প্রবা ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২২ ১৩:১৬ পিএম
আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২২ ১৪:৫৯ পিএম
কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে মহাশূন্যের পথে এসএলএস। ছবি : সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপিত হয়েছে আর্টেমিস ১ মিশনের স্পেস লঞ্চ সিস্টেম রকেট। মানুষের চন্দ্রাভিযানের দ্বিতীয় অধ্যায়ের সফল শুরু এটি।
স্থানীয় সময় ১ টা ৪৭ মিনিটে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয় রকেটটিকে।
এ সময় উৎক্ষেপণটি দেখতে ফ্লোরিডার উপকূলে জড়ো হয়েছিল হাজার হাজার মানুষ। সফল উৎক্ষেপণে উচ্ছ্বসিত সবাই। নিজেদের ইউটিউব অ্যাকাউন্টে লাইভে সরাসরি উৎক্ষেপণ দেখার সুযোগ করে দিয়েছিল নাসা। ইউটিউবে কমেন্ট বক্সে অনেকেই নাসাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।
এর আগে দুইবার প্রস্তুতি নিলেও শেষ মুহূর্তে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎক্ষেপণ পরিকল্পনা বাতিল করে নাসা। অবশেষে উৎক্ষেপণে সফলতা অর্জন করল নাসা।
তবে পুরো কার্যক্রম এখনও শেষ হয়নি। এসএলএসে পাঠানো ওরিয়ন ক্যাপসুল চাঁদের কক্ষপথের দিকে অগ্রসর হবে এবং এর আগে এটিকে সফলতার সঙ্গে মূল রকেট ইঞ্জিন থেকে ক্যাপসুলটিকে আলাদা হতে হবে।
এবারের উৎক্ষেপণের ১ সপ্তাহ আগেও লঞ্চ প্যাডে হ্যারিকেন নিকোলকে মোকাবিলা করতে হয়েছে এসএলএসকে। এর পরেও এবারের প্রচেষ্টা নিয়ে আশাবাদী ছিল নাসা।
নাসা সদর দপ্তরের বিলম্বিত আর্টেমিস ১ মিশনের ম্যানেজার মাইক সারাফিন বলেছিলেন, ‘আমাদের সময় আসছে এবং আমরা আশা করি যে বুধবার হবে (এসএলএসের সফল উৎক্ষেপণ)।’
তবে এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে কোনো নভোচারী ছিল না। নাসার বানানো এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট।
আর্টেমিস ১ মিশনের উদ্দেশ্য কেবল মহাকাশে মানুষ পাঠানোর জন্য নয়। এটি চাঁদে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী ঘাঁটি তৈরি করে তোলার পরিকল্পনার প্রাথমিক ধাপ।
২০২৫ সালের মধ্যে চাঁদে ফিরতে চায় নাসা। এবার সেখানে ঘুরে আসতে নয়, স্থায়ীভাবে থাকতে চায় তারা। প্রথমবারের মতো এই মিশনে চাঁদের বুকে পা রাখবেন একজন নারী নভোচারী। এর আগে অ্যাপোলো মিশনগুলোতে কোনো নারীকে পাঠানো হয়নি।
আগের চন্দ্রাভিযানের নামকরণ করা হয়েছিল গ্রিক চন্দ্রদেবতা অ্যাপোলোর নামানুসারে।
এবার যেহেতু চাঁদে প্রথম নারীর পদচিহ্ন পড়তে যাচ্ছে, তাই অ্যাপোলোরই যমজ বোন আর্টেমিসের নামে এই মিশনের নামকরণ করা হয়েছে।
১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১ দিয়ে শুরু হওয়া পরবর্তী পাঁচটি মিশনে মোট ১০ জন নভোচারী চাঁদের বুকে হেঁটেছেন।