অষ্টম রোজা
মুফতি মাহফুজ আবেদ
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৩২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
মাহে রমজান কুরআন নাজিলের মাস। তাকওয়া অর্জনের মাস। আমলে অগ্রগামী হওয়ার মাস। গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার মাস। ক্ষমা লাভের মাস। সদয় ও সহানুভূতির মাস। তাই রমজানের চাঁদ উঠতেই ঘোষণা হতে থাকে, ‘ওহে কল্যাণ অন্বেষী! তুমি সুসংবাদ গ্রহণ করো, নেকির পথে তুমি আরও বেগবান হও। ওহে অকল্যাণের পথিক, তুমি নিবৃত্ত হও, নিয়ন্ত্রিত হও।’Ñ জামে তিরমিজি : ৬৮২
এ মাসে আল্লাহতায়ালা ঈমানদারদের জন্য রোজা ফরজ করেছেন, যা ইসলামের মৌলিক একটি স্তম্ভ। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতিসাব তথা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস এবং সওয়াবের প্রত্যাশা রেখে রমজান মাসে রোজা রাখবে, তার আগের গুনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হবে।’Ñ সহিহ বোখারি : ৩৮
রমজানের প্রতিটি ইবাদত, প্রতিটি মুহূর্ত বিশেষ মর্যাদা ধারণ করে। এর কিয়াম-তারাবি, সেহরি-ইফতার, তাসবিহ-তাহলিল, কুরআন তেলাওয়াত-মোনাজাতÑ সবকিছুর রয়েছে বিশেষ ফজিলত। এর প্রতিটি আমল বান্দাকে তাকওয়ার সোপানে উন্নীত করে এবং আল্লাহর নৈকট্য ত্বরান্বিত করে। নবী করিম (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও সওয়াবের প্রত্যাশায় রমজান পালন করবে তার বিগত পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’Ñ সহিহ বোখারি : ২০০৯
অতএব রোজার সঙ্গে সঙ্গে তারাবির প্রতি যত্নবান হই। তাহাজ্জুদের অভ্যাস করি। সেহরির প্রতি গুরুত্ব দিই। খেয়াল রাখি, আমার রোজা যেন আমার জন্য ঢাল হয়। আমার কোনো ত্রুটির কারণে যেন এ ঢাল বিদীর্ণ না হয়। রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, পণ্য মজুদকরণ, খাদ্যে ভেজাল ইত্যাদি অসাধুতা অত্যন্ত গর্হিত মানসিকতার পরিচায়ক। সহমর্মিতার মাসে এ ধরনের অন্যায় সত্যিই বড় জুলুম। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মুসলমানদের ওপর দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর উদ্দেশ্যে পণ্য মজুদ করে, সে নিঃসন্দেহে গুনাহগার।’ -মুসনাদে আহমাদ: ৮৬১৭
ঈদ সামনে রেখে বর্তমানে শপিং-সংস্কৃতি সমাজে চালু হয়েছে। আফসোসের কথা, রমজানের শেষ দিকে এর চাপ আরও প্রবল হয় অথচ যেখানে শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করতে বলা হয়েছে এবং নবী করিম (সা.) যখন কোমর বেঁধে ইবাদতে মশগুল থাকতেন, তাই আমাদের ঈদের প্রয়োজন আগ থেকেই সেরে নেওয়া উচিত এবং শেষ দশকে বিশেষভাবে শবেকদর তালাশ করা।
হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘এই মহিমান্বিত মাস উপস্থিত। তাতে একটি রজনি রয়েছে, যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ ও বরকত থেকে বঞ্চিত থাকল, সে যেন সব কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হলো। আর শুধু অভাগাই এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত থাকে।’Ñ সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৬৪৪
সর্বোপরি রমজান যেন অধিক ফলপ্রসূ হয়, এজন্য সবার মনোযোগী হওয়া জরুরি। কারণ এর প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান। এ সময়গুলো যাতে যথাযথ কাজে লাগে এ জন্য গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তা করতে হবে। এ দিনগুলো দোয়া-দরুদ, জিকির-তেলাওয়াত, তওবা-ইস্তেগফার, নফল নামাজ ইত্যাদি ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করতে হবে। গল্প-গুজব পরিহার করা এবং অযথা ডিভাইসের ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে। কাজে লাগাতে হবে রমজানের বরকতময় প্রতিটি মুহূর্ত। আল্লাহতায়ালা আমাদের তওফিক দান করুন। আমিন।