শাহীন হাসনাত
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৫ ১১:১৬ এএম
প্রতীকী ছবি।
মানবজীবনে যাবতীয় কল্যাণ-অকল্যাণ, ভালো-মন্দ সবকিছুর মালিক সৃষ্টিকর্তা দয়াময় আল্লাহতায়ালা। সুতরাং কোনো বিষয়ে কল্যাণ কামনা করে যেমন আল্লাহতায়ালার কাছে চাইতে হবে, তেমনি অকল্যাণ থেকে বাঁচার জন্যও চাইতে হবে। মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো, সব ধরনের বিপদাপদ ও মুসিবতে যেমন আল্লাহর কাছে চাইবে, তেমনি সুখ, শান্তি, ভালো অবস্থা, কল্যাণময় মুহূর্ত ও নেয়ামতের মধ্যে থাকলেও আল্লাহর কাছে কল্যাণের স্থায়িত্ব ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করবে।
কেউ কেউ এমন আছেন বিপদে পড়লে আল্লাহর কাছে চান, ভালো অবস্থায় থাকলে চাওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না। এমন আচরণ মুমিনের কাছ থেকে কাম্য নয়। ভালো অবস্থার মধ্যে থেকেও কেন আল্লাহর কাছে চাইতে হবেÑ এ প্রসঙ্গে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি চায় সে কঠিন বিপদ ও যন্ত্রণা দুর্দশার সময় আল্লাহ তার প্রার্থনায় সাড়া দেবেন, সে যেন সুখ-শান্তি ও সচ্ছলতার সময়ও বেশি বেশি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে।’Ñ জামে তিরমিজি
মানুষের সহজাত একটি প্রবৃত্তি হলো, মানুষ অসহায় অবস্থায় পড়লে আল্লাহকে ডাকে, কিন্তু সচ্ছলতার সময় ভুলে যায়। মানুষ বিপদে পতিত হলে আল্লাহকে স্মরণ করে বারবার একনিষ্ঠভাবে দোয়া করে। আবার যখন বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্ট দূর হয়ে যায়; যখন সে কল্যাণের মধ্যে ফিরে আসে তখন সে বেমালুম আল্লাহকে ভুলে যায়।
কুরআনে কারিমে বান্দার এমন অকৃতজ্ঞ আচরণের সমালোচনা করে জাহান্নামি হওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘দুঃখ-মুসিবত যখন মানুষকে স্পর্শ করে তখন সে তার প্রতিপালককে ডাকতে থাকে তাঁর প্রতি বড়ই একনিষ্ঠ হয়ে। অতঃপর তিনি যখন নিজ পক্ষ থেকে অনুগ্রহ দিয়ে তাকে ধন্য করেন, তখন আগে সে যেজন্য তাঁকে ডেকেছিল তা ভুলে যায় এবং অন্যদের আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় করায় তাঁর পথ থেকে পথভ্রষ্ট করার জন্য। বলে দাও, কুফুরির জীবন কিছুকাল ভোগ করে নাও, (অতঃপর) তুমি তো হবে জাহান্নামের অধিবাসী।’Ñ সূরা জুমার : ৮
আল্লাহতায়ালার কাছে বিপদ থেকে মুক্তি চেয়ে উদ্ধারের পর এমন আচরণ বান্দাকে জাহান্নামে নিপতিত করে, এমন আচরণ কখনও কাম্য নয়। এ প্রসঙ্গে উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, মাঝনদীতে থাকা কোনো নৌযান যদি ঝড়-তুফানের কবলে পড়ে তখন উদ্ধার পাওয়ার জন্য যাত্রীরা সবাই আল্লাহর নাম জপতে থাকে, ঝড়ের কবল থেকে বাঁচার জন্য একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর কাছে চাইতে থাকে। কিন্তু ঠিক যখন ঝড় থেমে যায় কিংবা নিরাপদে কূলে ভিড়ে তখন তারা আল্লাহর কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে সব বাহবা জানায় নাবিককে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা কুরআন মাজিদে বলেন, ‘তারা যখন নৌযানে আরোহণ করে তখন আন্তরিক নিষ্ঠার সঙ্গে তারা আল্লাহকে ডাকে, তার পর যখন তিনি তাদেরকে নাজাত দিয়ে কূলে নিয়ে আসেন, তখন তারা শিরক করতে থাকে।’Ñ সূরা আনকাবুত : ৬৫
এ তো গেল দোয়ার সর্বব্যাপী অবস্থা। এর বাইরে মুমিন-মুসলমান শুধু নিজের জন্য দোয়া করবেন না বরং নিজের পাশাপাশি অপরের জন্যও দোয়া করবেন। নিজের পিতা-মাতা, ভাই-বোন, সন্তান-সন্ততি, আত্মীয়স্বজন পরিবার-পরিজনের জন্য দোয়া করবেন। পাশাপাশি অপর মুসলিম ভাইবোন এবং বিশ্বের নির্যাতিত নিপীড়িত মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্যও দোয়া করবেন। এ ব্যাপারে কুরআন মাজিদে অনেক দোয়া উল্লেখ রয়েছে। কুরআনে কারিমে একটি দোয়া এভাবে উল্লেখ হয়েছেÑ (উচ্চারণ) ‘রাব্বানাগফিরলানা ওয়ালি ইখওয়ানিনাল্লাজিনা সাবাকুনা বিল ঈমান, ওয়ালা তাজয়াল ফি কুলুবিনা গিল্লাললিল্লাজিনা আমানু; রাব্বানা ইন্নাকা রাউফুর রাহিম।’ অর্থÑ ‘হে আমাদের প্রভু! আপনি আমাদের ক্ষমা করুন এবং ঈমানের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভাইদের ক্ষমা করুন। আর আপনি আমাদের অন্তরে মুমিনদের বিরুদ্ধে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ বা অমঙ্গলের ইচ্ছা রাখবেন না। হে আমাদের প্রভু! নিশ্চয় আপনি মহাকরুণাময় ও পরম দয়ালু।’Ñ সূরা হাশর : ১০
আল্লাহতায়ালা সবাইকে সর্বাবস্থায় তাঁর স্মরণ এবং আশ্রয় লাভের তওফিক দান করুন। আমিন।