তাসকিন জাহান
প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:১৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম। বিভিন্ন ধর্মে সময়কে কাজে লাগিয়ে সফলতার পথে অগ্রসর হতে নানাভাবে নির্দেশনা বর্ণিত আছে। এক্ষেত্রে কল্যাণের ধর্ম ইসলাম মানুষের জন্য দিয়েছে কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও সুশৃঙ্খল কর্মপদ্ধতি। এর গুরুত্ব বোঝাতে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ সময়ের শপথ করে বলছেন, ‘কালের শপথ! মানুষ অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তবে তারা নয়, যারা (সত্যে) বিশ্বাস করে, সৎকাজ করে, একে অপরকে সত্যের (সত্য গ্রহণের) উপদেশ দেয় এবং একে অপরকে ধৈর্যের (ধৈর্যধারণের) উপদেশ দেয়।’Ñ সূরা আল আসর : ১-৩
মানবজীবনের সবচেয়ে বেশি সময় নষ্ট হয় অবসরে। বিভিন্ন পেশা ও কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষ ছুটি পেলে পুরো সময় কাটিয়ে দেয় হাসি-ঠাট্টায়, ঘুরতে গিয়ে কিংবা বিনোদন থেকে শুরু করে নানা অহেতুক কাজে। কিন্তু অবসরে বিনোদনমূলক কাজে অর্থ ব্যয় করে, ভোগবিলাসময় জীবন কাটিয়ে, আনন্দ করেও আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদান অর্জন করা যায়।
আনন্দ-বিনোদন ও পরিবারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সময় কাটানো, অর্থ ব্যয়Ñ ইসলাম শুধু সমর্থনই করে না, বরং উৎসাহিত করে। ইসলাম হচ্ছেÑ সুশৃঙ্খল ও প্রশান্তির ধর্ম। মানুষের জীবনের আমোদ-প্রমোদ ও অন্যান্য আনন্দের বিষয়ে রয়েছে ইসলামের সুসংহত নির্দেশনা। এ নির্দেশনার আলোকে প্রতিটি মানুষ তার অবসর সময় পালনের মাধ্যমে দ্বিগুণ লাভবান হতে পারে। কুরআনে কারিমে মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতএব, হে নবী (সা.) যখনই তুমি অবসর পাও সাধনা করো এবং তোমার প্রতিপালকের প্রতি মনোনিবেশ করো।’Ñ সূরা ইনশিরাহ : ৭-৮
অর্থাৎ দুনিয়ার কাজ থেকে অব্যাহতি পেলেই আমার ইবাদত ও আনুগত্যের প্রতি মনোনিবেশ করো, নিয়ত পরিষ্কার করো, পরিপূর্ণ আগ্রহ সহকারে আমার প্রতি আকৃষ্ট হও।Ñ তাফসিরে ইবনে কাসির
অবসর অত্যন্ত ফলপ্রসূ সময়। এর সুশৃঙ্খল ও উপযুক্ত ব্যবহার তৈরি করে জীবনের নানা ক্ষেত্রে সুফল। শিক্ষার্থীরা এই সময়টায় ধর্মীয় পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে পারে। ফলে তাদের ঈমান ও আমলের দিক উজ্জ্বল হবে। সেই সঙ্গে তাদের প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রতিফলন ঘটবে। এ ছাড়া কর্মজীবীরা বাসায় স্ত্রী-পরিবার ও সন্তানদের সঙ্গে ইসলামের সুন্দর ও প্রশংসনীয় বিষয় শেখানোর মাধ্যমে সময় কাটাতে পারে। নবী-রাসুলদের সুমহান আদর্শ ও তাদের ঘটনাগুলো বাসায় সবাইকে শোনাতে পারে। এতে করে তাদের হৃদয়ে ছোটবেলাতেই ঈমানের আলো প্রজ্বালিত হয়ে উঠবে। সন্তান বিপথে গেলে সবচেয়ে বেশি কষ্ট ও লাঞ্ছনার স্বীকার হয় বাবা-মা। ছোটবেলা থেকে তাদের আদর্শবান করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবসর সময়ে তাদের প্রতি তাদের শিক্ষা-দীক্ষা ও ধর্মীয় বিষয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
কুরআন হেফজ, হাদিস অধ্যয়ন ও নফল ইবাদত-বন্দেগি হতে পারে অবসরের সবচেয়ে সফল উপার্জন। মুসলিম জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ পবিত্র কুরআন। কুরআন তেলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে এসেছেÑ যে আল্লাহর কিতাবের একটি হরফ পড়বে, সে একটি নেকি পাবে। আর প্রতিটি নেকি দশ গুণের সমান। এ ছাড়া হাদিস অধ্যয়নের মাধ্যমে ইসলামের সূচনা, গৌরবময় ধর্মীয় ইতিহাসের ক্রমবিকাশ ও আদর্শিক জীবনে ইসলামের অনুসরণের জন্য পাথেয় হবে। জানা যাবে, নবী করিম (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের ইবাদতের নমুনা। তারা কত নিষ্ঠার সঙ্গে আমল ও ইবাদত করেছেন এবং তাদের আখলাক কতইনা সুন্দর ছিল। এসব বিষয়ের জ্ঞান লাভের জন্য অবসর সময়ে হাদিসের কিতাবগুলো সবাই অধ্যয়ন করতে পারেন।
যখন ধর্মীয় বিষয় ও আমলের ফজিলত সম্পর্কে জ্ঞান অর্জিত হবে, ইবাদতের নিয়মকানুন সম্পর্কে জানার সুযোগ হবে; তখন স্বভাবতই ইবাদত-বন্দেগির প্রতি আগ্রহ, উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি হবে। ফরজের সঙ্গে নফল ইবাদতেও আগ্রহ অনুভব হবে। প্রকৃত সুখ-শান্তি ও আনন্দ ইবাদতের মধ্যে এই উপলব্ধি তখন সহজাতভাবেই প্রত্যক্ষ হবে।