কামরুজ্জামান বাঁধন
প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৫ ১৬:৩৪ পিএম
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে মুঘল আমলের অন্যতম নিদর্শন মিঞা বাড়ি শাহী জামে মসজিদ। উপজেলার রানীপুর বাজার সংলগ্ন পূর্ব দেউলী গ্রামে অবস্থিত মসজিদটি ‘মিঞা বাড়ির মসজিদ’ নামে পরিচিতি। তবে সঠিক তদারকি, সংস্কার ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে এর সৌন্দর্য।
জানা যায়, স্থানীয় জমিদার আরমান আলী শাহী মসজিদটি নির্মাণ করেন এবং তার নাম অনুসারে মসজিদের নাম হয় ‘শাহী জামে মসজিদ’।
এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত। মসজিদের মূল ভবন ২০০ বর্গফুট, এর উচ্চতা প্রায় ৫০ ফুট। চার কোনায় রয়েছে ৪টি মিনার, মাঝে ৮টি ছোট মিনার ও মাঝখানে বড় একটি মিনার। মসজিদের সামনের দিকে ও উত্তর পাশে একটি করে দরজা রয়েছে। একতলা মসজিদটি নিখুঁত কারুকার্যবেষ্টিত। মসজিদের ভেতরে একসঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। বর্তমানে সংস্কারের অভাবে মসজিদের ভেতর ও বাইরের পলেস্তারা খসে পড়ে চুন-সুরকি বেরিয়ে গেছে। মসজিদের বাইরের দিকে রয়েছে বিভিন্ন কারুকার্য খচিত (সাদা রঙের ফুল আঁকা) মুসলিম স্থাপত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন। মসজিদের পূর্বপাশে প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে একটি ঘাট বাঁধানো বড় দীঘি রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি মসজিদটির সংস্কার। তারা মনে করেন, মসজিদটি দ্রুত সংস্কার করা হলে আবারও দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. ইউসুফ বলেন, ঐতিহ্যের সাক্ষী হিসেবে টিকে থাকা মসজিদটিতে এখন শুধুই অযত্ন আর অবহেলার ছাপ। দেশের নানা প্রান্ত থেকে অনেকেই মসজিদটি দেখতে আসেন। মসজিদ পুরনো নকশা অক্ষুণ্ন রেখে সংস্কার জরুরি বলেও জানান তিনি।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ হিসেবে মসজিদটি গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত মসজিদটি সংস্কারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’