স্পেন প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২১ ঘণ্টা আগে
স্পেনের বার্সেলোনা শহরে ‘বাংলার মেলা’ উদযাপন। ছবি: লেখক
ভূমধ্যসাগরের তীরঘেঁষা স্পেনের বার্সেলোনা শহর যেন এক দিনের জন্য পরিণত হয়েছিল এক টুকরো বাংলাদেশে। প্রবাসজীবনের যান্ত্রিক ব্যস্ততা ভুলে, শেকড়ের টানে এক মোহনায় জড়ো হয়েছিলেন সহস্রাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি। বাংলা গান, লোকজ সংস্কৃতির ছোঁয়া আর দেশীয় খাবারের ম ম গন্ধে মুখর এই বর্ণিল উৎসবের নাম ‘বাংলার মেলা-২০২৬’।
শহরের প্রাণকেন্দ্র রামবলা দেল রাভাল চত্বরে ১১ জুলাই সকাল থেকে শুরু হয়ে রাত ২টা পর্যন্ত চলে এই মিলনমেলা। বার্সেলোনায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ এই সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজক ছিল স্থানীয় বাংলাদেশি সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন কালচারাল ই উমানিতারিয়া দে বাংলাদেশ এন কাতালুনিয়া’।
সন্ধ্যা ৮টায় মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। মিরন নাজমুলের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বার্সেলোনায় নিযুক্ত বাংলাদেশের অনারারি কনসাল রামন পেদ্রো বেরনাউস। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এ কে আজাদ দুলাল, প্রধান উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাফার হোসাইন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে মেলা প্রাঙ্গণ আলোকিত করেন স্পেনের কংগ্রেস সদস্য ও বার্সেলোনার মেয়র পদপ্রার্থী জেরার্দো পিসারেলো, সিউতাত ভেয়া প্রেসিডেন্সির উপদেষ্টা কাউন্সিলর দাভিদ পেকেনিও, সিউতাত ভেয়া জেলার কাউন্সিলর আলবের্তো আলভারেজ, নারী ক্ষমতায়ন বিষয়ক এনজিও এসিইএসওপির প্রেসিডেন্ট ড. হুমা জামশেদসহ স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রাত ৯টায় মাসুদা পারভীন মুন্নি, তাইফা রহমান ও নিগার সুলতানার উপস্থাপনায় শুরু হয় বহু প্রতীক্ষিত সাংস্কৃতিক পর্ব। এবারের মেলার মূল আকর্ষণ ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সালমা, কিশোর ও সাথী খান। তাদের অনবদ্য গায়কিতে মেতে ওঠেন দর্শকরা।
দেশি তারকাদের পাশাপাশি স্পেনপ্রবাসী শিল্পীদের পরিবেশনাও ছিল নজরকাড়া। দিবা, রাজু, তন্ময়, প্রমি, বর্ষা, শামীম ও জয়ের গানের সুরে মুগ্ধ হন উপস্থিত প্রবাসীরা। এছাড়া বার্সেলোনায় বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোর—আলবিনা, উপমা, আমিমা, সারা, তুবা, নীলা, নীলিমা, তানিশা ও সায়েবার চমৎকার নৃত্য পরিবেশনা এবং পান্নার কৌতুক অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
সাংস্কৃতিক আয়োজনের পাশাপাশি মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল দেশীয় খাবারের স্টলগুলো। বিরিয়ানি, রকমারি ভর্তা, বাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠা, ফুচকা, চটপটি ও ঝালমুড়ির মতো মুখরোচক খাবারের স্বাদ নিতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
মেলা শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতি বছরের মতো এবারের ‘বাংলার মেলা’ও প্রবাসীদের জন্য কেবল একটি উৎসব ছিল না; বরং শেকড়ের টানে, সংস্কৃতির বন্ধনে ও পারস্পরিক সম্প্রীতির মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্য আরও সুদৃঢ় করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।