প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৩ ২০:০১ পিএম
আপডেট : ১৬ মে ২০২৩ ২৩:২২ পিএম
সাইবেরিয়ান হাস্কি জাতের কুকুর। ছবি : সংগৃহীত
আদিম যুগের কোনো এক পর্যায়ে হিংস্র নেকড়ে মানুষের গৃহপালিত পশু হিসেবে
আবির্ভূত হয়। যাকে আমরা কুকুর হিসেবে চিনি। একদম বন্য শিকারি যুগ থেকেই মানুষের সঙ্গে
কুকুরের পথ চলা। এই দীর্ঘ সময়ের পথ চলাই সরাসরি কুকুরের জিনগত কাঠামোতেই পরিবর্তন আনেনি,
সাম্প্রতিক সময়ে তাদের মস্তিষ্কেও সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
বিজ্ঞান জার্নাল ইভল্যুশনে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
প্রাচীন কুকুরের তুলনায় ১৫০ বছর ধরে বেড়ে ওঠা কুকুরের মস্তিষ্ক তুলনামূলক বড়। বিশেষ
করে আধুনিক প্রজনন প্রচেষ্টার কারণে বেড়ে ওঠা জাতগুলো তুলনামূলক বড় মাথার খুলি ধারণ
করছে। কিন্তু কেন এমনটি হচ্ছে, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না গবেষকরা।
এর আগে অসংখ্য গবেষণায় দেখা গেছে যে শূকর, ভেড়া, খরগোশ ও বিড়ালের
মতো বন্যপ্রাণীদের গৃহপালিত করার পর থেকে তাদের মস্তিষ্কের আকার নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এটি বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ব্যবহার কমে যাওয়ার প্রতিক্রিয়া
ছাড়া আর কিছু নয়।
অথচ একই ঘটনা কুকুরের ক্ষেত্রে সম্প্রতি ঘটেছে উল্টো।
কিছু কিছু নেকড়েসহ ১৫৯ জাতের কুকুরের মাথার খুলি বিশ্লেষণ করে অপ্রত্যাশিত
ফলাফল পেয়েছেন গবেষকেরা।
তারা বলছেন, কুকুর এসেছেই বন্য নেকড়ে থেকে। কুকুরের আকৃতির একটি নেকড়ের
মস্তিষ্ক সাধারণত সেই কুকুরের তুলনায় ২৪ শতাংশ বড় হয়। হাজার হাজার বছর আগে কুকুর গৃহপালিত
হওয়ার ফলে এর মস্তিষ্কের কিছু অংশ প্রাথমিকভাবে সংকুচিত হয়ে থাকতে পারে।
কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে, নেকড়ের জিনগত বৈশিষ্ট্য একটি কুকুর থেকে
যত আলাদা হয় তত তার মস্তিষ্ক বড় হয়। আধুনিক সময়ে মানুষের সঙ্গে থাকতে থাকতে বিভিন্ন
কাজে অংশগ্রহণ কুকুরের জ্ঞানীয় বৃদ্ধির সূত্রপাত করেছে। এ কারণে মস্তিষ্ক বড় হয়ে থাকতে
পারে।
সুইডেনের স্টকহোম ইউনিভার্সিটির বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী নিকলাস কোলম
বলেন, ‘বিভিন্ন কুকুরের
জাতগুলো সামাজিক জটিলতার ভিন্ন ভিন্ন স্তরে বাস করে এবং জটিল অনেক কাজ সম্পাদন করে।
যার জন্য সম্ভবত একটি বড় মস্তিষ্কের প্রয়োজন হয়।’
এ ছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, নেকড়ের সঙ্গে বেশি জিনগত মিল থাকা কুকুরগুলো
মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ভালো নয়।
তাই গবেষকরা বলছেন, মানুষের সঙ্গে সহাবস্থানের ফলে এর বুদ্ধিবৃত্তিক
প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কুকুরের মধ্যে। যা এর বিবর্তন ত্বরান্বিত করছে। এই বিষয়গুলো আরও
ভালোভাবে বুঝতে বৈশ্বিক অঞ্চলভিত্তিক গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
সূত্র : সায়েন্স অ্যালার্ট