মাহির ইমরোজ
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৫ ১৪:১৭ পিএম
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া পৌর শহরের মিয়াবাড়ি মসজিদ।
প্রাচীন স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন হয়ে আজও টিকে আছে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া পৌর শহরের মিয়াবাড়ি মসজিদ। পৌনে ৪০০ বছরের প্রাচীন এই মসজিদ উপজেলার পোনা নদীর পাড়ে মিয়াবাড়ির সামনে অবস্থিত। চমৎকার নির্মাণশৈলীর এক গম্বুজবিশিষ্ট চারপাশে রয়েছে ফুলের বাগান। সামনেই একটি পুকুর। মসজিদটি জমিদার ভেলাই চোকদারের আমলে তার নির্মিত বলেও জনশ্রুতি রয়েছে।
মসজিদটি ৩০ ফুট লম্বা এবং ১৭ ফুট চওড়া। ধারণা করা হয়, মসজিদটি ১৬০০ খ্রিস্টাব্দের শেষের দিকে নির্মিত। মসজিদটির দেয়ালে লাল ইট আর চুনাপাথরের মিশ্রণের কাজে দিল্লির লাল ইটের স্থাপত্যরীতির প্রভাব রয়েছে। এর দেয়ালগুলোয় রয়েছে ইটের বিন্যাস, পোড়ামাটির ফলকের কাজ। ছাদের গম্বুজ ও খিলানে একসময় সোনালি প্রলেপের কাজ থাকলেও বর্তমানে তা চোখে পড়ে না।
মসজিদের মিহরাব এবং এক গম্বুজের ভেতরের অংশ পাথরের ফুল, চমৎকার লতাপাতা ও আরব্য নকশায় খোদাইকৃত। ভেতরে ও বাইরে রয়েছে পোড়ামাটির নকশার কাজ, যা মোগল ও স্থানীয় শিল্পরীতির নিপুণ সমন্বয়। মসজিদটি নামাজ ছাড়াও বিচারকার্য এবং সভা পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হতো বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে পুরাকীর্তি এ মসজিদ এরই মধ্যে সংস্কার করেছে। এই মসজিদ ছাড়াও এ উপজেলায় স্থানীয় কাজীবাড়ি, ভাণ্ডারিয়া থানার পেছনে ও ভেলাই চোকদারের বাড়িসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের আরও ছয়টি মসজিদ রয়েছে। যেগুলো এখনও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে এখনও কালের সাক্ষী হয়ে পড়ে আছে। স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মসজিদগুলো সংস্কারের দাবি জানান।