× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নবীজির আহমাদ নামের তাৎপর্য

তাসকিন জাহান

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৪৯ এএম

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:১৩ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একাধিক নাম আছে। তার অন্যতম নাম আহমাদ। হজরত জুবাইর ইবনে মুতয়িম (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আমার পাঁচটি (প্রসিদ্ধ) নাম আছে, আমি মুহাম্মদ, আমি আহমাদ, আমি আল-মাহি (আমার দ্বারা আল্লাহ কুফর ও শিরককে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন)। আমি আল-হাশির (আমার চারপাশে মানবজাতিকে একত্রিত করা হবে)। আমি আল-আকিব (সর্বশেষে আগমনকারী)।Ñ সহিহ বোখারি : ৩৫৩২

আহমাদ শব্দের অর্থ দুটি হতে পারে। এক. মুহাম্মদ শব্দের সমার্থক অর্থাৎ বেশি প্রশংসিত। অন্য অর্থ হলোÑ বেশি প্রশংসাকারী। যেহেতু নবী করিম (সা.) আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে বেশি প্রশংসিত এবং মানুষের কাছে, ফেরেশতাদের কাছে তিনি সমাদৃত আর বিভিন্ন প্রশংসিত গুণাবলি তার মধ্যে বিদ্যমান, তাই তাকে মুহাম্মদও আহমাদ বলা হয়।

দাদা আবদুল মুত্তালিব নবী করিম (সা.)-এর নাম রাখেন ‘মুহাম্মদ’। এই নাম শুনে লোকেরা নাম রাখার কারণ জিজ্ঞেস করে। তিনি বলেন, আমি চাই, আমার সন্তান সারা দুনিয়ায় ‘প্রশংসিত’ হোক।Ñ রহমাতুল্লিল আলামিন : ১/৪১

আর আহমাদ নাম রাখেন মা আমেনা। স্বপ্নের মাধ্যমে ফেরেশতার দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী মা আমেনা তার নাম রাখেন ‘আহমাদ’।Ñ রহমাতুল্লিল আলামিন : ১/৩৯

আহমাদ নাম প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে এসেছে, ‘স্মরণ করো, মরিয়ম-পুত্র ঈসা বলেছিল, হে বনি ইসরাইল, আমি তোমাদের কাছে (প্রেরিত) আল্লাহর রাসুল এবং আমার আগ থেকে তোমাদের কাছে যে তাওরাত এসেছে, আমি তার সমর্থক। আর আমার পরে আহমাদ নামে যে রাসুল আসবেন আমি তার সুসংবাদদাতা...।’Ñ সূরা সাফফ : ৬

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আহমাদ নামের গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য হলোÑ এক. আহমাদ নাম আল্লাহর পক্ষ থেকে স্বপ্নযোগে প্রাপ্ত নাম। দুই. এই নামে তিনি ফেরেশতাকুল তথা আসমানবাসীর কাছে পরিচিত। তিন. আগের আসমানি কিতাবে তিনি এই নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন। চার. কেয়ামতের আগে দাজ্জালের আবির্ভাব এই আহমাদ নামের সঙ্গে সম্পৃক্ত, ঈসা (আ.)-এর আগমন এই আহমাদ নামের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং ইমাম মাহদির আগমন এই নামের সঙ্গে সম্পৃক্ত। হাদিসে এ বিষয়ে ইঙ্গিত আছে।

হজরত মুহজিন বিন আদরা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক দিন হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষের উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, মুক্তির দিন, মুক্তির দিন কী? মুক্তির দিন, মুক্তির দিন কী? মুক্তির দিন, মুক্তির দিন কী? অতঃপর তাকে বলা হলো, মুক্তির দিন কী? তিনি বলেন, (এক দিন) দাজ্জাল আসবে। সে ওহুদ পাহাড়ে আরোহণ করবে (এবং মদিনা দেখতে পাবে)। সে তার সঙ্গীদের বলবে, তোমরা কি এই সাদা প্রাসাদ দেখছ? এটি আহমাদ (সা.)-এর মসজিদ। এবং মদিনার সন্নিকটে আসবে। মদিনার প্রতিটি প্রবেশপথে সে ফেরেশতাদের সারিবদ্ধভাবে পাহারায় নিয়োজিত দেখতে পাবে। অতঃপর সে (মদিনার অদূরে) জুরুফ-এর অনুর্বর জমিতে নেমে আসবে এবং মদিনা শহরের তোরণ ধরে আঘাত করবে। অতঃপর মদিনা তিনবার কেঁপে উঠবে। তখন মদিনা থেকে সব মুনাফিক নর-নারী, পাপাচারী নর-নারী বের হয়ে যাবে। সেদিনটিই মুক্তির দিন।Ñ মাজমাউজ জাওয়ায়েদ : ৩/৩১১

আহমাদ নামের আরও একটি তাৎপর্য হলো, এই নাম পৃথিবীতে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আগে আর নাম ছিল না। যদিও মুহাম্মদ নাম আগে ছিল কি নাÑ এ বিষয়ে মতপার্থক্য আছে। আহমাদ নাম প্রসঙ্গে হাদিসে এসেছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, আমাকে এমন জিনিস দান করা হয়েছে, যা আমার আগে অন্য কোনো নবীদের দেওয়া হয়নি। আমরা (সাহাবারা) বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, সেগুলো কী? তিনি বললেন, আমাকে বিরল প্রভাব দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে। আমাকে পৃথিবীর ধনভান্ডার দেওয়া হয়েছে। আর আমার নাম আহমাদ রাখা হয়েছে, পুরো জমিনকে আমার জন্য পবিত্রতা অর্জনের উপায় করা হয়েছে আর আমার উম্মতকে সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত বানানো হয়েছে।Ñ সিলসিলা সহিহাহ : ৩৯৩৯

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা