প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৩ ১১:৫১ এএম
আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৩ ১৩:৩০ পিএম
ক্যারিনা নেবুলায় জন্ম হচ্ছে নক্ষত্রের। ছবি : হাবল টেলিস্কোপ
ছায়াপথের সবচেয়ে শক্তিশালী আলোর একটি বিশ্লেষণে সম্প্রতি দেখা গেছে,
আমাদের গ্যালাক্সি মিল্কিওয়ে যে পরিমাণ নক্ষত্র উৎপাদন করে বলে বিশেষজ্ঞরা ভাবতেন, প্রকৃত
সংখ্যা এর থেকে অনেক বেশি হতে পারে।
নতুন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নক্ষত্রের গঠনের সময় আইসোটপের তেজস্ক্রিয়
ক্ষয় দ্বারা উৎপাদিত গামা রশ্মি দেখাচ্ছে যে প্রতিবছর সূর্যের ভরের ৪ থেকে ৮ গুণ হারে
নতুন নক্ষত্রের উপাদান তৈরি হচ্ছে। পরিমাণে এটি খুব বেশি না-ও মনে হতে পারে কিন্তু এর
আগে গবেষকদের করা অনুমানের থেকে পরিমাণটি ২ থেকে ৪ গুণ বেশি। অর্থাৎ আমাদের বাসস্থান
যেই গ্যালাক্সিতে, বিজ্ঞানীরা তাকে যতটা শান্ত ভেবেছিলেন, এখন দেখা যাচ্ছে ততটা শান্ত নয়।
নতুন এ পর্যবেক্ষণ আমাদের গ্যালাক্সি ও এর চারপাশের বিবর্তন সম্পর্কে
আমাদের বোঝার ধারণা পালটে দেবে। নক্ষত্রের জন্মহার ও মৃত্যুহারের সংখ্যার পরিবর্তন,
গ্যালাক্সির সামগ্রিক রাসায়নিক গঠনের ধারণা পরিবর্তন করতে যথেষ্ট। ফলে পুরো গ্যালাক্সি
নিয়ে গবেষকদের নতুন করে ভাবতে হবে।
জার্মানির ওয়ারজবার্গ ইউনিভার্সিটির জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী টমাস
সিগার্টের নেতৃত্বে চালানো এ অনুসন্ধান কর্নেল ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানসংক্রান্ত
গবেষণাপত্রে প্রকাশনার জন্য গৃহীত হয়েছে।
সাম্প্রতিক কিছু পর্যবেক্ষণ পুরো মহাবিশ্ব সম্পর্কে মানুষের চেনা
ধারণা বদলে দিচ্ছে। এর আগে বিজ্ঞানীরা এতদিন পর্যবেক্ষণে দেখেছেন সময়ের একেবারে
প্রান্তে, অর্থাৎ বিগ ব্যাং সংঘটিত হওয়ার ৫০ থেকে ৭০ কোটি বছরের যেসব গ্যালাক্সির
চিত্র আমরা পাই, তাতে দেখা যায় সেই শিশু গ্যালাক্সিগুলো মোটেও সুগঠিত নয়।
এবার জেমস ওয়েব টেলিস্কোপে এমন ছয়টি গ্যালাক্সির চিত্র ধরা পড়েছে,
যা বিগ ব্যাংয়ের ৫০ থেকে ৭০ কোটি বছরের মধ্যের। অথচ বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে বিশাল
এ গ্যালাক্সিগুলোকে সুগঠিতই মনে হচ্ছে। কিন্তু মহাজাগতিক মডেল অনুসারে, সময়ের এমন
একটি অবস্থায় আপেক্ষিক পরিপক্বতায় বেড়ে ওঠার জন্য গ্যালাক্সিগুলোর পর্যাপ্ত সময় পাওয়ার
কথা নয়।
ফলে এ পুরো ঘটনাটিতে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারছেন, মহাবিশ্বের বিবর্তন সম্পর্কে আমাদের বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় মিস করেছি।
এ-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দানকারী অস্ট্রেলিয়ার সুইনবার্ন ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইভো লাব্বে বলেছেন, ‘বিগ ব্যাংয়ের প্রথম দিকের আমরা এ বিশাল আকারের ছায়াপথগুলো কখনও দেখিনি। আমাদের খুঁজে পাওয়া ছয়টি ছায়াপথ ১ হাজার ২০০ কোটি বছরের বেশি পুরোনো, বিগ ব্যাংয়ের ৫০ থেকে ৭০ কোটি বছর পরই এর ভর আমাদের সূর্যের ভরের ১০ হাজার কোটি গুণে পৌঁছেছিল।
এটি আমাদের বর্তমান মহাকাশ মডেলের বিবেচনায় আকারে অনেক বড়। ফলে এ আবিষ্কার আমাদের মহাবিশ্বের প্রাচীনতম ছায়াপথগুলো কীভাবে গঠিত হয়েছিল, সে সম্পর্কে
আমাদের বোঝার পরিবর্তন করতে পারে।’
পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্বিজ্ঞানী জোয়েল লেজা বলেছেন, ‘আমরা প্রথমবারের মতো মহাবিশ্বের প্রথম দিকে তাকিয়েছিলাম এবং আমরা কী খুঁজতে যাচ্ছি তা আমাদের ধারণায় ছিল না। এটি দেখা যাচ্ছে যে, আমরা এমন কিছু অপ্রত্যাশিত বিষয় খুঁজে পেয়েছি যা আসলে বিজ্ঞানের জন্য সমস্যা তৈরি করেছে। এটি প্রাথমিক গ্যালাক্সি গঠনের পুরো চিত্রটিকে প্রশ্নে পরিণত করে।’
সূত্র : কর্নেল ইউনিভার্সিটি/সায়েন্স অ্যালার্ট