প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৬:৫৯ পিএম
আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৮:০৬ পিএম
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির আর্টিস্টিক উপস্থাপনা। ছবি : সুইনবার্ন ইউনিভার্সিটি
এই মহাবিশ্বের যেন শেষ নেই। সর্বাধুনিক প্রযুক্তির টেলিস্কোপও এর
কুলকীনারা করতে পারে না। এরপরেও জোতির্বিদদের চেষ্টা থেমে নেই। এবার আমাদের গ্যলাক্সির
মিরর গ্যালাক্সির খোঁজ পেয়েছেন তারা।
পৃথিবী যে সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, তার অবস্থান মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে।
এবার গবেষকরা বলছেন, জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ কাজে লাগিয়ে তারা পৃথিবী থেকে ৯০০ কোটি আলোকবর্ষ
দূরে নতুন এই গ্যালাক্সির একটি সন্ধান পেয়েছেন। এই গ্যালাক্সিটি গঠন পুরোপুরি আমাদের
বাসস্থান গ্যালাক্সির মতোই।
বিজ্ঞানীরা এই মিরর গ্যালাক্সির নাম রেখেছেন ‘স্পার্কলার’। আর এই নামকরণের
কারণ হলো, চারদিকে প্রদক্ষিণরত উজ্জ্বল ও চকচকে ২৪টির মতো গ্লাবুলার ক্লাস্টার দিয়ে
পরিবেষ্টিত এটি। আবার এই প্রত্যেক ক্লাস্টারে আমাদের সূর্যের মতো কমপক্ষে ১০ লাখ নক্ষত্র
রয়েছে। আর আমাদের গ্যালাক্সিতেও নক্ষত্রগুলোর অবস্থান এমন ক্লাস্টারের মধ্যেই। গবেষকদের
মতে, বর্তমানে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে এমন ক্লাস্টার রয়েছে প্রায় ২০০টি। ক্লাস্টারের
এতো ব্যবধানের পরেও আমাদের গ্যালাক্সি ও মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি এক কিভাবে হতে পারে তা
একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। গবেষকরাই এই উত্তর দিয়েছেন।
জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ স্পার্কলারের দৃশ্য ধারণ করেছে এমন পর্যায়ে,
যখন মহাবিশ্বের বয়স মাত্র ৪০০ কোটি বছর। অর্থ্যাৎ এর বর্তমান বয়সের মাত্র ৩ ভাগের ১
ভাগ। গবেষকরা বলছেন, স্পার্কলার যদি একই হারে বাড়তে থাকে, তবে বর্তমানে এটি দেখতে আমাদের
ছায়াপথের মতোই হওয়ার কথা। উল্টোভাবে বলা যায়, আমাদের গ্যালাক্সি আজ থেকে ৯০০ কোটি বছর
আগে যে পর্যায়ে ছিল, স্পার্কলার ইমেজ এখন সেই পর্যায়ে রয়েছে।
তাই এই মিরর ছায়াপথের আবিষ্কার জ্যোতির্বিদদের এক নতুন অন্তর্দৃষ্টি
প্রদান করবে যে কীভাবে মিল্কিওয়ে বিকশিত হয়েছে। নতুন আবিষ্কৃত এই গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণে
কী জানা গেছে, তা এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যের রয়েল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির জার্নালে
প্রকাশ করা হয়েছে। আর এই পুরো গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন সুইনবার্ন ইউনিভার্সিটির প্রফেসর
ডানকান ফোর্বস এবং স্যান জোস স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রফেসর অ্যারন রোমানোস্কি।
জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ উৎক্ষেপণের পর থেকেই জ্যোতির্বিদদের নানা
রসদ জুগিয়ে আসছে। খুব স্বল্প সময়েই এটি এমন সব ছবি তুলে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছে, যা
বিশ্ব সম্পর্কে অনেক নতুন কিছু আমাদের সামনে
তুলে ধরছে। টাইম মেশিনের মতোই যেন কোটি কোটি বছর আগের মহাবিশ্বে বিচরণ করতে পারছি আমরা।
সূত্র : রয়েল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি।