মুফতি মাহফুজ আবেদ
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৬ এএম
আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৮ এএম
প্রতীকী ছবি
মহান আল্লাহ রমজানের ব্যাপারে ইরশাদ করেন, ‘পবিত্র মাস রমজান, এই মাসে কুরআন নাজিল হয়েছে। কুরআন হলো মানুষের জন্য হেদায়েতস্বরূপ। কুরআন ভালো-মন্দের পার্থক্যকারী।’ এভাবেই রমজানের গুরুত্ব আমাদের কাছে এসেছে। নবী কারিম (সা.) অসংখ্য হাদিসে মানুষের চলার সব পথ বাতলে দিয়েছেন। আর নবী কারিম (সা.)-এর অনুকরণ ও অনুসরণের ওপরই নির্ভর করবে দুনিয়ায় শান্তি ও আখেরাতে মুক্তির পথ। যারা কুরআনে কারিমের আলোকে জীবন পরিচালিত করবে তারা দুনিয়ায় সমাজ পরিচালিত করতে পারবে শান্তিতে আর তার বিনিময়ে সীমাহীন আখেরাতে থাকবে সুখ ও শান্তিতে। তাই আজকের দিনেও আমরা যদি রমজানে কুরআনে কারিমের আলোকে নিজেরা চলতে পারি, অন্যকে উদ্বুদ্ধ করতে পারি, তবেই আমাদের দুনিয়াও ভালো আর আখেরাতে রয়েছে অফুরন্ত সুখ আর শান্তি।
রমজানে আসে পূর্বের যাবতীয় গুনাহখাতা মাফ করিয়ে নেওয়ার বড় সুযোগ। শুধু তাই না, যারা এ রমজান পেয়ে তাদের গুনাহখাতা মাফ করিয়ে নিতে পারল না, তারা মহান আল্লাহর লানতে পড়ে যাবে। তাই রোজা রাখা, তারাবি পড়া, সময়মতো ইফতার করা, সুযোগমতো ইতিকাফ করা, রমজানের সময় তাহাজ্জুদ পড়ার সুযোগ আসে গুনাহ মাফের বড় উসিলা হয়ে। সেহরি খেতে ভোররাতের একটু আগে উঠলেই কিন্তু তাহাজ্জুদ পড়ার সুযোগ হয়। ২ রাকাত করে ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ পড়ার ব্যাপারে হজরত আয়েশা (রা.) উল্লেখ করেছেন। তাহাজ্জুদের পর বিতর নামাজ পড়া ভালো। এশার পর বিতর নামাজ আদায় করলেও চলবে। কিন্তু দিনের শেষ নামাজ হিসেবে ফজরের পূর্বে বিতর পড়া ভালো। একবার অভ্যাস করলে গোটা জীবন সহজ হয়ে যাবে।
মনে রাখবেন, মহান আল্লাহ আপনার হয়ে গেলে তিনি আপনার সব কাজে রহমত ও বরকত দেবেন। মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা আমার হয়ে যাও, আমিও তোমাদের হয়ে যাব।’ আল্লাহতায়ালা অপচয় পছন্দ করেন না। তাই রমজানে ইফতারে বাড়তি খরচ না করাই ভালো। সারাদিন না খাওয়ার পর ইফতারে বেশি খেলে শরীরের জন্য ভালো নাও হতে পারে।
বর্তমানে সেহরি খাওয়ার সময় ওঠার কোনো অসুবিধা নেই। আগে মাইকে মানুষকে ডাকা হতো। বর্তমানে স্মার্টফোন থাকার কারণে অ্যালার্ম দিয়ে রাখলেই শেষ রাতে উঠতে কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়। তারাবি পড়ে রাতের খাওয়া শেষ করে বেশি দেরি না করে দ্রুত ঘুমাতে গেলে শেষ রাতে ওঠা সহজ হবে।
রোজার সময় ছোট সন্তানদেরও রোজা রাখার অভ্যাস করাতে হবে। সব কয়টা না পারলেও মাঝে মাঝে রাখার অভ্যাস করাতে হবে। মহান আল্লাহ তার বান্দাকে ভালো পথেই চালাতে চান। রোজার আলাদা মর্যাদা রয়েছে। ইফতারের সময় বাড়ির সবাই একসঙ্গে সেহরি এবং ইফতার করলে বাড়ির পরিবেশ ইসলামের দিকে ঝুঁকবে এবং বরকত বেশি পাওয়া যাবে। ইফতারের সময় আত্মীয়-স্বজনকে দাওয়াত দেওয়া ভালো। এতে একদিকে রমজানের সওয়াব, অন্যদিকে আত্মীয়তার হকও আদায় হয়ে যাবে।
সমাজ ও দেশকে মানবিক দেশ হিসেবে গড়ার একটি বড় সময় হলোÑ রমজানের সময়কে সঠিক প্রয়োগ করা। মানুষের মন রমজানে নরম থাকে। আল্লাহর প্রতি মানুষের আগ্রহ থাকে। মানুষের প্রতি আচার-আচরণ নমনীয়ভাবে পালন করলে সমাজ ও রাষ্ট্র উগ্র আচরণ থেকে রক্ষা পায়।
সওয়াবের আশায় রমজানে আমরা জাকাত দিতে পারি। যেহেতু রমজানে দানের সওয়াব অন্য সময়ের চেয়ে ৭০ থেকে ৭০০ গুণ আবার মহান আল্লাহ চাইলে অফুরন্ত ফল বান্দাকে দিতে পারেন। অনেকে জাকাতের কাপড় বলে জনগণকে দিয়ে থাকে, যা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। জাকাত তার হকদারকে পৌঁছে দেবেন, এটাই বিধান।