প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২২ ২০:৩৬ পিএম
আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২২ ২০:৫২ পিএম
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘উপসাগরীয় অঞ্চলে অভিবাসী কর্মীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি: ভাইটাল সায়েন্স রিপোর্ট-২’ শিরোনামের গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: প্রবা
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নিম্ন আয়ের শ্রমিকদের
চিকিৎসা সেবা পেতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় বলে উঠে এসেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক যৌথ
গবেষণা জোট ভাইটাল সায়েন্সের প্রতিবেদনে।
সংস্থাটির দাবি, নিয়োগকর্তারা (কফিল) শ্রমিকদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চায় না। দেশগুলোতে স্থানীয় নাগরিক ও অভিবাসীদের চিকিৎসা সুবিধার মধ্যে রয়েছে নানা বৈষম্য। আর যেসব কর্মী নানা কারণে অবৈধ হয়ে পড়েন, তাদের চিকিৎসা পাওয়া আরও কঠিন। অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে এগুলো ভূমিকা রাখছে। অনেকেই অসুস্থ হয়ে শুধু চিকিৎসার জন্য দেশে ফিরে আসেন।
সোমবার (৫ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে
এক সংবাদ সম্মেলনে ‘উপসাগরীয় অঞ্চলে অভিবাসী কর্মীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি: ভাইটাল
সায়েন্স রিপোর্ট-২’ শিরোনামের গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে জোটের বাংলাদেশী অংশীদার
রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু)।
প্রতিবেদনটি উপস্থাপনের সময় রামরুর নির্বাহী
পরিচালক সি আর আবরার বলেন, ‘প্রবাসীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকে একদমই গুরুত্ব
দেওয়া হয় না। এটা ঠিক, তারা অন্য দেশে থাকেন। তবে সাংবিধানিকভাবে প্রতিটি নাগরিকের
স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। সংশ্লিষ্ট দুই দেশ, নাগরিক সমাজ ও
বহুপক্ষীয় আলোচনাতেও এটা গুরুত্ব পায় না। প্রবাসী কর্মীদের স্বাস্থ্যসংকট কতটা ভয়াবহ,
করোনা মহামারি তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে। বৈধভাবে বিদেশে গিয়েও চিকিৎসা না পাওয়ার
দায় সবাইকে নিতে হবে।’
প্রতিবেদন বলা হয়েছে, গত মে থেকে জুলাই পর্যন্ত কাতারের ১ হাজার ১০১ জন কর্মীর ওপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাবে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে অক্ষম স্বল্প বেতনের অভিবাসীরা। তাদের মধ্যে ২৫ শতাংশ বলেছেন, তারা জাতিগত বৈষম্যের শিকার এবং পুরোপুরি চিকিৎসাবঞ্চিত হন।
সৌদি আরবে সাক্ষাৎকার নেওয়া অভিবাসীরা বলেছেন, স্বাস্থ্য সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে অনেকটা নিয়োগকর্তার ওপর। কুয়েতে ৬৫ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই তারা নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধ খেয়েছেন।
মনমোহন কার্ডিয়াক সেন্টারের একজন নেপালি চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে গবেষণা প্রতিবেদনে বলেছেন, সময়মতো স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারলে অনেক মৃত্যু প্রতিরোধ করা যাবে।
এর আগে গত বছর প্রকাশিত প্রথম প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে প্রতিবছর গড়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রায় ১০ হাজার কর্মী মারা যান। তাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি মানুষের মৃত্যুর কারণ জানা যায় না। সনদে স্বাভাবিক মৃত্যু ও হৃদরোগ কারণ হিসেবে দেখানো হয়।