× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রিজিক ও জীবনে বরকত লাভের উপায়

শাহীন হাসনাত

প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:০৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

অর্থ-সম্পদ, টাকা-পয়সা মানুষের জীবনের এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ। জীবনে এর প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার উপায় নেই। অর্থ মানুষ উপার্জন করে, ব্যয় করে এবং সঞ্চয়ও করে। এ উপার্জন-ব্যয়-সঞ্চয় সবই পার্থিব জীবনকে সাজিয়ে তোলার জন্য, এ জীবনের সুখ ভোগ করার জন্য। নিজের উপার্জিত সম্পদ দিয়ে মানুষ নিজের প্রয়োজন মেটায়, মেটায় অধীনস্থ পরিবার-পরিজনের প্রয়োজনও। কিন্তু সামর্থ্য সবার সমান থাকে না। কারও কাছে সঞ্চিত হতে থাকে প্রয়োজন-অতিরিক্ত টাকার ভান্ডার, কারও হাতে থাকে না দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজন পূরণের যৎসামান্য উপকরণ। এ পরিস্থিতিতে মানুষ এগিয়ে আসে মানুষের কল্যাণে। মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ায়। নিজের কষ্টার্জিত অর্থ বিলিয়ে দেয় অন্যদের প্রয়োজনে। দান বা সদকা বলে আমরা সাধারণত একেই বুঝি।

বাহ্যিকভাবে সম্পদ খরচ হওয়াকে কমে যাওয়া মনে হলেও কিছু খরচ এমন আছে, যেগুলো মানুষের রিজিকে বরকতের দরজা খুলে দেয়। তারা যত বেশি খরচ করে, আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে তাদের অর্থ-সম্পদ আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছেÑ হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মহান আল্লাহ বলেনÑ তুমি ব্যয় করো, হে আদম সন্তান! আমিও তোমার প্রতি ব্যয় করব।’Ñ সহিহ বোখারি : ৫৩৫২

পবিত্র কুরআন-হাদিসের বহু জায়গায় দান-সদকার উপকারিতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। বিশেষ করে মহান আল্লাহ দান করা ও অভাবগ্রস্তকে সাহায্য করাকে তার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের বিশেষ গুণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ইতঃপূর্বে এরাই ছিল সৎকর্মশীল। তারা রাতের সামান্য অংশই অতিবাহিত করত নিদ্রায়, আর রাতের শেষ প্রহরে এরা ক্ষমা চাওয়ায় রত থাকত। আর তাদের ধন-সম্পদে রয়েছে অভাবগ্রস্ত ও বঞ্চিতের হক।’Ñ সূরা জারিয়াত : ১৬-১৯

এই আয়াতে বোঝা যায়, মানুষের উপার্জিত সম্পদে কিছু মানুষের হক আছে। মহান আল্লাহর যেসব বান্দা আল্লাহতায়ালার আদেশ পালনকরত সেই হক আদায় করে, মহান আল্লাহ তাদের রিজিকে বরকত দিয়ে দেন। তারা যতটুকু ব্যয় করে, ইহকাল ও পরকালে তারা এর চেয়ে বহুগুণে ফেরত পায়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘কে আছে যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে, ফলে তিনি তার জন্য বহুগুণে বাড়িয়ে দেবেন? আর আল্লাহ সংকীর্ণ করেন ও প্রসারিত করেন এবং তারই নিকট তোমাদের ফেরানো হবে।’Ñ সূরা আল বাকারা : ২৪৫

অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় আমার রব তার বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিজিক প্রশস্ত করেন এবং সংকুচিত করেন। আর তোমরা যা কিছু আল্লাহর জন্য ব্যয় করো, তিনি তার বিনিময় দেবেন এবং তিনিই উত্তম রিজিকদাতা।’Ñ সূরা সাবা: ৩৯

শুধু তা-ই নয়, তাদের দৈনন্দিন কাজে আসমানি সাহায্য আসে। কঠিন বিপদ-আপদ থেকে সহজে মুক্তি পায়। হজরত ইবনে উমার (রা.) বর্ণনা করেন, তার শব্দমালা এরূপÑ ‘আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় কাজ হলো আনন্দ দানের নিমিত্তে তোমার মুসলমান ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা অথবা তার বিপদ দূর করা অথবা তার মনের দুশ্চিন্তা দূর করে দেওয়া অথবা তার ঋণ পরিশোধ করা।’ Ñ আত-তারগিব ওয়াত তারহিব : ৪০০৬

যারা আল্লাহকে রাজিখুশি করার আশায় অন্য মুসলমানের সুখ-দুঃখে নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে আসে, মহান আল্লাহর দরবারে তাদের মর্যাদাও বৃদ্ধি পায়। তাদের গুনাহমুক্ত হওয়ার জন্য সহায়ক হয়। হাদিসে এসেছেÑ ‘তোমরা এক টুকরা খেজুর দিয়ে হলেও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো।’Ñ সহিহ বোখারি : ৬৫৪০

এই হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, ঈমানদারের দান-সদকা তাদের পরকালের সাজা প্রশমিত করে। দান-সদকা মানুষকে পাপমুক্ত হতে সাহায্য করে। আল্লাহর ফেরেশতারা দাতাদের জন্য কল্যাণের দোয়া করে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, প্রতিদিন সকালে দুজন ফেরেশতা অবতরণ করেন। তাদের একজন বলেন, হে আল্লাহ! দাতাকে তার দানের উত্তম প্রতিদান দিন আর অন্যজন বলেন, হে আল্লাহ! কৃপণকে ধ্বংস করে দিন।Ñ সহিহ বোখারি : ১৪৪২

ফলে যারা নিয়মিত দান-সদকা করে, তারা তাদের রিজিকে ও জীবনে অন্যতম বরকত এবং প্রশান্তি অনুভব করে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা