সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মক্কা থেকে
প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৫ ০৯:৩৬ এএম
পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশে সারা বিশ্ব থেকে আসা লাখো মুসল্লির পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পবিত্র মক্কা নগরী ও এর আশপাশের এলাকা। হজে এই মুসল্লিদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনি মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি আনুগত্য, বিশ্বাস ও একমাত্র তারই রাজত্বের ঘোষণার এক অপূর্ব মিলনমেলা এবং মুসলিম জাহানের ধর্মীয় অনুভূতির অন্যতম প্রকাশ।
হজ ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের অন্যতম রুকন। সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের জন্য হজ ফরজ। এই পৃথিবীতে মুসলমান জাতির যত নেক আমল রয়েছে, তন্মধ্যে হজ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। রাসূল (সা.) অন্য সকল আমলের ওপর হজের মর্যাদাকে পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্তের দূরত্বের সাথে তুলনা করেছেন। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পবিত্রতার সাথে হজ পালনকারীকে গুনাহমুক্ত নবজাতকের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। কবুল হজের পুরস্কার নিশ্চিত জান্নাত। তাছাড়া হজের প্রতিটি কর্ম সম্পাদনের জন্য রয়েছে পৃথক পৃথক পুরস্কার, ফজিলত ও মর্যাদা। হজের ইবাদতের মাধ্যমে সারা বিশ্বের মুসলিম জাহানের উম্মতরা একত্র হওয়ার এক বিশাল সুযোগ লাভ করেন।
ঢাকার মগবাজার থেকে স্ত্রীসহ হজ করতে এসেছেন ফজলে মোহাম্মদ শাহনওয়াজ। তিনি বলেন, বোঝার বয়স থেকে স্বপ্ন ছিল কবে কাবা শরিফ দেখব। মহান রব্বুল আলামিন সে আশা পূরণ করেছেন বলে তিনি কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, জীবনের শেষ বেলায় স্ত্রীর আশাও পূরণ হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা সহজ ও কবুল করুন।
তিনি আরও বলেন, হজের খরচ অনেক বেশি হওয়ায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজন অনেকেই শেষ সময়ে আসতে পারেননি।
হজ করতে আসা মোহাদ্মাদিছ ওলানা সুয়াইব আবদুর রউফ বলেন, প্রতিবছরই আমাকে হজে আসতে হয়। গত কয়েক বছরে কাবা শরিফ, মিনা, মুজদালিফা, জামারতসহ মক্কা নগরীকে আরও আধুনিক শৈলস্থাপত্যে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে হজ পালন অনেক সহজতর হয়েছে। বিশেষ করে হারাম শরিফের পরিধি বৃদ্ধি করে হাজীদের নামাজ আদায়ের কাজটি সহজ করা হয়েছে।
মাওলানা শরিফ নূরানীর ভাষ্য, প্রতিবছরই উন্নয়ন ও পরিবর্তন হচ্ছে মক্কা নগরীর। সেই সাথে কঠোর নিয়মকানুন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইডি ছাড়া কেউ বের হলে আকস্মিক পুলিশ পরিচয়ে যাচাই করা হচ্ছে। এবার জামারতের ব্যাপক উন্নয়নের কারণে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করার কাজটি সহজতর হবে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৪ সালে মোট ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ১৬৪ জন হজ পালন করেছেন। এর মধ্যে সারা বিশ্ব থেকে ১৬ লাখ ১১ হাজার ৩১০ জন হজ পালন করেছেন, যার মধ্যে বাংলাদেশের ৭৫ হাজার ৫৭৯ জন রয়েছেন। এবার সারা বিশ্ব থেকে কতজন হাজী এসেছেন তা জানা যায়নি। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৮৫ হাজার ১৬৪ জন হাজী হজ পালন করতে সৌদিতে এ