প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০২২ ১৮:২৭ পিএম
আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২২ ২০:১৭ পিএম
নতুন প্রযুক্তির থেরাপি নিচ্ছে অ্যালিসা। ২০২২ সালে মে মাসে যুক্তরাজ্যের গ্রেট অরমন্ড স্ট্রিট হাসপাতালে। ছবি: সংগৃহীত
১৩ বছরের কিশোরী অ্যালিসা। যুক্তরাজ্যের লেস্টার শহরের হাসিখুশি ছোট্ট মেয়েটির গত বছরের মে মাসে লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকোমিয়া শনাক্ত হয়। তার টি-সেল ভয়ংকর হয়ে ওঠে। কাজ করছিল না প্রচলিত কোনো ওষুধ বা থেরাপি।
এ অবস্থায় জিন পুনর্গঠনের একটি নতুন প্রযুক্তির পরীক্ষা চালানো হয় অ্যালিসার শরীরে। বেইজ এডিটিং নামের এ প্রযুক্তি ইতোপূর্বে আর কোনো মানুষের শরীরের প্রয়োগ করা হয়নি। যুক্তরাজ্যের গ্রেট অরমন্ড স্ট্রিট হাসপাতালে অ্যালিসার শরীরের প্রয়োগ করে প্রাথমিক সফলতা পাওয়া গেছে। ধীরে ধীরে এ প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বেইজ এডিটিংয়ের মাধ্যমে নতুন থেরাপি নিয়ে ছয় মাস ধরে সুস্থ আছেন অ্যালিসা। তবে তাকে এখনও নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
অথচ এক বছর আগেও পরিবারসহ সবাই অ্যালিসার বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিয়েছিল। মৃত্যু নিশ্চিত জেনে নিজের চুল কেটে দান করে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় কিশোরী অ্যালিসা।

মৃত্যু নিশ্চিত জেনে নিজের মাথার চুল দান করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অ্যালিসা। ছবি : সংগৃহীত
অ্যালিসার মা কিয়োনা বিবিসিকে বলেন, ‘গত ডিসেম্বরে আমরা ধরে নিয়েছিলাম এটাই আমাদের শেষ ক্রিসমাস। শেষ বিদায়ের জন্য অ্যালিসাও নিজেকে প্রস্তুত করে নিচ্ছিল। গত ১৩ জানুয়ারি অ্যালিসার ১৩তম জন্মদিনে আমরা খুব কান্নাকাটি করি।’
কিন্তু মাত্র ছয় বছর আগে উদ্ভাবন করা বেইজ এডিটিং প্রযুক্তি অ্যালিসাকে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরিয়ে এনেছে।
অ্যালিসার চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত প্রফেসর ওয়াসিম কাসিম বলেন, এ প্রযুক্তি ইতোপূর্বে আর কোনো মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হয়নি। জিন এডিটিংয়ের এ প্রযুক্তি মাত্র ছয় বছর আগে উদ্ভাবন করা হয়। এত সূক্ষ্ম কোনো প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পর এত অল্প সময়ে মানুষের শরীরে ব্যবহারের নজির বেশি একটা নেই।