প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৩ ১২:১৬ পিএম
আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৩ ১২:৪০ পিএম
তুষারপাত, বৃষ্টির পানিতে পাওয়া যাচ্ছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। ছবি : সংগৃহীত
পানির অপর নাম জীবন। কিন্তু দূষিত পানি, সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনের জন্য বিপজ্জনক। এতোদিন আমরা জেনে এসেছি, বিশুদ্ধ পানির অন্যতম উৎস বৃষ্টি। কিন্তু বৃষ্টির পানিই যদি দূষিত হয়, শরীরের জন্য ক্ষতিকারক হয়, তবে?
ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউজিল্যান্ডের একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, শুধুমাত্র ২০২০ সালেই আকাশ থেকে ঝড়ে পড়া বৃষ্টিতে ৮১ টন মাইক্রোপ্লাস্টিক ছিল, যা বৃষ্টির পানিকে পানের জন্য ক্ষতিকারক করে তুলেছে।
আমাদের জীবনধারা এরই মধ্যে পৃথিবীকে প্লাস্টিক গ্রহে পরিণত করছে। দৃশ্যমান প্লাস্টিক যেমন সমুদ্রের বিশাল তিমি ও দীর্ঘায়ু কচ্ছপের মতো প্রাণীদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাড়াচ্ছে, তেমনি প্লাস্টিক কণা, যা খালি চোখে দেখা যায় না সেটিও নতুন শঙ্কার জন্ম দিচ্ছে। বিজ্ঞানীদের চালানো গবেষণায় বলা হয়েছে, বৃষ্টির পানিতে কার্সিনোজেনিক পদার্থের উচ্চ পিএফএএস স্তর পাওয়া গেছে, যা মানুষের জন্য এই পানিকে পান করার অযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করার জন্য যথেষ্ঠ।
২০২২ সালে প্রকাশিত এই সমীক্ষাটি মূলত এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে চালানো এক গবেষণাকেই নতুনভাবে নিশ্চিত করেছে। ২০১৯ সালে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব ইন্টারিয়রের তত্ত্বাবধানে হওয়া এক গবেষণায় প্রথমবারের মতো বৃষ্টির পানিতে বিপজ্জনক সীমায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার বিষয়টি জানা যায়।
এখন বৃষ্টির পানিই যদি পানের অযোগ্য হয়, তবে ভবিষ্যতে বিশুদ্ধ পানির জন্য মানুষ বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। অথচ এ সংক্রান্ত গবেষণা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ক্ষিতিকর হওয়ার পরেও অনেকক্ষেত্রেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিষয়টি আমলে নেওয়া হয় না।
শুধু যে মানবদেহের জন্যই মাইক্রোপ্লাস্টিক ক্ষতিকর এমনটা নয়। পরিবেশের ওপরও এর ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। এর উপস্থিতি বিভিন্ন জীবের বৃদ্ধি, পুনরুৎপাদন, স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত করে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, বাতাসে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়া তরান্বিত করছে।
বিজ্ঞানিরা মানবদেহে মাইক্রোপ্লাস্টিকের প্রভাব নিয়ে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। এরই মধ্যে মানুষের রক্তপ্রবাহ ও ফুসফুসে মাইক্রো প্লাস্টিকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। গবেষকরা এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, মাইক্রো প্লাস্টিক মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর কিছু একটা হতে যাচ্ছে, এবং এটিই এখন নতুন বাস্তবতা। অথচ ১৮ বছর আগে মাইক্রো প্লাস্টিকের বিষয়ে কারো কোনো ধারণাই ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব ইন্টা মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে গবেষণা করাদের একজন গ্রেগরি ওয়েদারবি বলেছেন, ‘আমি মনে যুক্তরাষ্ট্রের জনসাধারণের সঙ্গে আমরা সবচেয়ে যে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলটি শেয়ার করতে পারি তা হলো এখন চোখে দেখতে পাওয়ার চেয়েও বেশি প্লাস্টিক রয়েছে। এটি বৃষ্টিতে, তুষারে। এটি এখন আমাদের পরিবেশের অংশ।’
মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন সারাবিশ্বেই বিরাজমান। এন্ট্রাকটিকা থেকে শুরু করে, মানুষের রক্তপ্রবাহে, এমনকি শিশুদের মলেও পাওয়া যাচ্ছে মাইক্রোপ্লাস্টিক। সামনের দিনগুলোতে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে যাচ্ছে।