শাহীন হাসনাত
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৫২ এএম
প্রতীকী ছবি।
সুদকে ইসলাম হারাম ঘোষণা করেছে। ফলে কোনো ব্যক্তির পক্ষে সুদের ভিত্তিতে অর্থ নেওয়া সম্ভব নয়। এজন্যই আল্লাহতায়ালা করজে হাসানার নিয়ম করে দিয়েছেন, যেন মানুষ সাময়িকভাবে সুদ ছাড়া করজে হাসানা নিতে পারে এবং পরে তা শোধ করে দিতে পারে। করজে হাসানার অর্থ হলো ‘উত্তম ঋণ’। পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াতে করজে হাসানার কথা উল্লেখ আছে। করজে হাসানার ব্যবহারিক অর্থ হলো এমন ঋণ বা করজ দেওয়া, যেটা সময়মতো পরিশোধ করা হবে; কিন্তু দাতা কোনো অতিরিক্তি অর্থ নিতে পারবেন না। এর উদ্দেশ্য, মানুষের উপকার ও প্রয়োজন পূরণ।
কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘এমন কে আছে যে, আল্লাহকে করজ দেবে, উত্তম করজ; অতঃপর আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ-বহুগুণ বৃদ্ধি করে দেবেন। আল্লাহই সংকুচিত করেন এবং তিনিই প্রশস্ততা দান করেন এবং তারই নিকট তোমরা সবাই ফিরে যাবে।’ Ñ সূরা বাকারা : ২৪৫
বর্ণিত আয়াতে সৃষ্টিকর্তা দয়াময় আল্লাহকে ঋণ দেওয়ার এ অর্থও বলা হয়েছে যে, তার বান্দাদেরকে ঋণ দেওয়া এবং তাদের অভাব পূরণ করা। তাই হাদিসে অভাবীদের ঋণ দেওয়ার অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। করজ দিলে করজদাতার সম্পদ বৃদ্ধির কথাও হাদিসে এসেছে। হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কোনো একজন মুসলিম অন্য মুসলিমকে দুইবার ঋণ দিলে এ ঋণদান আল্লাহর পথে সে পরিমাণ সম্পদ একবার সদকা করার সমতুল্য।’Ñ ইবনে মাজাহ : ২৪৩০
আরেক হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই উত্তম, যে তার (ঋণের) হককে উত্তমরূপে পরিশোধ করে। তবে যদি অতিরিক্ত দেওয়ার শর্ত করা হয়, তাহলে তা সুদ এবং হারাম বলে গণ্য হবে।’Ñ সহিহ বোখারি : ২৬০৬
কুরআন মাজিদের আয়াত ও হাদিসের আলোকে ইসলাম পরামর্শ দেয়, বিশেষ প্রয়োজনে কেউ ঋণ চাইলে সামর্থ্য থাকলে এবং উপযুক্ত মনে হলে তাকে ঋণ দেওয়া। ঋণ দেওয়া মূলত কোনো প্রয়োজনগ্রস্তকে সাহায্য করা। এজন্য কুরআন-হাদিসে মুখাপেক্ষীকে সাহায্যের যে সওয়াব ও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, তা এখানেও প্রযোজ্য। এ কারণে ঋণ দেওয়ার গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে একটি হাদিস উল্লেখ করা যেতে পারে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘মুসলিম মুসলিমের ভাই। সে তার ওপর জুলুম করে না। তার সাহায্য ত্যাগ করে না। যে তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণে থাকে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণে থাকেন। আর যে কোনো মুসলিমের একটি বিপদ দূর করবে, আল্লাহ তার কেয়ামতের দিনের বিপদসমূহ থেকে একটি বিপদ দূর করবেন।’Ñ সহিহ বোখারি : ২৪৪২।
বর্ণিত হাদিসে বিষয়বস্তু, ঋণ দেওয়ার গুরুত্ব ও ফজিলত একাধিকভাবে বিশ্লেষণ করা যায়। এখানে মুসলিম ভ্রাতৃত্বের এক দাবি এই উল্লেখ করা হয়েছে যে, সে তার ভাইয়ের সাহায্য ত্যাগ করে না। এদিক থেকে বিবেচনা করলে ঋণ দেওয়ার গুরুত্ব খুবই স্পষ্ট। হাদিসটির পরের অংশে মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ এবং বিপদ দূর করার ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। আর ঋণ তো সেটিরই একটি উপায়।
ইসলাম শুধু ঋণ প্রদানে উৎসাহ দেয় না, ঋণগ্রহণেও সতর্ক থাকার কথা বলে। ইসলামের পরামর্শ হলো, ঋণগ্রহীতা সময়মতো পরিশোধের প্রবল ধারণার ভিত্তিতে ঋণ নেবে এবং এর জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবে। কোনোভাবেই ঋণ পরিশোধে টালবাহানা কিংবা অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করবে না। এর শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ।