শাহীন হাসনাত
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৪৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহতায়ালা তার দয়ালু বান্দাদের ওপরই দয়া করেন।’ সহিহ বোখারি : ৭৪৪৮
বর্ণিত হাদিসের ব্যাখ্যায় ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেছেন, সাধ্যমতো মানুষের উপকার করতে চেষ্টা করা মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মুমিন সর্বদা অন্যের কল্যাণকামী হয়। ফলে আল্লাহতায়ালা তাদের প্রতি দয়া করেন। তাদের দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনকে সহজ করে দেন। আর উপকারের একটি সহজ উপায় হলোÑ অন্যের ভালো চাওয়া, অন্যের কল্যাণ ও মঙ্গল কামনা করা।
ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যের জন্য কল্যাণ কামনা নিজের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। এটি ঈমানেরও একটি অংশ। তাই তো নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে কল্যাণকামী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। এমনকি তাদের থেকে অন্য মুসলিম ভাইয়ের কল্যাণকামী হওয়ার বায়াত (আনুগত্যের শপথ) পর্যন্ত গ্রহণ করেছেন।
শুধু তাই নয়, মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে তার বান্দাদের মুমিন ভাইয়ের প্রতি কল্যাণকামী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। তাদের প্রতি আন্তরিকতা বৃদ্ধির দোয়া করার শিক্ষা দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! ক্ষমা করো আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদেরও, যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে এবং আমাদের অন্তরে ঈমানদারদের প্রতি কোনো হিংসা-বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি অতি মমতাবান, পরম দয়ালু।’ সূরা হাশর : ১০।
এই আয়াতটি বিশেষ একটি প্রেক্ষাপটে নাজিল হলেও এর দ্বারা বোঝা যায়, এক মুমিনের জন্য অন্য মুমিনকে হিংসা করা বা তার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা জায়েজ নয়; বরং এক মুমিন অন্য মুমিনের কল্যাণ কামনা করতে হবে। তাকে দাবিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত না থেকে তার উপকার করার চেষ্টা করবে।
কারণ কল্যাণকামিতা এমন একটা চারিত্রিক গুণ, যার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত পাওয়া যায়। যে মুমিন তার অন্য মুমিন ভাইয়ের কল্যাণের জন্য দোয়া করে, আল্লাহর ফেরেশতারা সেই মুমিনের কল্যাণের জন্য দোয়া করে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলমান বান্দা তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করলে একজন ফেরেশতা তার জবাবে বলেন, আল্লাহ তোমাকেও অনুরূপ দান করুন। সহিহ মুসলিম : ৬৬৭৮
উল্লিখিত হাদিসে অন্য ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে দোয়া করার কথা বিশেষভাবে এজন্য উল্লেখ করা হয়েছে যে, এতে মুমিনের ভাইয়ের প্রতি তার গভীর আন্তরিকতা ও শক্তিশালী ভালোবাসা স্পষ্ট হয়। দোয়ায় পরিপূর্ণ আন্তরিকতা ফুটে ওঠে। প্রকাশ্যে সামনাসামনি দোয়ায় অনেক ক্ষেত্রে লৌকিকতা ও হীন স্বার্থের অনুপ্রবেশ ঘটার সুযোগ থাকে। মানুষ অনেক সময় আর্থিকভাবে লাভবান হতে কিংবা কোনো সুবিধা গ্রহণ করতে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা তার অনুসারীদের সামনে অনেক কৃত্রিম আন্তরিকতা প্রকাশ করে, শুনিয়ে শুনিয়ে দোয়া করে, কিন্তু তাদের অন্তরে মূলত কোনো শ্রদ্ধা বা আন্তরিকতা থাকে না, থাকে শুধুই স্বার্থ।
তাই মুমিনের উচিত পরিপূর্ণ একনিষ্ঠতা ও ভালোবাসা নিয়ে অন্য মুমিনের কল্যাণে দোয়া করা। এতে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমতপ্রাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অন্য মুমিন ভাইয়ের যেমন উপকার হবে, তেমনি নিজেরও উপকার হবে। কেননা আল্লাহ যেসব দোয়া খুব দ্রুত কবুল করেন, তার মধ্যে অন্যতম হলোÑ অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য অনুপস্থিত ব্যক্তির দোয়া। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই সবচেয়ে দ্রুত কবুল হওয়ার দোয়া হলো অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য অনুপস্থিত ব্যক্তির দোয়া। সুনানে আবু দাউদ : ১৫৩৫।
তাই কেউ যদি চায় যে তার জীবনে বরকত, কল্যাণ ও সফলতা আসুক। তাহলে তার উচিত অন্যের সফলতার পথের কাঁটা না হয়ে তার জীবনের বরকত, কল্যাণ ও সফলতার জন্য দোয়া করা। আল্লাহর রহমতের আশায় অন্যের প্রতি দয়া করা, অন্যকে সহযোগিতা করতে চেষ্টা করা। সর্বদা মানুষের কল্যাণকামী হওয়া।