প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৫ ০৯:০০ এএম
মহাষ্টমীতে ‘কুমারী পূজা’ শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম মূল আকর্ষণ। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মঠে এ পূজার আয়োজন করা হয়। সকাল ৬টা ৩৩ মিনিটে শুরু হয় মহাষ্টমী পূজা। আর কুমারী পূজা শুরু হয় বেলা ১১টায়, যা শেষ হয় দুপুর ১২টায়। দেশের বিভিন্ন মণ্ডপেও একই আয়োজন ছিল। কুমারী বালিকার মধ্যে বিশুদ্ধ নারীর রূপ কল্পনা করে তাকে দেবী জ্ঞানে পূজা করেন ভক্তরা। এবারও কুমারী পূজায় মন্দির-মণ্ডপে ছিল ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। আজ বুধবার মহানবমী পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজকরা জানান, মহাষ্টমীর দিন সাধারণত এক থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা ব্রাহ্মণ বা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কুমারীকে দেবী জ্ঞানে পূজা করা হয়। রামকৃষ্ণ মঠে এবার কুমারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে সাত বছর বয়সের লাবণ্য চট্টোপাধ্যায়। শাস্ত্র মতে, কুমারী দেবীর নাম রাখা হয়েছে ‘মালিনী’। তাকে ভোরে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। তারপর সাজিয়ে কপালে সিঁদুর, পায়ে আলতা ও হাতে ফুল দেওয়া হয়। পরে তাকে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপচারে (১৬ উপাদান) দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়। এ সময় চারদিকে শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বোল, উলুধ্বনি ও দেবী স্তুতিতে মুখর হয়ে ওঠে।
বেলা ১১টায় ‘কুমারী মায়িকি জয়, দুর্গা মায়িকি জয়’ ধ্বনিতে কুমারী দেবীকে মণ্ডপে আনা হয়। এ সময় দুর্গা প্রতিমার সামনে কুমারী দেবীর বেদি স্থাপন করা হয়। পূজা শুরুতেই মন্ত্রপাঠ ও প্রার্থনা করা হয়। পরে পঞ্চ উপকরণে কুমারী দেবীকে আরাধনা করেন পুরোহিত ও ভক্তরা। পূজা চলাকালে ওই কুমারী ভক্তদের আশীর্বাদ করে। পূজার ফাঁকে ঢাক-ঢোল, শঙ্খ, কাঁসর ও ঘণ্টা ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠে মণ্ডপ। ভক্তরা ঘুরে ঘুরে উলুধ্বনি দেন। এরপর প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
মহাষ্টমী পূজায় রামকৃষ্ণ মিশনের পাশাপাশি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা কালী মন্দির, আনন্দময়ী আশ্রম, বরোদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশান, সিদ্ধেশ্বরী কালিমাতা, ভোলানাথ মন্দির আশ্রম, জগন্নাথ হল, ঋষিপাড়া গৌতম মন্দির, শাখারী বাজার পানিটোলা মন্দিরসহ বিভিন্ন মণ্ডপে সকাল থেকেই দেবী দর্শনে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সকালে অষ্টমী পূজার পুষ্পাঞ্জলি শুরু হলে ভিড় বাড়তে থাকে। ফুলে-ফলে ভরে যায় মন্দির চত্বর। সন্ধ্যা আরতিতে ভিড় আরও বাড়ে।
আজ মহানবমী : পঞ্জিকানুযায়ী আজ বুধবার মহানবমী পূজা। রাত ৩টা ৫ মিনিট পর মহানবমী আরম্ভ ও ৮টা ৫৮ মিনিটের মধ্যে মহানবমীর বিহিত পূজা শেষ হবে। অনেকের বিশ্বাস- মহানবমীর দিন হচ্ছে দেবী দুর্গাকে প্রাণ ভরে দেখে নেওয়ার ক্ষণ। এই দিন অগ্নিকে প্রতীক করে সব দেবদেবীকে আহূতি দেওয়া হয়। অগ্নি সব দেবতার যজ্ঞভাগ বহন করে যথাস্থানে পৌঁছে দিয়ে থাকেন। এই দিনই দুর্গাপূজার অন্তিম দিন। পরের দিন কেবল বিজয়া ও বিসর্জনের পর্ব। কাল বৃহস্পতিবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে শারদ দুর্গোৎসব।