মুফতি মাহফুজ আবেদ
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৩৯ এএম
রোজাদারের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। ছবি: সংগৃহীত
দয়াময় আল্লাহতায়ালার দরবারে হাজারও শোকরিয়া। তুলনামূলক সহনীয় আবহাওয়া রোজাপালনকে আরও সহজ করে দিয়েছে। আশা করি, রমজানের বাকি দিনগুলোও ভালোভাবে অতিবাহিত করা সম্ভব হবে। রমজানে আল্লাহর রহমত লাভের চেষ্টা করা এবং অন্তরে তা অর্জন করার আশা রাখা ঈমানের দাবি।
বছরের বিভিন্ন সময়ে আমরা ব্যস্ত থেকেছি বস্তুগত নানা আয়োজনে এবং পার্থিব নানা ঝামেলা ও চাওয়া-পাওয়ার হিসেব নিয়ে। ফলে আমাদের অসচেতন আত্মা খোদাপ্রেমের রাজপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে কেবলই নেমে গেছে নিচ থেকে নিচু পর্যায়ে। তাই দরকার ছিল এমন একটি সুযোগের, যেখানে আত্মাকে উন্নীত করা যায় আধ্যাত্মিকতার শিখরে। হৃদয়-মনকে পরিচালিত করা যায় উন্নতি আর উন্নয়নের দিকে, তথা খোদার একান্ত সান্নিধ্য ও নৈকট্য অর্জনের দিকে এবং খোদার রঙে আচার-আচরণ ও আত্মাকে রঙিন করার দিকে। পবিত্র রমজান মাস আমাদের জন্য এনে দিয়েছে সেই মহাসুযোগ।
আল্লাহতায়ালার একান্ত সান্নিধ্য লাভের জন্য হৃদয়-মনকে আল্লাহমুখী করে নামাজ আদায় করা এক অতি বড় সুযোগ, তাতে কোনো সংশয়-সন্দেহ নেই। অন্য ইবাদতগুলোতেও রয়েছে একই ধরনের সুযোগ। কিন্তু রমজানে খোদাপ্রেমের সুযোগগুলো অনেক বেশি প্রশস্ত এবং এ মাসে আল্লাহকে স্মরণ করার মাধ্যমগুলোও বেশি বৈচিত্র্যময়। দোয়ার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর প্রিয় হয়, তার সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগ পায়। তাই আমাদের উচিত রমজানে বেশি বেশি দোয়া-মোনাজাত করা।
এ প্রসঙ্গে নবী কারিম (সা.) বলেছেন, ‘হে মানুষেরা! বেহেশতের দরজাগুলো এই মাসে তোমাদের জন্য খোলা থাকবে। আল্লাহর কাছে এমনভাবে দোয়া করোÑ যাতে তা তোমার জন্য বন্ধ হয়ে না যায়। রমজান মাসে দোজখের দরজাগুলো বন্ধ রয়েছে, আল্লাহর কাছে এমনভাবে প্রার্থনা করোÑ যাতে তা তোমার জন্য কখনও খুলে না যায়। এ মাসে শয়তানগুলোকে হাতকড়া পরিয়ে বন্দি রাখা হয়েছে, আল্লাহর কাছে এমনভাবে প্রার্থনা কর যাতে তারা তোমাদের ওপর কর্তৃত্ব করতে না পারে।’
হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, রোজাদারের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় নাÑ ১. রোজাদারের দোয়া ইফতার করা পর্যন্ত, ২. ন্যায়পরায়ণ বাদশাহর দোয়া ও ৩. মাজলুমের দোয়া। আল্লাহতায়ালা তাদের দোয়া মেঘমালার ওপরে উঠিয়ে নেন। এজন্য আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। আর আল্লাহতায়ালা বলেন, আমার ইজ্জতের কসম! বিলম্বে হলেও আমি অবশ্যই তোমাকে সাহায্য করব।’ (জামে তিরমিজি: ৩৫৯৮)
রমজানে রোজাপালন, নামাজ আদায় ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে বিশেষ ফজিলত ও বরকত অর্জন ছাড়াও কুরআন তেলাওয়াত এ মাসের নুরানি আকর্ষণের বাড়তি দিক।
রমজান মাসকে বলা হয় কুরআনের বসন্তকাল। আত্মগঠন ও চরিত্র সংশোধন এবং মনের ওপর জমে থাকা মরিচাগুলো অপসারণের মাধ্যমে নিজেকে পবিত্র করার ও সব জঞ্জাল এবং পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত করার মাধ্যম হলো কুরআন তেলাওয়াত ও অধ্যয়ন। তাই রমজানে কুরআন তেলাওয়াতে বেশি মনোযোগী হওয়া আবশ্যক।
রমজান আল্লাহর দিকে সফর করার মাস। তবে মনে রাখতে হবে, আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সবচেয়ে বড় শর্ত গুনাহ বর্জন। ফরজ ও নফলসহ আমরা যত বেশিই ইবাদত করি না কেন, পাপ বর্জন করা না হলে কাঙ্ক্ষিত আত্মসংশোধন ও আল্লাহর নৈকট্য লাভ অসম্ভব থেকে যাবে।