ইসলামি স্থাপত্য
আল মামুন বশির
প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৫৯ এএম
দেশের প্রাচীন মসজিদগুলোর একটি মুন্সীগঞ্জের বাবা আদম (রহ.) মসজিদ। মুন্সীগঞ্জের বাবা আদম মসজিদ বঙ্গে সেন বংশের পতন আর বিক্রমপুরে মুসলিম শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বিক্রমপুরের ইতিহাস প্রসিদ্ধ রামপালের সীমান্তবর্তী বর্তমান মিরকাদিম পৌরসভার কাজী কসবা (বর্তমান দরগাঁবাড়ি) গ্রামে ছয় গম্বুজ বিশিষ্ট কারুকার্যখচিত নয়ানাভিরাম ৫৪২ বছরের পুরনো বাবা আদম মসজিদটির অবস্থান। মসজিদটি ছয়টি সমআকৃতির এবং একই রকম উচ্চতাবিশিষ্ট গম্বুজে আচ্ছাদিত।
জনশ্রুতি রয়েছে, বিক্রমপুরে বল্লাল সেনের রাজত্বকালে ইসলাম ধর্ম প্রচার করতে আসা আধ্যাত্মিক সাধক শহীদ বাবা আদম (রহ.)-এর নামানুসারে মসজিদটির নামকরণ করা হয়।
সুলতানি শাসনামলে নির্মিত মসজিদের মতো বাবা আদমের মসজিদের কার্নিশ ও ছাদ বক্রাকার। মসজিদটির নামকরণ নিয়ে কোনো শিলালিপি নেই। তবে এর সামনের দেয়ালে স্থাপিত শিলালিপি থেকে জানা যায়, সুলতান ফতে শাহের শাসনামলে সুলতান জালাল উদ্দিন আবু জাফর শাহের ছেলে বিক্রমপুরের শাসক মালিক কাফুর শাহ মসজিদটি নির্মাণ করেন। ১৪৭৯ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু করে দীর্ঘ ৪ বছর পর ১৪৮৩ সালে শেষ হয়।
পুরো মসজিদটি নির্মাণ হয়েছে লাল পোড়ামাটি দিয়ে। মসজিদের সম্মুখভাগে তিনটি খিলানাকৃতির প্রবেশ পথ রয়েছে, এর উপরিভাগ সুন্দরভাবে খাজকাটা। ঝুলন্ত শিকল এবং ঘণ্টার অলংকরণ রয়েছে।
বাবা আদম মসজিদটি শুধু মুন্সীগঞ্জেরই নয়, সমগ্র উপমহাদেশের একটি দর্শনীয় স্থান। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ১৯৯১ সালে এ মসজিদের ছবি সংবলিত একটি ডাকটিকেট প্রকাশ করে।