তারিকুল ইসলাম
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৪ ১৮:৫৪ পিএম
কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ। প্রবা ফটো
কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ। এর অবস্থান জেলা সদর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে ঝাউদিয়া গ্রামে। মসজিদটি নিয়ে ছড়িয়ে রয়েছে নানা লোককথা। জনশ্রুতি রয়েছে, অলৌকিকভাবে মসজিদটি নির্মিত হয়েছে। আবার অনেকের মতে, ধর্ম প্রচারের জন্য ইরাক থেকে এ অঞ্চলে আগত শাহ সুফি আদারি ইবাদত-বন্দেগির জন্য মসজিদটি নির্মাণ করেন। ঝাউদিয়া মসজিদের প্রবেশমুখে লেখা আছে, ‘এটির বড় পরিচয় মানুষের তৈরি এবং এটা প্রতিষ্ঠিত হয় মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের শাসনামলে’। কিন্তু কে এ মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন সে বিষয়ের কোনো উল্লেখ নেই। স্থানীয়রাও এ সম্পর্কে কিছু বলতে পারেন না। ইতিহাসবিদদের ধারণা, মসজিদটি মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে নির্মিত। কারণ মুঘল স্থাপত্যের সঙ্গেই মিল রয়েছে এ মসজিদের নির্মাণশৈলীর।
ইট, পাথর, বালি ও চীনামাটি দ্বারা নির্মিত মসজিদটি কুষ্টিয়ার অন্যতম প্রাচীন স্থাপত্য। মসজিদের মূল কাঠামোয় রয়েছে তিনটি গম্বুজ, তিনটি দরজা ও নামাজের জন্য তিনটি কাতার। মসজিদের উপরিভাগে রয়েছে সুদৃশ্য পাঁচটি গম্বুজ এবং ভেতরের প্রবেশ দরজায় দুটি মিনার। এ ছাড়া মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ দিকে রয়েছে চুন ও সুরকি দ্বারা নির্মিত দুটি দৃষ্টিনন্দন জানালা। মসজিদের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর আলপনাসজ্জিত দেয়াল। ১৯৬৯ সালে ঝাউদিয়া মসজিদটি বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তরের নথিভুক্ত হয়। মসজিদটি দেখতে প্রতিদিনই নানা স্থান থেকে দর্শনার্থী আসেন।