প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৩ ১১:৪৩ এএম
আপডেট : ২৫ জুন ২০২৩ ১২:০৭ পিএম
৪ মহাকাশচারীকে মিশনে যাওয়ার আগে ১৮ মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ নিতে হবে। ছবি : সংগৃহীত
অ্যাপোলো মিশনের পর আবারও চাঁদে ফিরতে চায় যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ
গবেষণা সংস্থা নাসা। এরই মধ্যে ক্রুবিহীন আর্টেমিস-১ মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে সংস্থাটি।
এবার পালা আর্টেমিস-২-এর। যেখানে ২০২৪ সালে ৪ জন মহাকাশচারীর চাঁদে যাওয়ার কথা রয়েছে।
এবার নাসা ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, ৪ মহাকাশচারীর
১৮ মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। এ প্রশিক্ষণে তারা ওরিয়ন মহাকাশযান ও স্পেস লঞ্চ
সিস্টেম (এসএলএস) রকেটের বিস্তারিত পাঠ গ্রহণ করবেন, যা তাদের চাঁদে নিয়ে যাবে। তারা
সিস্টেমগুলো পরিচালনা ও পর্যবেক্ষণ করতেও শিখবে। এ ছাড়া কক্ষপথে অবস্থান থেকে শুরু
করে মিশনের যেকোনো পর্যায়ে জরুরি পরিস্থিতিতে কিভাবে সাড়া দিতে হবে, তাও শিখবে।
এর আগে চলতি বছরের মার্চে টেক্সাসের হিউস্টোনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে
রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা হ্যামক কোচ ও জেরমি হ্যানসেনকে ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের
ক্রু হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
জনসন স্পেস সেন্টারের ডিরেক্টর ভ্যানেসা উইচ এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘৫০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো এই ব্যক্তিরা চাঁদের আশপাশে উড়ে যাওয়া প্রথম মানুষ হতে যাচ্ছেন। এ মিশনটি মানুষের গভীর মহাকাশ অনুসন্ধানের পথ প্রশস্ত করবে এবং বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, বাণিজ্যিক ও একাডেমিক অংশীদারির জন্য মহাকাশে নতুন সুযোগ উপস্থাপন করবে।’

এ ছাড়া ভ্যানেসা এই চার নভোচারীকে মানবজাতির সেরা হিসেবে আখ্যায়িত
করেছিলেন।
আর্টেমিস-২-এর উৎক্ষেপণের বছর হিসেবে ২০২৪-কে বেছে নেওয়া হয়েছে। বহুজাতিক
আর্টেমিস মিশনের উদ্দেশ্য চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি হলেও, আর্টেমিস-২-তে গমন করা
এই চার নভোচারী চাঁদের বুকে পা রাখবেন না।
এ মিশনে যোগ দেওয়াদের মধ্যে একমাত্র নারী নভোচারী ক্রিস্টিনা হ্যামক
কোচ, যিনি মহাকাশ অভিযাত্রায় এর আগেও বেশ কয়েকবার খবরের শিরোনাম হয়েছেন। এর আগে একজন
নারীর দ্বারা পরিচালিত একক স্পেস ফ্লাইটের রেকর্ড করেছিলেন তিনি। এ ছাড়া প্রথম নারী
হিসেবে মহাকাশে হাঁটার (স্পেসওয়াক) অভিজ্ঞতাও তার রয়েছে।
আর্টেমিস-২ মিশনে যোগ দিতে যাচ্ছেন চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি জমাতে যাওয়া
প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি ভিক্টর গ্লোভার। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের সাবেক ফেলো।
২০২১-এ স্পেসএক্সের ক্রু-১ মিশনে তিনি যুক্ত ছিলেন।
রিড ওয়াইজম্যান হতে যাচ্ছেন আর্টেমিস-২ মিশনের কমান্ডার। যার রয়েছে
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) দীর্ঘদিন ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা।
টানা ১৬৫ দিন তিনি আইএসএসে কাটিয়েছেন। ১৩ ঘণ্টা স্পেস ওয়াকিংয়ের অভিজ্ঞতা তার রয়েছে।
এ ছাড়া মিশন স্পেশালিস্ট হিসেবে যাচ্ছেন কানাডার নাগরিক জেরেমি হ্যানসন। সাবেক এই কর্নেল ছিলেন কানাডীয় বিমানবাহিনীর একজন পাইলট। চাঁদের উদ্দেশে গমন করা প্রথম কোনো কানাডীয় হতে যাচ্ছেন তিনি।

২০২৫ সালের মধ্যে চাঁদে ফিরতে চায় নাসা। এবার সেখানে ঘুরে আসতে নয়,
স্থায়ীভাবে থাকতে চায় তারা। তার লক্ষ্যেই গত বছর ‘আর্টেমিস-১’ মনুষ্যবিহীন
মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করে নাসা।
২০২৪ সালে আর্টেমিস-২ মিশনও যদি সফল হয় তাহলে ২০২৫-এ আর্টেমিস-৩-এ
প্রথমবারের মতো এ মিশনে চাঁদের বুকে পা রাখবেন একজন নারী নভোচারী। এর আগে অ্যাপোলো
মিশনগুলোয় কোনো নারীকে পাঠানো হয়নি।
আগের চন্দ্রাভিযানের নামকরণ হয়েছিল গ্রিক চন্দ্রদেবতা অ্যাপোলোর নামানুসারে।
এবার যেহেতু চাঁদে প্রথম নারীর পদচিহ্ন পড়তে যাচ্ছে, তাই অ্যাপোলোরই
যমজ বোন আর্টেমিসের নামে এ মিশনের নামকরণ করা হয়েছে।
১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ দিয়ে শুরু হওয়া পরবর্তী পাঁচটি মিশনে মোট ১০
জন নভোচারী চাঁদের বুকে হেঁটেছেন।