প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ ১২:১৭ পিএম
আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২ ১২:৪৭ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে নর্থ ক্যারোলাইনার ক্যারিতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসবিষয়ক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশনা। ছবি : প্রবা
সম্প্রতি বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার হিস্ট্রি প্রিজার্ভেশান নেটওয়ার্ক, সম্প্রীতি ফোরাম ও ত্রিভুজ সংগীত সংগঠনের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার ক্যারিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ সম্প্রচার বিষয়ক একটি অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে ছিল আলোচনা, শিশু-কিশোরদের ‘মুক্তিযুদ্ধের মানে কী’ শীর্ষক অনুষ্ঠান, গণসংগীত এবং নাটকের আন্তরিক ও সরব উপস্থাপনা।
আয়োজকরা বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি রোধ করার জন্যই এ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন।
অনুষ্ঠানটির শুরুতেই আলোচনা পর্বে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, লেখক ও বিজ্ঞানী ড. নুরুন নবী, যিনি ১৯৭১ সালে একজন তরুণ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যুদ্ধ করেছেন। ‘৭১-এর ২৫ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর যে আক্রমণ শুরু হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তদানীন্তন ছাত্র নুরুন নবী অন্যদের নিয়ে তাতে বাধাদানের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। শাহবাগের মোড়ে এই বাধা দেওয়ার সময় তারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সরাসরি হামলার মুখোমুখি হন। তিনি এবং অন্যরা সে সময় পাকবাহিনীর আক্রমণের প্রথম শিকার হন। ড. নুরুন নবী মনে করেন এ ঘটনার কারণে তিনি এবং তার সঙ্গে থাকা অন্যরা সম্ভবত ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী দ্বারা প্রথম আক্রান্ত হন।
ড. নবী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিকৃতি এড়াতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দিতে অভিভাবকদের আরও সক্রিয় হতে হবে।’
অনুষ্ঠানে অন্য বক্তা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, বেতার সাংবাদিক, লেখক ও কবি আনিস আহমেদ।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অবিকৃতভাবে সংরক্ষণ করা সম্পর্কে আনিস আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, ‘বিশেষত এখন সেই প্রজন্ম সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করছে, যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্মায়নি কিংবা জন্মালেও ছিল খুব ছোট। মুক্তিযুদ্ধের কথা তারা শুনেছে বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছে। তাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তাদের এবং পরবর্তী প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার প্রয়োজন অস্বীকার করা যায় না।’
তিনি বলেন, ‘সময় যতটা বয়ে যাচ্ছে, ইতিহাস বিকৃতির আশঙ্কা ততটাই বাড়ছে। রাজনৈতিক বিভাজন যে জাতীয় পরিচিতির বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের সৃষ্টি করতে পারে সেসব কারণে অবিকৃতভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জনসমক্ষে আনতে হবে।’
অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্বে শিশু-কিশোররা বাংলাদেশ, মুক্তি ও স্বাধীনতা সম্পর্কে তাদের অনুভূতি পাঠ এবং বাংলা কবিতা আবৃত্তি করে। আল আমিন বাবুর পরিচালনায় সংগীত পরিবেশন করেন নর্থ ক্যারোলাইনার স্থানীয় শিল্পীরা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিল মনোজ কুমার সেনের লেখা ও ড. এবিএম নাসির পরিচালিত নাটক ‘রাজাকারের কিসসা’।
রাজাকারের কিসসায় মূলত এ কথাই বলা হয়েছে, এখনও রাজাকাররা মনে করে একাত্তরে তারা যে অপকর্ম করেছিল সেটা ঠিকই ছিল।
নাটকে বীরাঙ্গনাদের ভূমিকা ছিল মর্মস্পর্শী। এ ছাড়া সুশীলসমাজের নামে যারা যুদ্ধাপরাধীদের অপরাধ লঘু করার চেষ্টা করেন তাদের কথাও ছিল।
অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন ড. এবিএম নাসির।