শাহীন হাসনাত
প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৩৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
স্বাভাবিকভাবে মানুষের কর্মগুণে পরকালীন জীবনে জান্নাত কিংবা জাহান্নাম নির্ধারিত হবে। তবে এমন কিছু সৌভাগ্যবান মানুষ আছেন, যাদের জন্য আল্লাহতায়ালা জাহান্নামে প্রবেশ হারাম করে দিয়েছেন। তাদের জাহান্নামে প্রবেশ তো দূরের কথা, জাহান্নামের আগুন তাদের স্পর্শ করতে পারবে না। এ প্রসঙ্গে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘আমি হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোনো এক রাতে বলতে শুনেছিÑ তিনি বললেন, যে চোখ আল্লাহতায়ালার রাস্তায় রাত জেগেছে, তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেওয়া হয়েছে এবং যে চোখ আল্লাহর ভয়ে কেঁদেছে, সে চোখের জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেওয়া হয়েছে। আর তৃতীয় হচ্ছেÑ যে চোখ আল্লাহর নিষিদ্ধ জিনিস দেখা থেকে বিরত থাকে।’Ñ সুনানে দারেমি : ২৪৪৫
বর্ণিত হাদিসে তিন শ্রেণির মানুষের কথা বলা হয়েছে। এর অন্যতম হলোÑ যে চোখ আল্লাহর ভয়ে কাঁদে, তা জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। পীর-বুজুর্গ ও ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, মানুষের মধ্যে যত ভালো গুণ আছে, তার অন্যতমÑ নির্জনে আল্লাহতায়ালার ভয়ে কাঁদা। এই কান্না মহান আল্লাহর অত্যন্ত প্রিয়। হাদিসে এ ব্যাপারে অনেক ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে। হাদিসে স্পষ্ট বলা হয়েছে, জাহান্নামের আগুন ওই চোখ স্পর্শ করবে না। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) সূত্রে বর্ণিত হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুটি চোখ জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। প্রথম হলোÑ ওই চোখ, যা আল্লাহর ভয়ে কাঁদে। দ্বিতীয়তÑ ওই চোখ, যা আল্লাহর রাস্তায় রাত জাগরণ করে।’Ñ জামে তিরমিজি : ১৬৩৩
সৃষ্টিকর্তা আল্লাহতায়ালার ভয়ে কান্না করা চোখের পানির মূল্য অনেক। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে মুমিন বান্দার দুচোখ থেকে আল্লাহর ভয়ে পানি বের হয়ে আসে, যদিও তা মাছির মাথা পরিমাণ হয় এবং তা কপাল বেয়ে পড়ে, তাতে আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেন।’Ñ ইবনে মাজা : ৪১৯৭
আরেক হাদিসে বলা হয়েছেÑ আল্লাহতায়ালার ভয়ে কাঁদায় আরশের ছায়া লাভ হয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা সাত ব্যক্তিকে সেই দিন (কেয়ামতের দিন) তার আরশের ছায়া দান করবেন, যেদিন তার ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না। তারা হলেনÑ ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ (রাষ্ট্রনেতা), সেই যুবক যার যৌবন আল্লাহর ইবাদতে অতিবাহিত হয়, সেই ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদসমূহের সঙ্গে লটকে থাকে (মসজিদের প্রতি তার মন সদা আকৃষ্ট থাকে)। সেই দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা স্থাপন করে; যারা এই ভালোবাসার ওপর মিলিত হয় এবং এই ভালোবাসার ওপরই চিরবিচ্ছিন্ন (তাদের মৃত্যু) হয়। সেই ব্যক্তি যাকে কোনো কুলকামিনী সুন্দরী (অবৈধ যৌনমিলনের উদ্দেশ্যে) আহ্বান করে, কিন্তু সে বলেÑ আমি আল্লাহকে ভয় করি। সেই ব্যক্তি যে দান করে গোপনে, এমনকি তার ডান হাত যা প্রদান করে, তা তার বাম হাত পর্যন্ত জানে না। আর সেই ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে; ফলে তার উভয় চোখে পানি বয়ে যায়।’Ñ সহিহ বোখারি : ৬৬০
আরেকটি বিষয়, চোখ আল্লাহতায়ালার দেওয়া এক বিশেষ নেয়ামত। আল্লাহ প্রদত্ত এই নেয়ামতের শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা হলোÑ অবৈধ ও নিষিদ্ধ বস্তু থেকে সেটাকে বিরত রাখা। যারা আপন চোখ অবৈধ দৃষ্টি থেকে বিরত রাখে তাদের ব্যাপারেও হাদিসে অনেক ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির চোখ জাহান্নামের আগুন দেখবে না। যে চোখ আল্লাহর রাস্তায় পাহারা দেয়। আর যে চোখ আল্লাহর ভয়ে কান্না করে। আর যে চোখ আল্লাহর নিষিদ্ধ বস্তু থেকে বিরত থাকে।’Ñ মাজমাউজ যাওয়াঈদ : ৫/৩৭৪