হাসনাত শাহীন
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৯:০০ এএম
অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভ শক্তির জয়ের আকুতির পাশাপাশি সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমীতে দুর্গতিনাশিনী দেবীর কাছে প্রার্থনা জানিয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। তাদের বিশ্বাস- সপ্তমীতে পূজা দিলে ‘সাত জনমের পাপ মোচন হয়ে যায়’। সোমবার নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপনের মাধ্যমে সপ্তমী পূজায় অংশ নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ‘মা’ দুর্গার কাছে এই প্রত্যাশা জানিয়েছেন। এদিকে আজ মঙ্গলবার মহাষ্টমীতে অনুষ্ঠিত হবে কুমারী পূজা।
শারদীয় দুর্গোৎসবের দ্বিতীয় দিনে গতকাল সোমবার সারা দেশে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় মর্যাদায় এই মহাসপ্তমী উদযাপিত হয়েছে। নবপত্রিকা স্থাপনের মধ্যদিয়ে মহাশক্তি আনন্দময়ীর পূজা শুরু হয়। মহাসপ্তমীতে ষোড়শ উপচারে অর্থাৎ ষোলোটি উপাদানে দেবীর পূজা হয়। সকালে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান করা হয়। সেই সঙ্গে দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, স্থানীয়, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ দিয়ে দেবীর পূজা করেন ভক্তরা। এদিনের আয়োজনে আরও ছিল- কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা।
সকালে পূজা শুরু হলেও দুপুরের পর থেকে মণ্ডপগুলোতে ঢল নামে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের। শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীই নন, সব ধর্মের দর্শনার্থীরাই মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা দেখতে ভিড় করেন। ভক্তরা প্রার্থনায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন। পূজা শেষে বিতরণ করা হয়েছে মহাপ্রসাদ। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে প্রসাদ নিতে দেখা গেছে ভক্তদের।
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ধর্মদাশ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘সপ্তমীতে পূজা দিলে সপ্তজনমের, মানে সাত জনমের পাপ মোচন হয়ে যায়। আর অষ্টমীতে ‘অষ্টমঙ্গল লাভ’ করা হয়। নবমীতে ‘পূর্ণপূজা’র পর দশমীতে দেবী ‘অপরাজিতা’ হন। দশমীতে দেবীকে বিদায় জানানোর বেদনাও জেগে ওঠে।’
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা কাজল দেবনাথ বলেন, ‘আমাদের সবার প্রত্যাশা অশুভ শক্তির যেন ‘দমন’ হয়, শুভ শক্তির জয় হয়।’
আজ মহাষ্টমী
আজ মঙ্গলবার শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষ্টমী। প্রতিবছরের মতো এবারও সকালে হবে কুমারী পূজা। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকানুযায়ী, আজ সকাল ৬টা ১০ মিনিটের মধ্যে দুর্গাদেবীর মহাষ্টম্যাদি বিহিত পূজা শুরু হবে। বেলা ১১টায় শুরু হবে কুমারী পূজা। প্রতিবারের মতো এবারও ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনে অনুষ্ঠিত হবে কুমারী পূজা। সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে শুরু হবে সন্ধিপূজা।