× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মাগফিরাতের দ্বিতীয় দিন

অনর্থক কথা ও কাজ পরিহার

মুফতি মাহফুজ আবেদ

প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৮ এএম

অনর্থক কথা ও কাজ পরিহার

রোজার প্রতিদানের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘রোজা আমার জন্য এবং আমিই তার প্রতিদান দিই।’ কিন্তু রোজাদারের কিছু ভুলের কারণে সে আল্লাহর নৈকট্য থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়। রোজাদারের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই সে তার প্রবৃত্তি, খাদ্য ও পানীয় আমার জন্য পরিহার করেছে।’ রোজাদার ব্যক্তি খাদ্য, পানীয় ও যৌন আকাক্ষার মতো বিষয়গুলো পরিহার করার বিনিময়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে।

আল্লাহর প্রিয় বান্দারা বলেন, আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য এসব বৈধ চাহিদা পরিত্যাগ করাই যথেষ্ট নয় বরং এজন্য তাকে সেসব বিষয়ও ত্যাগ করতে হবে, যা আল্লাহ সব সময়ের জন্য তার ওপর হারাম করেছেন। যেমন মিথ্যা বলা, খেয়ানত করা, বিশ্বাসভঙ্গ করা, প্রতারণা করা, জুলুম করা, অপবাদ দেওয়া, মানুষের জান-মাল ও সম্মান নষ্ট করা ইত্যাদি। এসব বিষয় সব সময়ই হারাম। আর রোজাদারের জন্য তা আরও গুরুতর হারাম হিসেবে বিবেচিত হয়। এজন্য নবী কারিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও কাজ ত্যাগ করেনি তার পানাহার ত্যাগ আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ -সহিহ বোখারি : ১৮০৪

হারাম বিষয়গুলো ত্যাগ না করে শুধু বৈধ বিষয়গুলো ত্যাগ করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা সম্ভব নয়। যে ব্যক্তি হারাম কাজে লিপ্ত হলো, কিন্তু আবার হালাল জিনিস ত্যাগের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য প্রত্যাশা করল তার উদাহরণ হলো সেই ব্যক্তির মতো যে ফরজ ইবাদত ত্যাগ করে কিন্তু নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য প্রত্যাশা করে।

একাধিক হাদিসের কিতাবে একটি শিক্ষণীয় ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তা হলো নবী কারিম (সা.)-এর যুগে দুজন নারী রোজা রাখে। দিনের শেষভাগে ক্ষুধা ও পিপাসা তাদের কাতর করে ফেলে, এমনকি তাদের মৃত্যুর উপক্রম হয়। তারা লোক মারফত নবী কারিম (সা.)-এর কাছে রোজা ভেঙে ফেলার অনুমতি চায়। নবীজি (সা.) তাদের কাছে একটি পাত্র পাঠান এবং বলেন, তাদের বলো এই পাত্রে তারা যা খেয়েছিল তা বমি করে ফেলতে। তাদের একজন তাতে প্রবাহিত রক্ত ও তাজা গোশত বমি করল। অপরজনও অনুরূপ বমি করল। তাদের বমিতে পাত্র পূর্ণ হয়ে গেল। এই ঘটনা দেখে মানুষ আশ্চর্য হলো। নবীজি (সা.) বললেন, এই দুই নারী এমন বিষয় থেকে রোজা রেখেছে, যা আল্লাহ তাদের জন্য হালাল করেছেন এবং এমন বিষয় ভক্ষণ করেছে, যা আল্লাহ তাদের জন্য হারাম করেছেন। তারা দুজন একসঙ্গে বসেছে এবং মানুষের গিবত করেছে। এটা হলো, তারা মানুষের যে গোশত খেয়েছে তা। -তাখরিজুল ইহইয়া: ১/৩১৫

আল্লাহ আমাদের এমন পরিণতি থেকে রক্ষা করেন। এটা অত্যন্ত ভয়ের কথা যে, মানুষ দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকে, ক্ষুধা ও তৃষ্ণার কষ্ট সহ্য করে অথচ তারা কিছু পাপাচারে লিপ্ত হয়ে সব নেক ও প্রতিদান ধ্বংস করে ফেলে। রোজাদারের জন্য আবশ্যক হলোÑ হারাম কাজ থেকে নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে রক্ষা করা। সুতরাং সে হারাম কথা বলা থেকে জিহ্বাকে বিরত রাখবে, হারাম বিষয় শ্রবণ করা থেকে কানকে বাঁচাবে, হারাম দৃষ্টি থেকে চোখ হেফাজত করবে, মন্দ চিন্তা থেকে মন-মস্তিষ্ককে রক্ষা করবে, হারাম খাবার ও পানীয় থেকে নিজের পাকস্থলীকে বাঁচাবে, তবেই সে রোজা তার জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা