প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৩ ১২:২৭ পিএম
ভিবরিও ভালনিফিকাসের আণুবিক্ষণিক চিত্র। ছবি : সিডিসি
একটি বিরল মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে
ছড়িয়ে পড়ছে এবং বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের মহাসাগর
ও হ্রদগুলোকে উত্তপ্ত করতে থাকলে এটি শেষ পর্যন্ত কানাডাতেও ছড়িয়ে যেতে পারে।
ভিবরিও ভালনিফিকাস নামের এই ব্যাকটেরিয়াটি সাধারণত ফ্লোরিডা ও টেক্সাসের
মতো রাজ্যে যেখানে লবণের পরিমাণ কম থাকে এবং পানি অপেক্ষাকৃত গরম, সেসব অঞ্চলেই পাওয়া
যায়। কিন্তু গত ২৩ মার্চ সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে বলা
হয়েছে, গত কয়েক দশকে নিউ জার্সি ও ডেলওয়্যারের কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলেও
এই ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ ছাড়া ব্যাকটেরিয়াটির প্রকোপের বিস্তার প্রতিবছর ৪৮ কিলোমিটার করে উত্তরদিকে
অগ্রসর হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ৭০ বছর পরে কানাডাতেও ভিবরিও ভালনিফিকাসের উপদ্রব দেখা
দেবে। এমনকি সামনের ২০ বছরে মানুষের মধ্যে এর সংক্রমণের হার দ্বিগুণ হতে পারে।
ব্যাকটেরিয়াটি কতটা মারাত্মক হতে পারে, এ সম্পর্কে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা
বলেছেন সায়েন্টেফিক রিপোর্টসে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সহলেখক এলিজাবেথ আর্চার। তিনি
বলেন, ‘ভিবরিও ভালনিকাসকে ভিবরিও প্যাথোজেনের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক বলে বিবেচনা করা
হয়। আপনার কেবল ত্বকে একটি ছোট খোঁচা বা পোকামাকড়ের কামড় প্রয়োজন। এমনকি সমুদ্রের পানিতে
ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে এসে যে কেউ সংক্রমিত হতে পারেন।’
তিনি আরও বলেন, এরপর মাংস খাওয়া ব্যাকটেরিয়া নামে পরিচিত এটি দ্রুত শরীরে
ছড়িয়ে পড়তে নেক্রোটাইজিং ফ্যাসাইটিস রোগ তৈরি করতে পারে। রক্তপ্রবাহে ছড়িয়ে পড়া রোধ
করতে অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসার দরকার হতে পারে, এমন কি অপারেশনের মাধ্যমে টিস্যু অপসারণের
দরকারও হতে পারে।
নেক্রোটাইজিং ফ্যাসাইটিসের ক্ষেত্রে প্রথমে তকের নিচে থাকা নরম টিস্যুতে
পচন শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে সংলগ্ন পেশিতেও এটি ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত রোগীকে বাঁচাতে
অনেক সময় পচে যাওয়া অঙ্গ দ্রুত কেটে বাদ দিতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ সংস্থা সিডিসি জানিয়েছে, এই ব্যাকটেরিয়ায়
আক্রান্ত প্রতি পাঁচজনের একজন মারা যায়। অনেক সময় এক বা দুই দিনের অসুস্থতাতেই রোগী
মারা যায়। তবে বয়স্ক ও যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়ায়
সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।
সূত্র : গ্লোবাল নিউজ কানাডা