× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি শ্রমিকরা প্রচণ্ড তাপে মৃত্যুঝুঁকিতে

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৩ ২২:৫৬ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশি শ্রমিকরা প্রচণ্ড তাপে মৃত্যুঝুঁকিতে

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে দিনে প্রচণ্ড তাপের মধ্যে কাজ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকেরা মৃত্যুঝুঁকিতে পড়ছেন। তাপজনিত নানা রোগে কিডনির পাশাপাশি মস্তিষ্ক এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

শনিবার (২৪ জুন) রাজধানীতে অভিবাসন খাতের বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ‘প্রাণঘাতী তাপ : উপসাগরীয় অঞ্চলে অভিবাসী কর্মীদের ওপর চরম তাপমাত্রা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। রামরু এবং অভিবাসন ও উন্নয়নবিষয়ক বাংলাদেশ সংসদীয় ককাস যৌথভাবে আয়োজন করে অনুষ্ঠানটি। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন রামরুর নির্বাহী পরিচালক সি আর আবরার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে বছরে ১০ হাজার প্রবাসী মারা যান। যাদের প্রতি দুজনের মধ্যে একজনের মৃত্যুর কোনো অন্তর্নিহিত কারণ কার্যকরভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। প্রাকৃতিক কারণ বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হিসেবে মৃত্যুসনদ দেওয়া হয়। বিপজ্জনক ঝুঁকি সত্ত্বেও কর্মীদের ওপর তাপের প্রভাব সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। তাপসংক্রান্ত কারণে প্রাণহানি বা কোনো মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রাপ্ত তথ্যের নিবন্ধন নেই। প্রতিবেদনে বলা হয়, চরম তাপ ও সূর্যালোকে দীর্ঘ সময় কাজ দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যার দিকে পরিচালিত করে। এ জন্য আজীবন চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। ফলে অকালমৃত্যু ও অক্ষমতা হয়। দিন ও রাতের তাপমাত্রা বৃদ্ধি শরীরে ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করে এবং শ্বাসতন্ত্র ও হৃদ্‌রোগ, বহুমূত্র রোগ, কিডনি রোগের প্রভাবকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গ্রীষ্মের তাপমাত্রা এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির জন্য ঝুঁকি গড়ে ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চল দীর্ঘ সময় ধরে উত্তপ্ত থাকে। বছরে ১০০ থেকে ১৫০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়। বৈশ্বিক তাপমাত্রা তিন ডিগ্রি বৃদ্ধি পেলে কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ১৮০ দিনের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাবে। এছাড়া কর্মীদের আবাসন, পুষ্টিকর খাবার, স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে রামরুর প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, লাখো প্রবাসী কর্মী মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে, তাই তাদের সুরক্ষায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রবাসী শ্রমিকদের মৃত্যুর তদন্ত প্রক্রিয়া উন্নত করতে হবে। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন ও তাপ থেকে সুরক্ষার জন্য আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানাতে হবে।

রামরুর নির্বাহী পরিচালক সি আর আবরার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে বড় বিষয়। এতে অভিবাসী শ্রমিকেরা বড়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শ্রমিকদের চিকিৎসাসুবিধা পাওয়ার অধিকার এখনও নিশ্চিত হয়নি। সংসদীয় ককাসের সদস্য ও সংসদ সদস্য খোদেজা নাসরিন আক্তার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অসহনীয় গরমে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে প্রবাসীরা জীবন যাপন করছেন। শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। দূতাবাস এ ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে।

সৌদি আরবে ৩৩ বছর ধরে কর্মরত চিকিৎসক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়েই মানুষ মারা যান। এটা মৃত্যুর কারণ নয়। এর পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। কিন্তু সেই কারণ এখানে বলা হচ্ছে না। অথচ সৌদি আরবে মৃত্যুসনদের জন্য হাসপাতালের ফরমে সব ধরনের তথ্য দেওয়া থাকে। সব কারণ উল্লেখ থাকে। এ কারণ জানার অধিকার সবার আছে। তাই দূতাবাসের উচিত এটা পরিষ্কার করে জানানো।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের নেফ্রোলজি বিভাগের দিলদার হোসেন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে পানির দাম বেশি। কর্মীরা পানি কম খান। আবার কাজের চাপে হয়তো সময়ও পান না। কিন্তু প্রচুর ঘাম হয়। এতে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। আবার নিয়মিত প্রস্রাব না করায় সংক্রমণ হয়। বাংলাদেশ অভিবাসী মহিলা শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক ফরিদা ইয়াসমিন অনুষ্ঠানে বলেন, নারী কর্মীরা মানসিক চাপ নিয়েই যান। কর্মস্থলে তাদের থাকার জায়গা ভালো নয়। পুষ্টিকর খাবারও পান না। দূতাবাস সহায়তা করে না। তাই প্রবাসে মৃত্যুর যথাযথ কারণ জানা যায় না।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা