আলী আজম
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৫৮ এএম
কুমিল্লা নগরীর মুরাদপুরে ১৭৩ বছরের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে জানু মিয়া মসজিদ। ১৮৪৯ সালে নির্মিত মসজিদটি প্রাচীন কারুশিল্পের অন্যতম নিদর্শন। কালের সাক্ষী হয়ে স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে থাকা তিন গম্বুজবিশিষ্ট ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি জানু মিয়া মসজিদ নামে পরিচিত হলেও এর প্রতিষ্ঠাতা খান বাহাদুর আশরাফ আলী। তিনি এই এলাকার জমিদার ছিলেন। তিনি ১৮৪৯ সালে ‘আশরাফিয়া জামে মসজিদ’ নামে এটি নির্মাণ করেন।
পরবর্তিতে পর্যায়ক্রমে মুসল্লির সংখ্যা বাড়তে থাকলে ১৯৯০ সালে মসজিদটি সম্প্রসারণ করায় বর্তমানে এর আয়তন ১০ হাজার বর্গফুট। মসজিদটি খান বাহাদুর আশরাফ আলী প্রতিষ্ঠা করলেও কালের আবর্তনে তার নাতি প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ এবং কবি কাজী নজরুল ইসলামের সহচর জানে আলম চৌধুরী (জানু মিয়া) নামে পরিচিত পায়।
মসজিদের ভেতরে ফার্সি ভাষায় কষ্টিপাথর দিয়ে প্রতিষ্ঠাতার নাম ও সাল লিপিবদ্ধ রয়েছে। ভেতরের টেরাকোটার অসাধারণ কারুকার্য এখনও পর্যন্ত সজ্জিত রয়েছে। পুরো মসজিদটি চুন আর পাথর দিয়ে নির্মিত। মসজিদটির মেহেরাব অন্যান্য মসজিদ থেকে অনেক ভিন্ন। অন্যান্য মসজিদের মেহেরাব মসজিদের বাইরের দিকে অথচ এই মসজিদের মেহেরাব মসজিদের ভেতরের দিকে। মসজিদটিতে রয়েছে ৩টি গম্বুজ, ৪টি মিনার ও ৩৬ ধরনের নকশা।
মসজিদে একসঙ্গে আড়াই হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন। মসজিদের বর্তমান মোতোয়াল্লি অধ্যাপক আমীর আলী চৌধুরী বলেন, খান বাহাদুর আশরাফ আলী দিল্লি থেকে কারিগর আনিয়ে মসজিদটি তৈরি করেছিলেন। মসজিদের ভেতরে যত নকশা সব দিল্লির কারিগররাই করেছেন। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ মসজিদটি দেখতে আসেন।