চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৪ ১৮:৩১ পিএম
আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৪ ১৮:৩২ পিএম
শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমীতে কুমারী রূপে মা দেবী দুর্গার আরাধনা করেছেন সনাতনী ধর্মাবলম্বীরা। প্রতিবারের ন্যায় এবারও চট্টগ্রাম মহানগরীর পাথরঘাটায় শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ ও শান্তনেশ্বরী মাতৃমন্দিরে কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে কুমারী পূজার অঞ্জলি দিতে সেখানে হাজারো ভক্ত অনুরাগী ভিড় করেন।
এতে কুমারী রূপে দেবীর আসনে সমাসীন হয় ১০ বছর বয়সী প্রীত ধর এবং ১১ বছর বয়সী শুভদ্রা বিশ্বাস। দুই জনের বয়সই ১০ বছরের ওপরে হওয়ায় শাস্ত্রমতে তাদের নাম ‘অপরাজিতা’।
এই কুমারী পূজা পরিচালনা করেন শান্তন্বেশ্বরী মাতৃমন্দিরের পুরোহিত শ্রীমৎ শ্যামল সাধু মোহন্ত মহারাজ। তিনি বলেন, কুমারী আদ্যাশক্তি মহামায়ার প্রতীক। আবার কুমারীরা শুদ্ধতার প্রতীক হওয়ায় মাতৃরূপে ঈশ্বরের আরাধনার জন্য কুমারী কন্যাকে নির্বাচিত করা হয়। মূলত নারীকে যথাযথ মর্যাদায় অধিষ্টিত করতে কুমারী পূজা করা হয়। মাটির প্রতিমায় যে দেবীর পূজা করা হয়, তারই বাস্তবরূপ কুমারী পূজা। কুমারীতে সমগ্রজাতির শ্রেষ্ঠ শক্তি, পবিত্রতা, সৃজনী ও পালনী শক্তিসহ সকল কল্যাণী শক্তি সুহ্মরূপে বিরাজিত। দুর্গাপূজায় কুমারী পূজা হল অশুভ, অন্যায়, পাপ পঙ্কিলতার বিরুদ্ধে ন্যায়, পূর্ণ, সত্য ও সুন্দরের আরাধনা। এতে বিভিন্ন বয়সী কুমারীকে ভিন্ন নামে পূজা করা হয়।
পূজার শুরুতে দুই কুমারীকে ফুল, চন্দন, বেলপাতা, তুলসি পাতা দিয়ে মন্ত্রপাঠ আর স্তুতিতে তাদের বন্দনা করা হয়। পূজা শেষে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করা হয়। অষ্টমী শেষ হবে সন্ধি পূজার মধ্য দিয়ে। অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে এই সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও নগরীর আন্দরকিল্লার রাজাপুর লেইনের শ্রী শ্রী পঞ্চমাতা বিগ্রহ বাড়ি ও সেবাশ্রমেও কুমারি পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কুমারী রূপে দেবীর আসনে সমাসীন হয় ছয় বছর বয়সী রাসমনি চৌধুরী। পুজায় পৌরোহিত্য করেন শ্রীমৎ প্রেমময়নন্দ ব্রহ্মচারী এবং এবার দেবী কুমারী ‘ঊমা’ নামে পুজিত হন।
চট্টগ্রাম পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতারা জানান, এবার চট্টগ্রামে দুই হাজার ৪৫৮টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে মহানগরীর ২৯৩টি ও জেলার ১৫টি উপজেলায় দুই হাজার ১৬৫টি মণ্ডপে এই দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সনাতন ধর্মীবলম্বীদের এই বৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে প্রত্যেক পূজামন্ডপে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।