শাহীন হাসনাত
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৫ ১১:১২ এএম
ছবি: সংগৃহীত
একজন মুমিনের জীবনে প্রকৃত সাফল্য হলো, যার মাধ্যমে সে দুনিয়া ও আখেরাতে আল্লাহতায়ালার রহমত ও সন্তুষ্টি লাভ করে। যে সফলতার কথা কুরআন মাজিদে এসেছে। ‘প্রতিটি প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে এবং তোমাদের সবাইকে কেয়ামতের দিন (তোমাদের কর্মের) পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে। তখন যাকেই জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই প্রকৃত অর্থে সফলকাম। আর এই পার্থিব জীবন তো প্রতারণার উপকরণ ছাড়া কিছু নয়।’Ñ সূরা আল ইমরান : ১৮৫
হজরত সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, হজরত নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের কারও চাবুক (এর দৈর্ঘ্য প্রস্থ) পরিমাণ জান্নাতের জায়গা, দুনিয়া ও দুনিয়ায় অবস্থিত সব বস্তু অপেক্ষা উত্তম।’ হজরত সাহল (রা.) বলেন, এ কথা বলার পর নবী করিম (সা.) নিম্নোক্ত আয়াত তেলাওয়াত করেন, ‘যাকেই জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই প্রকৃত অর্থে সফলকাম।’Ñ তাফসিরে ইবনে কাসির : ২/১৭৮
কুরআনে কারিম ও হাদিসে নানাভাবে নানা জায়গায় কেয়ামতের দিন জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়ার মাধ্যমে মুমিনদের সফলতা লাভের কথা বলা হয়েছে। সেই কাঙ্ক্ষিত সফলতা লাভে প্রত্যেকের আগ্রহ থাকা স্বাভাবিক। সেই সফলতা অর্জনে কিছু গুণ ও বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে। এর কয়েকটি হলোÑ
ঈমান ও নেক কাজ : কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্য রয়েছে এমন জান্নাত, যার তলদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত হয়। এটাই মহা সফলতা।’Ñ সূরা বুরূজ : ১১
হাদিসে রাসুলে করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি পছন্দ করে যে, তাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করা হোক এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হোক, তার কাছে যেন এমন অবস্থায় মৃত্যু আসে, যখন সে আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের প্রতি ঈমান রাখে এবং সে যেন মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করে, তার প্রতি অন্যের যেমন আচরণ সে পছন্দ করে।’Ñ সহিহ মুসলিম : ১৮৪৪
আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য : কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রাসুলের আনুগত্য করবে, তিনি তাঁকে এমন জান্নাতে দাখিল করবেন, যার তলদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত। তারা তাতে থাকবে চিরদিন। আর এটাই মহাসফলতা। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবাধ্যতা করবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে, তিনি তাকে দাখিল করবেন জাহান্নামে, যাতে সে সর্বদা থাকবে এবং তার জন্য থাকবে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।’Ñ সূরা নিসা : ১৩-১৪
আল্লাহভীতি : আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তার অবাধ্যতা পরিহার করে চলে (তাকওয়া অবলম্বন করে), তারাই সফলকাম।’Ñ সূরা নুর : ৫২
সত্যবাদিতা : ইরশাদ হয়েছে, (কেয়ামতের দিন) আল্লাহতায়ালা বলবেন, এটা সেই দিন, যেদিন সত্যবাদীদের তাদের সত্যতা উপকৃত করবে। তাদের জন্য রয়েছে এমন জান্নাত, যার তলদেশে নহরসমূহ প্রবহমান। তাতে তারা সর্বদা থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। এটাই মহাসফলতা।Ñ সূরা মায়িদা : ১১৯
সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি : আল্লাহতায়ালা বলেন, মুমিন নর ও মুমিন নারী পরস্পরে একে-অন্যের সহযোগী। তারা সৎকাজের আদেশ করে, অসৎ কাজে বাধা দেয়, নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, জাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে। তারা এমন লোক, যাদের প্রতি আল্লাহ নিজ রহমত বর্ষণ করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমতারও মালিক, হেকমতেরও মালিক। আল্লাহ মুমিন নর ও মুমিন নারীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এমন উদ্যানরাজির, যার তলদেশে নহর বহমান থাকবে। তাতে তারা সর্বদা থাকবে এবং এমন উৎকৃষ্ট বাসস্থানের (প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন), যা সতত সজীব জান্নাতে থাকবে। আর আল্লাহর সন্তুষ্টিই সর্বশ্রেষ্ঠ জিনিস (যা জান্নাতবাসীরা লাভ করবে)। এটাই মহাসফলতা।Ñ সূরা তওবা : ৭১-৭২