু নয়। এর আগে ২০১৮ সালেও প্রথম জিন সম্পাদিত শিশুর জন্ম দেওয়ার ঘটনায় যুক্ত ছিলেন তিনি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে সে সময় বলা হয়েছিল, এক এইচআইভি আক্রান্ত দম্পতির ঘরে তিনি জিন এডিটিংয়ের মাধ্যমে শিশুর জন্ম দিয়েছিলেন, যার পিতা-মাতা এইচআইভি পজিটিভ হলেও সে এইচআইভি আক্রান্ত নয়। এমনকি ভবিষ্যতেও তার এইচআইভি আক্রান্তের শঙ্কা নেই।