শাহীন হাসনাত
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আল্লাহতায়ালা মুমিন নর-নারীর ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন এবং নামাজের জন্য সময় নির্ধারণ করেছেন। মুমিনের দায়িত্ব যথাসময়ে ফরজ নামাজ আদায় করা। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা মুমিনের অবশ্য কর্তব্য।’Ñ সূরা আন নিসা : ১০৩
নির্ধারিত সময়ে যথাযথভাবে নামাজ আদায়ের কথা হাদিসেও এসেছে। এ বিষয়ে অবহেলা করলে জাহান্নামের হুমকি এসেছে। নবী করিম (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তার বান্দাদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। যে ব্যক্তি তা যথাযথভাবে পালন করবে, আর অবহেলার কারণে এর কোনোটি পরিত্যাগ করবে না, মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর অঙ্গীকার করেছেন। আর যে ব্যক্তি তা (যথাযথভাবে) আদায় করবে না, তার জন্য আল্লাহর কাছে কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দেবেন কিংবা জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’Ñ সুনানে আবু দাউদ : ১৪২০
সফরকালে নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা কর্তব্য। এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় জেনে রাখা উচিত। তা হলোÑ
এক. চলন্ত লঞ্চ, জাহাজ, ট্রেন ও বিমানে ফরজ নামাজ সম্ভব হলে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে রুকু-সিজদাসহ আদায় করবেন। দাঁড়ানো যদি কষ্টকর হয়, তাহলে বসে স্বাভাবিক রুকু-সিজদা করে নামাজ আদায় করবেন। এভাবে নামাজ আদায় করতে পারলে পরবর্তী সময়ে তা পুনরায় পড়তে হবে না।
দুই. আর যদি কেবলামুখী হয়ে রুকু-সিজদার সঙ্গে নামাজ আদায় করা সম্ভব না হয়, তাহলে যেভাবে সম্ভব বসে বা ইশারায় নামাজ পড়ে নেবেন। এক্ষেত্রে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এলে সতর্কতামূলক ওই ফরজ নামাজ পরবর্তী সময়ে আবার পড়ে নেবেন।
তিন. বাসে যেহেতু সাধারণত দাঁড়িয়ে স্বাভাবিকভাবে নামাজ পড়া যায় না, তাই কাছাকাছি যাতায়াতের ক্ষেত্রে ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগে গন্তব্যে পৌঁছে নামাজ আদায় করা সম্ভব হবে না বলে মনে হলে এবং নেমে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ অথবা অসুবিধাজনক না হলে পথিমধ্যে নেমে ফরজ নামাজ পড়ে নেবেন।
চার. দূরের যাত্রা হলে অথবা যেক্ষেত্রে নেমে গেলে ঝুঁকি অথবা সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা থাকে; সেক্ষেত্রে বাস না থামলে সিটেই যেভাবে সম্ভব বসে বা ইশারায় নামাজ আদায় করে নেবেন এবং সতর্কতামূলক পরবর্তী সময়ে এর কাজা করে নেবেন।
পাঁচ. উল্লেখ্য, দীর্ঘ যাত্রায় বাসচালকদের উচিত ফরজ নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে কোনো মসজিদে যাত্রাবিরতি করা। এ বিষয়ে বাস মালিকদেরও ইতিবাচক নির্দেশনা দিয়ে রাখা উচিত। এক্ষেত্রে মালিক সমিতি ও শ্রমিক সমিতিগুলো যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারে। আর যাত্রীদের কর্তব্য, বাসের একজন মুসল্লি নামাজ পড়তে চাইলেও তার জন্য বাস থামাতে চালককে নির্দেশনা দিয়ে রাখা।
ছয়. কোথাও যাতায়াতের সময় নামাজ কসর করে পড়া জরুরি কি নাÑ এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কারও বাড়ি খুলনা। তিনি ঢাকা থেকে খুলনার উদ্দেশে রওনা করেছেন। তিনি বাড়িতে যাওয়ার সময় ঢাকা সিটির সীমানা অতিক্রম করার পর থেকে নিজ এলাকার সীমানায় পৌঁছা পর্যন্ত পথিমধ্যে চার রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাজ কসর পড়বেন। সফর অবস্থায় চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজ দুই রাকাত পড়ার বিধান কেবল ফরজ নামাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সুন্নত নামাজের কসর নেই। তাই সফর অবস্থায় সুন্নত পড়লে পূর্ণ চার রাকাতই পড়তে হবে।
সাত. সফর অবস্থায় সুন্নত নামাজ পড়া, না পড়ার ব্যাপারে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরামের দুই ধরনের আমলই বর্ণিত হয়েছে। কোনো কোনো বর্ণনায় সুন্নত পড়ার কথা এসেছে। আবার কোনো কোনো বর্ণনায় সুন্নত না পড়ার কথাও এসেছে। তবে ফজরের সুন্নত গুরুত্বের সঙ্গে আদায় করতে হবে। অন্যান্য সুন্নতের ক্ষেত্রে হুকুম হলো, যাত্রাপথে তাড়াহুড়ো ও ব্যস্ততার সময় সুন্নত পড়বে না। আর যদি যাত্রাপথে ব্যস্ততা না থাকে এবং সুন্নত পড়ার অবকাশ থাকে, তাহলে সম্ভব হলে পড়ে নেবেন। আর গন্তব্যস্থলে নিরাপদে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকলে সুন্নত পড়ে নেওয়াই উত্তম। এক্ষেত্রে সুন্নত ছাড়বে না।