মতামত
জাহিদ খান
প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২৫ ০০:৪৯ এএম
ফ্যাসিস্ট হাসিনাবিরোধী আন্দোলন শুধু দেশের মাটিতে সীমাবদ্ধ ছিল না; বিশ্বের সব দেশে মুক্তিকামী মানুষ লড়েছে সেই জুলুম শাহীর বিরুদ্ধে।
এরমধ্যে আমেরিকার মাটিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল ওয়াশিংটন ডিসি বিএনপি। আমি অন্য কোনো স্টেটের বিএনপিকে ছোট করছি না। কিন্তু এটা সবার বুঝতে হবে হোয়াইট হাউস, স্টেট ডিপার্টমেন্ট, ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস সবকিছুই ওয়াশিংটন ডিসিতে হওয়ায় আন্দোলন সংগ্রামে আমাদের ওপর দায়িত্ব ছিল বেশি। ওয়াশিংটন ডিসি বিএনপি সব আন্দোলনে ছিল অগ্রণী ভূমিকায়। গত ১৭ বছর আমরা ছিলাম আপোসহীন। হাসিনাকে দেশ থেকে তাড়িয়েই আমাদের কাজ শেষ হয়েছে বলে আমি মনে করি না। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে আমরা এখনো ভূমিকা রেখে চলেছি।
ওয়াশিংটন ডিসি বিএনপির সক্রিয়তার কারণেই 'সেভ বাংলাদেশ' নামের ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগঠনটি গড়ে তোলা সহজ হয়েছিল। 'সেভ বাংলাদেশ' - এ শুধু বিএনপির কর্মী ও সমর্থকরা অংশ নেননি। হাসিনাবিরোধী সকল দল ও মতকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল এই সংগঠনটি। ওয়াশিংটন ডিসি বিএনপির এমন সাফল্যের প্রধান কারণ এর টিমওয়ার্ক। এমন অসামান্য সদস্যদের সমন্বয়ে গড়া দল তাই সাফল্য পেয়েছে প্রতিটি পদক্ষেপে। আমি এর জন্য ধন্যবাদ দিতে চাই ডিসি বিএনপির সকল গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, সংগঠক ও নেতাকর্মীদের।
গত রাতে ৭ নভেম্বর উপলক্ষে এই ওয়াশিংটন ডিসি বিএনপির এক আলোচনা সভায় আমরা সবাই মিলিত হয়েছিলাম। আমরা স্মরণ করেছি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানকে। আমরা প্রশংসা করেছি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বকে। আমরা একতাবদ্ধ আছি জননেতা তারেক রহমানের আহবানে। এমন অনেক বিষয় উঠে এসেছিল গত রাতের আলোচনা সভায়।
এখানে একটা ব্যাপার আমি উল্লেখ করতে চাই। সেটা হলো ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ওয়াশিংটন ডিসিতে অনেককেই আমরা দেখছি ফ্যাসিবাদী আমলের সমালোচনা করে মাঠে নামতে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো এই যে গত ১৭ বছর আমরা এদের কাউকে চোখে দেখিনি। আমাদের দলেও প্রবেশ করেছে অনেক হাইব্রিড নেতাকর্মী। আমি কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করব এই হাইব্রিডদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার ব্যাপারে। নেতাকর্মীদের মনে করিয়ে দিতে চাই, আপনারা ভুলে যাবেন না কারা ছিল গত ১৭ বছর আপনাদের পাশে। কারা বাংলাদেশের মাটিতে গত ১৭ বছর ব্ল্যাকলিস্টেড ছিল। কারা হাসিনা খেদাও আন্দোলনে আপোসহীন হয়ে সামনের সারিতে লড়েছে। তাদেরকে যদি আপনারা মনে রাখেন তাহলে হাইব্রিডদের চিনতে আপনাদের সুবিধা হবে।
বিএনপিতে নতুন করে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না, এটা আমি বলছি না। বিএনপির দরজা উন্মুক্ত। কিন্তু চিহ্নিত ফ্যাসিবাদের দালালদের আমাদের দলে নেওয়া হবে না। যারা আগে আমাদের দল করেননি এখন দলে এসেছেন, তাদের বলবো আপনারা অনুগ্রহ করে অগ্রজ ও সিনিয়র নেতাদের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। অতি উৎসাহী হয়ে নিজেরা আগবাড়িয়ে কিছু করবেন না।
আমেরিকার রাজধানী হিসেবে ওয়াশিংটন ডিসি বিএনপির ওপর বাংলাদেশের মর্যাদা ও সম্মান অনেকাংশে নির্ভর করে। সামনের দিনে আমাদের তাই আরো ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আগে যে টিমওয়ার্ক আমরা দেখিয়েছি তা এখনো ধরে রাখতে হবে। তাহলে আমরা সফল হব। দারুণ এক অনুভূতি এই টিমের সাথে কাজ করা। ব্যক্তিগতভাবে আমি ধন্য ও কৃতজ্ঞ ওয়াশিংটন ডিসি বিএনপির একজন সংগঠক হিসেবে। দৃষ্টান্ত হয়ে থাকুক আমাদের ভাতৃত্ব ও একতাবোধ। আমরা লড়তে জানি, গড়তেও জানি। বিএনপির জন্য যেকোনো পরীক্ষায় অংশ নিতে আমরা রাজি। সামনে নির্বাচনের কারণে আমাদের দলের সবাইকে একতাবদ্ধ থাকতে হবে। ওয়াশিংটন ডিসি বিএনপিকে এর দায়িত্বশীলতা প্রমাণ করতে হবে। অতীতের ধারাবাহিকতায় আমরা সফল হবো। ব্যর্থতার কোনো সুযোগ নেই আমাদের ভবিষ্যৎ ছোঁয়ার এই লড়াইয়ে।
[লেখক: জাহিদ খান, ভাইস প্রেসিডেন্ট, ওয়াশিংটন ডিসি বিএনপি]